শিলিগুড়ি মহকুমার পঞ্চায়েতগুলির কঙ্কালসার চেহারা

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : ভোটের মুখে বিপদ ডাকল সরকারি সমীক্ষা। শিলিগুড়ি মহকুমার গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির কঙ্কালসার চেহারা প্রকট হল রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অ্যাসেসমেন্টে। রাজ্যের বাকি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির সঙ্গে শিলিগুড়ির ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজের মূল্যায়ন করতে চারটি পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা চলেছে জুন-জুলাই মাস ধরে।

আর তাতেই একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্যর্থতা সামনে এসেছে। তবে এই ব্যর্থতার দায় লকডাউন এবং কর্মীসংকটের ওপরই চাপাচ্ছেন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানরা। তবে শিয়রে নির্বাচন থাকায় সমীক্ষার প্রভাব যে ভোটবাক্সে পড়তে পারে তা স্বীকার করে নিচ্ছেন তাঁরা। মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা তৃণমূলের কাজল ঘোষ বলেন, সভাধিপতির নেতত্বেই প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজ হয়। ফলে কোথাও কাজ না হলে সেই ব্যর্থতার দায় বর্তায় সভাধিপতির ওপর। তিনি ঠিকমতো মনিটরিং করতে না পারায় গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি কাজের নিরিখে পিছিয়ে পড়েছে। সভাধিপতি সিপিএমের তাপস সরকার বলেন, অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।

- Advertisement -

রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার হাল জানতে গ্রামোন্নয়ন দপ্তর থেকে যে সমীক্ষা চালানো হয়েছে, তাতে স্পষ্ট হল শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বেহাল ছবি। পরিকল্পনা ও বাজেট, পরিকল্পনা রূপায়ণ ও পরিষেবা প্রদান, হিসেব রক্ষণ, আর্থিক প্রতিবেদন ও অডিট এবং মানুষের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা- এই চারটি পর্যায়ে চালানো হয়েছে সমীক্ষা। সমীক্ষা করার সময় মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল, খারাপ, দুর্বল, মাঝারি এবং ভালো। তাতে শতাংশের নিরিখে ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের প্রাপ্ত নম্বর যথাক্রমে ৩৭.৫, ২২.৭৩, ২০.৪৫ এবং ১৯.৩২ শতাংশ। যদিও সমীক্ষা রিপোর্টে রাজ্যের সামগ্রিক রিপোর্টের চেয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এলাকা সামান্য ওপরে রয়েছে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে ভোট থাকায় ভাবাচ্ছে সিপিএম এবং তৃণমূলকে। কেননা, ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে রয়েছে। আবার মহকুমা পরিষদ রয়েছে সিপিএমের হাতে।

তবে এই ব্যর্থতার জন্য লকডাউন এবং কর্মীসংকটকেই তুলে ধরছেন পারফরমেন্স খারাপ থাকা গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির প্রধানরা। যেমন হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জ্যৈষ্ঠমোহন রায় বলেন, আধিকারিকদের বড়ই অভাব। প্রত্যেক আধিকারিককে দুটি বা তার বেশি দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। যিনি সহায়ক, তিনিই সচিব। ফলে তাঁরা কোনও কাজই ঠিকমতো করতে পারছেন না। আধিকারিক, কর্মীর অভাবে ঠিকমতো কাজ হচ্ছে না অভিযোগ তুলে মাটিগাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস বলেন, মাসের পর মাস লকডাউন চলেছে। ফলে অনেক কাজই আমরা করতে পারিনি। যার জন্য টাকা পড়ে থাকায় নম্বর কম পাওয়া গিয়েছে। চটহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমন টোপ্পো বলেন, লকডাউনের জন্য ঠিকমতো টেন্ডার হয়নি। ফলে অনেক কাজও আটকে আছে। কিন্তু আমরা দুই-একদিনের মধ্যে সমস্ত টেন্ডার করে ফেলব।