পিচ উঠে গর্তে ভরেছে রাস্তা, বৈষ্ণবনগরে নাকাল জনতা

সেনাউল হক, বৈষ্ণবনগর : পিচ উঠে গিয়েছে বহুদিন আগেই। এখন রাস্তা জুড়ে তৈরি হয়েছে ছোটোবড়ো গর্ত। যেকোনো সময় সেই গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু রাস্তার দিকে নজর নেই প্রশাসনের কারও। অগত্যা কঙ্কালসার রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বৈষ্ণবনগরের বীরনগর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের হাজার হাজার মানুষকে।

প্রায় ২০ বছর ধরে এমন অবস্থায় পড়ে রয়েছে বীরনগর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের রামেশ্বরটোলা থেকে রাজনগর বাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তাটি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক থেকে শুরু করে সাংসদ ও জেলাপরিষদ সদস্য, এমনকি প্রশাসনের কাছে রাস্তাটি মেরামতের জন্য বারবার আবেদন-নিবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কেউ রাস্তাটি পাকা করার জন্য এগিয়ে আসেননি। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা মিনা রবিদাসের অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকে রাস্তাটি বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। চলাফেরা করাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোটা রাস্তায় বড়োবড়ো গর্ত। বেশিরভাগ দিন রাস্তায় জল জমে থাকছে। রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।

- Advertisement -

গ্রামবাসী অর্জুনকুমার মণ্ডল বলেন, আমরা সব জায়গায় রাস্তাটি পাকা করার জন্য জানিয়েছি। কিন্তু কেউ এখনও পর্যন্ত এগিয়ে আসেননি। দীর্ঘ ২০ বছর আগে পিচ দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত একবারের জন্যও মেরামত করা হয়নি। ফলে রাস্তা হওয়ার পর দুই-তিন বছর ভালো ছিল। তারপর থেকে রাস্তাটি ভাঙতে শুরু করে। প্রতিদিন ছোটো-বড়ো বহু গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। এখন পিচের কোনো চিহ্নই প্রায় নেই। শুধু পাথরের টুকরা দেখা যাচ্ছে। ফলে হেঁটে চলাফেরা করতেও অসুবিধা হচ্ছে। অনেকেই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে পড়ে জখম হচ্ছেন। এই এলাকা থেকে প্রচুর মৎস্যজীবী প্রতিদিন ভোরে গঙ্গারঘাটে যান মাছের ব্যবসার জন্য। সেসময় অন্ধকারে তাঁরা অনেকেই আছাড় খেয়ে পড়ছেন।

এই রাস্তার ধারে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্কুল। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আসতেও অসুবিধা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু দাস বলেন, ১৬ মাইল স্ট্যান্ড থেকে রাজনগর বাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন থেকেই বেহাল হয়ে রয়েছে। বর্ষার সময় স্কুলের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই অসুবিধার মধ্যে পড়েন। সাইকেল বা মোটর সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করাও কষ্টকর। কারণ, রাস্তা খানাখন্দে ভরতি হয়ে গিয়েছে। তার ওপর গোটা রাস্তায় পাথরের টুকরা আরো দুর্বিষহ করে তুলেছে। কিন্তু প্রশাসনের ঘুম ভাঙছে না। এরকম চলতে থাকলে এলাকার সবাই মিলে জাতীয় সড়কে অবরোধ করতে বাধ্য হব।

ওই এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য জগাই ঘোষ বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষে ওই রাস্তা সংস্কার করা সম্ভব নয়। আমরা বিধায়ক ও সাংসদকে জানিয়েছি। প্রশাসনকেও লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। আমরা চাই রাস্তাটি শীঘ্রই পাকা করা হোক। এলাকার বাসিন্দা জিয়াউল শেখ বলেন, প্রায় পাঁচ বছর হতে চলেছে। কিন্তু এই রাস্তায় একডালি মাটিও ফেলার চেষ্টা করেননি বিধায়ক স্বাধীন সরকার। বিধায়ক কোটার টাকা থেকে একবারে না পারলেও ভাগ করে যদি কাজ করতেন, ভালো হত। তাহলে মানুষের এত অসুবিধা হত না।

বিধায়ক স্বাধীন সরকার বলেন, আমি বছরে ৬০ লক্ষ টাকা পাই। কিন্তু ওই রাস্তাটি পাকা করতে গেলে প্রায় চার কোটি টাকার মতো খরচ হবে। তাছাড়া এলাকার বাসিন্দারা কিছুদিন আগে সাংসদকে নিয়ে এসেছিলেন। আমি জেনেছি, সাংসদ নাকি দুই কোটি টাকা ওই রাস্তার জন্য দিতে চেয়েছিলেন। তাই আমরা ওই রাস্তার বিষয়ে আর এগোইনি। বিডিও গৌতম দত্ত বলেন, ওই রাস্তার জন্য গ্রামের মানুষজন আমার কাছে একটি আবেদন করেছেন। কিন্তু এত বড়ো রাস্তার কাজ আমাদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। গ্রামবাসীরা যে আবেদনটি করেছেন, আমি সেটা জেলা প্রশাসনিক দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছি।