দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : জায়গায় জায়গায় উঠে গিয়েছে পিচ আর তাতেই বেরিয়ে এসেছে রাস্তার কঙ্কালসার চেহারা। দুর্ঘটনা ঘটা যেন সেখানকার নিত্যদিনের ঘটনা। এনিয়ে স্থানীয় মানুষজন ও পথচারীরা বারবার আবেদন-নিবেদন করলেও, গোটা বিষয়টি থেকে কার্যত মুখ ফিরিয়ে রয়েছে প্রশাসন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, রায়গঞ্জ ব্লকের ৬ নম্বর রামপুর অঞ্চলের মহারাজা মোড় থেকে ৭ নম্বর শীতগ্রামের পানিশালা পর্যন্ত ৫ কিমি রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। বারবার সংস্কারের দাবি জানিয়ে কোনো কাজ হয়নি।

অথচ এই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে বহু মানুষ যাতায়াত করে। ফলে প্রায় দিনই কেউ না কেউ দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে। এমনকি মহারাজাহাট ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীদের নিয়ে য়েতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। রাস্তা বেহাল থাকায় সমস্যায় পড়ছে রামপুর, শীতগ্রাম ও মহারাজাহাট হাইস্কুলের অধিকাংশ পড়ুয়াই। পাশাপাশি প্রতি মঙ্গলবার মহারাজাহাটে যাওয়ার জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করেন ক্রেতা- বিক্রেতারা। অথচ এমন বেহাল রাস্তার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা কেউই হাটে আসতে চান না বলে দাবি ব্যবসায়ী সমিতির। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল হয়ে রয়েছে। অনেক জায়গায় পিচ উঠে বড়ো বড়ো গর্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে। আর সেই গর্তগুলিই এখন তৈরি হয়েছে মরণফাঁদে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে আমাদের। বর্ষাকালে সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার নেয়।

এলাকার এক বাসিন্দা উপেন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, বেহাল রাস্তা মেরামতের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও প্রধানকে অনেকবার বলছি। কিন্তু তাঁরা কেবল হচ্ছে-হবে বলে আমাদের সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে দিচ্ছেন। মাঝেমধ্যেই এখানে গাড়ি উলটে যাচ্ছে। বর্ষার সময় সেই সমস্যাটা আরও বেশি হয়। আরেক বাসিন্দা সাজেদা খাতুন বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিন্তু কেউই রাস্তা সংস্কারের জন্য উদ্যোগী হচ্ছে না। পানিশালার বাসিন্দা শিক্ষক খলিলুদ্দিন সরকার বলেন, পানিশালা মোড় থেকে মহারাজা পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতকে বলা হয়েছে। কেন কাজ হচ্ছে না বুঝতে পারছি না। মহারাজাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক ছোটন চট্টোপাধ্যায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল হয়ে থাকায় ব্যবসার খুবই ক্ষতি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মহারাজা হাটে সামগ্রী নিয়ে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি রাস্তা বেহালের জন্য দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবও বেড়ে গিয়েছে। অবিলম্বে রাস্তাটি মেরামতি করা দরকার।

তবে মহারাজা থেকে পানিশালা পর্যন্ত বেহাল রাস্তার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নবকান্ত বর্মন। এবিষয়ে তিনি বলেন, ২০২০-২০২১ আর্থিক বর্ষে পানিশালা মোড় থেকে মহারাজা মোড় পর্যন্ত রাস্তার কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হবে। ইতিমধ্যে জেলাপরিষদ এই অঞ্চলে বালিয়ারা থেকে পোকম্বা এবং তেতুঁলতলা থেকে মহারাজা পর্যন্ত রাস্তার কাজ শুরু করেছে।