মানিকগঞ্জ : জলপাইগুড়ি-হলদিবাড়ি রাজ্য সড়কের মাঝে সিপাইপাড়া সংলগ্ন পাঙ্গা নদীর সেতু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ওই সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন হতে পারে হলদিবাড়ি ও জলপাইগুড়ি। সম্প্রতি সেতুটি পরীক্ষা করে দুর্বল বলে ঘোষণা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে সেতুর দুই প্রান্তে লোহার তৈরি ওভারহেড ব্যারিয়ার দেওয়ার কাজ শুরু করেছে পূর্ত দপ্তর। আর এতেই সমস্যায় পড়েছে ব্যবসায়ী, ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু করে পূর্ত দপ্তরও। সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ হলে মুখ থুবড়ে পড়বে এলাকার একাধিক উন্নয়নের কাজ। ব্যাহত হবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প জয়ী সেতুর কাজ। কারণ এই সেতু দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের মালপত্র নিয়ে আসা হয়। ব্যবসায়ীদের মালও এই সেতুর উপর দিয়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেয়। তাই হলদিবাড়ি ব্লক সহ স্থানীয় বাসিন্দারা সেতুটি দ্রুত সংস্কারের দাবি তুলেছেন। জলপাইগুড়ি পূর্ত দপ্তরের তরফে সেতু সংস্কারের আশ্বাস মিলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ রায় বলেন, এলাকা যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ। এই সেতু ব্যবহার করে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ বাসিন্দা বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেন। বর্তমানে এই সেতু জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অপর বাসিন্দা পাপ্পু রহমান বলেন, ১৯৬৮ সালে এই এলাকায় বন্যা হয়। তারপরেই এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তারপর আর সেটি তেমন সংস্কার হয়নি। সেতুর বিভিন্ন অংশ থেকে প্লাস্টার খসে পড়েছে। সেতুর নীচের অংশের সঙ্গে পিলারের সংযোগ স্থানের প্লাস্টার খসে পড়েছে। ফাটল দেখা দিয়েছে। ভেতরে থাকা লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ভুট্টা রাউথ জানান, হলদিবাড়ি ব্লকের তিস্তা নদীর উপর জয়ী সেতু ও হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেললাইন পুনরায় চালুর কাজ চলছে। এই সড়কের ওপর দিয়ে মালপত্র নিয়ে আসা হয়। সেকারণেই সেতুটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। হলদিবাড়ি ভেজিটেবল লোডার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েনের সম্পাদক দিগ্বিজয় সরকার বলেন, সামনেই টম্যাটো ও লংকার মরশুম শুরু হবে। সেসময় মালবোঝাই ট্রাক এই সড়ক দিয়ে ভিনরাজ্যে যায়। সেতুটি বেহাল হয়ে থাকলে ব্যবসায় সমূহ ক্ষতি হবে।

হলদিবাড়ি পূর্ত দপ্তরের তিস্তা ব্রিজ কনস্ট্রাকশন ডিভিশনের এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রাজেশ সিংহ বলেন, পাঙ্গা নদীর সেতুর ডাইভারশন তৈরি না করেই দুই প্রান্তে ওভারহেড ব্যারিয়ার বসানো হলে সমস্যা তৈরি হবে। বর্তমানে বেলতলির জয়ী সেতুর পাশাপাশি হলদিবাড়ি ব্লকে ছিটমহল বিনিময়ে আর্থিক প্রকল্পের একাধিক কাজ চলছে। সেই কাজের জন্য ভিনরাজ্য থেকে ওই সড়কপথে ডাম্পারের সাহায্যে মাল আনতে হচ্ছে। ওভারহেড ব্যারিয়ার বসানো হলে ডাম্পার চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সমস্যা হবে। অথচ দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জলপাইগুড়ি পূর্ত দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মৃন্ময় দেবনাথ বলেন, ওই সেতুটি দুর্বল ঘোষণা করা হয়েছে। সাড়ে তিন মিটারের বেশি উঁচু যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সঙ্গে সেটি সারাইয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।