রায়গঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিসে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয়নি। মাঝেমধ্যেই খসে পড়ে ছাদের চাঙড়। ফলে যেকোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে উত্তর দিনাজপুর জেলার রেজিস্ট্রি অফিসটি। এমন আশঙ্কার মধ্যেই প্রাণ হাতে করে কর্মীদের কাজ করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দপ্তরে থাকা শৌচাগারগুলির অবস্থাও বেহাল। পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থাও নেই। নানা অব্যবস্থার মধ্যে কাজ করতে হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হেলদোল নেই বলে অভিযোগ। উত্তর দিনাজপুরের জেলা রেজিস্ট্রার সুদর্শন ব্রহ্মচারী জানান, ভবনটি সংস্কারের জন্য অর্থ চেয়ে সেই দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থ অনুমোদন না হওয়ার কারণে ভবনটি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে সেটি স্থানান্তরিত করার প্রক্রিয়া চলছে। লকডাউনের জন্য সেই কাজ কিছুটা থমকে রয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান জানিয়েছেন, রেজিস্ট্রি অফিসে শৌচালয় এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় পূর্ত দপ্তরের বিল্ডিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে জেলা রেজিস্ট্রি অফিস। ত্রিতলবিশিষ্ট এই ভবনটিতে রয়েছে ২৬টি ঘর। রয়েছে রেকর্ড ঘর। জেলার জমি কেনাবেচার যাবতীয় রেকর্ড রয়েছে এখানে। নীচতলায় রয়েছে ছয়টি ঘর। দোতলা ও তিনতলায় রয়েছে ১০টি করে ঘর। প্রতিটি ঘরের অবস্থা বেহাল। রয়েছে ৬টি শৌচালয়। সেগুলিতে অফিসকর্মীরা ঢুকতে পারেন না। বাইরের লোকেদের আলাদা শৌচালয় না থাকায় মাঝেমধ্যে তারাই সেগুলি ব্যবহার করেন। ফলে দুর্গন্ধের মধ্যে অফিসকর্মীদের কাজ করতে হয়। দুজন অস্থাযী সাফাইকর্মী থাকলেও বিল্ডিংয়ে অবস্থা এতটাই বেহাল হয়ে পড়েছে তাঁরাও শৌচালয়গুলিতে ঢুকতে ভয় পান। বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই অফিসে। বিল্ডিংয়ে তৃতীয় তলে রয়েছে ডিআইজিআর-এর অফিস। দুই জেলার জমির ভ্যালুয়েশনের জন্য এই অফিসটি। কিন্ত এই অফিসে কোনও আধিকারিক ও কর্মী নেই। নামেমাত্র অফিসটি রয়েছে। কাজ না হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ এসে ফিরে যান। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে অতিরিক্ত জেলা সাব রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রি অফিস। দুটি দপ্তরে আধিকারিক সহ ১৫ জন স্টাফ রয়েছেন।

- Advertisement -

নীচতলায় রয়েছে জেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিস। তিন দপ্তরে ২৮ জন কর্মীর মধ্যে বেশ কয়েকজন রয়েছেন মহিলা কর্মী। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই তিন দপ্তরে বিভিন্ন কাজ নিয়ে আসেন। অফিসের বেহাল দশার জন্য তাদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। এক অফিসকর্মী সন্ধ্যা রায় দত্ত বলেন, আমাদের ভবনে যে শৌচালয় রয়েছে সেটি ব্যবহার করা যায় না। দুর্গন্ধের মধ্যে আমাদের কাজ করতে হয়। বিল্ডিংয়ে অবস্থা বেহাল। ইসলামপুরের কানকি থেকে আসা বিপ্লব সরকার জানান, জমি রেজিস্ট্রির জন্য এখানে এসেছি। কিন্তু এখানে নেই কোনও শৌচালয় বা পানীয় জল। এমনকি কোনও বিশ্রামাগার নেই। আমার মতো অনেকেই সমস্যায় পড়েন প্রতিদিন। দলিল লেখক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে শৌচালয়ে জন্য পঞ্চায়েতকে জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। আমাদের সঙ্গে যাঁরা বিভিন্ন কাজ নিয়ে দপ্তরে আসেন, তাঁরাও সমস্যায় পড়েন। কমলাবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রশান্ত দাস জানান, ওই এলাকায় শৌচাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। লকডাউন পরিস্থিতির জন্য কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছে।

উত্তর দিনাজপুরে জেলা রেজিস্ট্রার বলেন, পূর্ত দপ্তরের বিল্ডিংয়ে তিনটি দপ্তর রয়েছে। দীর্ঘদিন ভবনটি বেহাল অবস্থার মধ্যে আছে। আমরা নিজস্ব ভবনের জন্য প্ল্যান ও এস্টিমেট করে ফিনান্সে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু ফিনান্স ওই প্ল্যান ও এস্টিমেট অনুমোদন না দেওয়ায় আবার নতুন করে পাঠানো হয়েছে। ওখানে এক বিঘা জমি আছে। তবে আপাতত কর্ণজোড়ায় তিস্তাপল্লিতে আমাদের দপ্তরকে স্থানান্তরিত করার জন্য প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে। লকডাউনের জন্য কিছুটা দেরি হয়ে গেল। জেলা সাব রেজিস্ট্রার বিভূতিভূষণ মণ্ডল বলেন, বিল্ডিং নিয়ে অনেক দিনের সমস্যা রয়েছে। তবে ডিস্ট্রিক্ট রেজিস্ট্রার অফিসটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখনও হয়নি। শৌচালয় নিয়ে সমস্যা রয়েছে।