খাঁড়িপাড়ায় খাটিয়ায় চেপে হাসপাতালে যান রোগীরা

258

বুনিয়াদপুর : বছর তিনেক আগে মঞ্চ বেঁধে উদ্বোধন করা হয়েছিল পাকা রাস্তার কাজ। আশায় বুক বেঁধেছিলেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু উদ্বোধনই সার। আজও কাঁচা রাস্তা পাকা হয়নি। বরং উলটে সেই রাস্তা পরিণত হয়েছে খানাখন্দে। বর্ষায় সেই রাস্তা দিয়ে চলাচল এখন আতঙ্কের। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় খাটিয়া চাপিয়ে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বংশীহারীর গাঙ্গুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের খাঁড়িপাড়ায়।

এই খাঁড়িপাড়া গ্রামে মূলত নিম্নবিত্ত মানুষের বাস। বুনিয়াদপুর থেকে বাগদুয়ার সড়ক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার হেঁটে গেলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে টাঙ্গন নদীর ধারে অবস্থিত খাঁড়িপাড়া গ্রামে। এই রাস্তার অবস্থাটি চরম বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এই গ্রামের মানুষজন শ্রমজীবী। রাস্তার বেহাল দশার জন্য গ্রামে ঢোকে না কোনো গাড়ি। ফলে পায়ে হেঁটে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল ছাড়া আর কোনো গতি নেই মানুষের। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।

এলাকার বাসিন্দা ছোটু চৌধুরি, শিবচরণ রায়, স্বর্ণলতা রায়, সবিতা রায়রা বলেন, পাকা রাস্তা থেকে আমাদের গ্রামে ঢোকার কাঁচা রাস্তাটির অবস্থা বেহাল। এই জন্য কোনো যানবাহন গ্রামে ঢোকে না। একটু বৃষ্টি হলেই খানাখন্দে ভরা রাস্তা নরকের চেহারা ধারণ করে। কোনো অসুস্থ লোককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়লে আধ কিলোমিটার খাটিয়ায় চাপিয়ে পাকা রাস্তায় পৌঁছে গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্সে ওঠাতে হয়। রাস্তাটি পাকা করার জন্য বহুবার দাবি জানানো হয়। এরপর ২০১৬ সাল নাগাদ রাস্তাটি পাকা করার ছাড়পত্র পায়। মহাত্মা গান্ধি জাতীয় গ্রামীণ কর্ম নিশ্চয়তা প্রকল্পের অধীন ২১ লক্ষ ৯১৯ টাকা ধার্য হয়। গ্রামে ঢাকঢোল পিটিয়ে তৎকালীন প্রধান পাঞ্জাব চৌধুরি এবং অন্য সরকারি আধিকারিকদের উপস্থিতিতে পাকা রাস্তার শিলান্যাস করেন তৎকালীন বিডিও অতুলকৃষ্ণ অধিকারী। রাস্তার শিলান্যাসের পর বহু আশায় বুক বেঁধেছিলাম। ভেবেছিলাম এবার রাস্তাটি পাকা হবে। কিন্তু কাজ এখনও হয়নি। রাস্তার কাজ কোনো এক অজ্ঞাত কারণে শুরুই হল না। আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি আজও। আজ অবধি জানতে পারলাম না কেন রাস্তা পাকা করার কাজ বন্ধ হয়ে গেল? রাস্তা পাকা করার জন্য টাকা বরাদ্দ হয়ে গেলেও কেন রাস্তার কাজ শুরু হল না।

এই প্রসঙ্গে বর্তমান প্রধান ভুপাল ঠাকুর বলেন, আগের প্রধানের আমলে টাকা বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও কেন খাঁড়িপাড়া গ্রামের রাস্তাটি পাকা করা হয়নি, তা বলতে পারব না। তবে ওই রাস্তা নির্মাণের জন্য সম্প্রতি টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যেই অতি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির নির্মাণকাজ শুরু হবে।