গর্তে ভরেছে ১১ কোটির রাস্তা, প্রাণ হাতে যাতায়াত

শিলিগুড়ি : ১১ কোটির রাস্তা এখন মরনফাঁদ। চম্পাসারি মোড় থেকে মিলন মোড় পর্যন্ত রাস্তার প্রায় চার কিলোমিটার এখন শুধু গর্তে ভরে গিয়েছে। আট বছর ধরে বিপদের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে সারাদিনে ছোট-বড় মিলিয়ে হাজারেরও বেশি গাড়ি যাতায়াত করছে। গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। যাত্রী নিয়ে টোটো উলটে যাওয়া নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা আরও দুর্ঘটনাপ্রবণ হলেও আশ্বাস ছাড়া কিছুই হয়নি। মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচতে স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার পথ অবরোধও করেছেন। প্রতিবছর পুজোর আগে হাতে গোনা কিছুদিনের জন্য গর্তগুলি অস্থায়ীভাবে বোজানোর পরিবর্তে স্থায়ীভাবে এই রাস্তার সংস্কারের দিন গুনছেন এলাকার ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

নয় বছর আগের ঘটনা। এসজেডিএর উদ্যোগে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিলন মোড় থেকে চম্পাসারি মোড় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের বোর্ড লাগানোর পর আশায় বুক বেঁধেছিলেন এই রাস্তার ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ। ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে গুলমা স্টেশন পর্যন্ত যাওয়া চম্পাসারি রোডের এই অংশের সংস্কারও হয়। তবে সে সুখ বেশিদিন টেকেনি। সংস্কারের দুবছরের মধ্যেই রাস্তার ওই চার কিলোমিটার অংশ ভেঙে চৌচির হতে শুরু করে। এরপর থেকে চলছে আশ্বাসের পালা। এর মধ্যেই গর্তগুলি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মাকড়সার জালের মতন ছড়িয়ে থাকা সেই গর্ত এড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে উঠেছে।

- Advertisement -

সম্প্রতি গর্ত এড়াতে গিয়ে যাত্রী সহ টোটো নিয়ে উলটে পড়েছিলেন টোটোচালক অজয় দাস। তিনি বলেন, এই রাস্তাই আমাদের রুজিরুটির মাধ্যম। আট বছর ধরে বিপদকে সঙ্গে করে পেটের টানে এই রাস্তায় যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। গর্ত এড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু অন্য যে কোনও পথ নেই। অজয়ের মতো প্রায় প্রতিদিনই বহু মানুষকে দুর্ঘটনার মুখে পড়তে দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী দোলন রায়। তিনি বলেন, সবসময় রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলে। গর্তগুলি এড়াতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

রাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন প্রশান্ত দাস। তিনি বলেন, প্রতিবছর পুজোর আগে গর্তগুলি অস্থায়ীভাবে বোজানোর জন্য ফেলা পাথর, বালি একদিনেই চারদিকে ছড়িয়ে যায়। রাস্তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। গত আট বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে শুধু আশ্বাসই মিলছে। বাস্তবে দুর্ঘটনা মাথায় করে চলতে হচ্ছে। ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর মুকুল সেনগুপ্ত বলেন, রাস্তার এই পরিস্থিতি নিয়ে আমরা একাধিকবার পূর্ত দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছি। তবে এবারের বর্ষা ভুক্তভোগীদের কাছে শেষ কষ্ট বলে মনে করছি। কারণ পূর্ত দপ্তর ইতিমধ্যেই চার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আশা রাখছি বর্ষা শেষ হলেই রাস্তা সংস্কার শুরু হবে।