মালবাজার : দুর্গাপুজোর আর বেশি দেরি নেই। দুর্গাপুজোর সময় ডুয়ার্স লাগোয়া পাহাড়ি এলাকাগুলিতে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের আশা করছে সমস্ত মহল। পুজোর ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে উপচে পড়া বুকিং আছে।

পর্যটন নিয়ে যখন এমন আশার আলো দেখা যায় তখন বেশ কিছু রাস্তার একেবারে বেহাল দশায় চিন্তার মেঘ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। গরুবাথান থেকে লাভাগামী রাস্তা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পুজোর আগেই কাজ শেষ করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, গরুবাথান থেকে চেল নদী হয়ে ঝান্ডিগামী পথ বেহাল হয়ে রয়েছে। প্রশাসনিক উদ্যোগে সাড়া না পেয়ে সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই রাস্তা যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত করতে শ্রমদান করেন। তবুও বেহাল দশা জন্য গাড়িচালকরা ওই রাস্তা ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করছেন। প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেও দুশ্চিন্তা কমেনি।

মাল মহকুমা লাগোয়া কালিম্পং জেলাতে প্রচুর পর্যটনকেন্দ্র আছে। সেসব জায়গায় গোটাবছরই প্রায় পর্যটকের আনাগোনা লেগে থাকে। তবে, পুজোর ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ে। এবারও ভালো বুকিং আছে। এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বৃষ্টি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের বিভিন্ন রুটের রাস্তা বেহাল হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে রাস্তাগুলো সংস্কার করা না হলে পুজোর পর্যটন মার খেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। গরুবাথান ব্লকের ঝান্ডিকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের গ্রামীণ পর্যটন দারুণ বিকাশ লাভ করেছে। হোমস্টে সহ অন্যান্য পর্যটনেরও প্রসার ঘটেছে। ঝান্ডির পাশাপাশি সুনতালে, লুঙসেল, শেরপাগাঁও, দূরখোলা ইত্যাদি এলাকার বাসিন্দারা পর্যটনে উৎসাহ দেখাচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাস্তার দশা।

সাম্প্রতিক প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তার পিচের চাদর উঠে গিয়েছে। বড়ো বড়ো পাথুরে রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল কার্যত অসাধ্য হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে গত রবিবার স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার রাস্তা সংস্কার করতে উদ্যোগী হয়ে শ্রমদান করেন। তবে, রাস্তার বেহাল দশার সেভাবে উন্নতি ঘটানো যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা তথা পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত সরোজ ছেত্রী, হিরণ ছেত্রী, রমেশ ছেত্রী, পাসাং দোরজে শেরপা, ফিরোজ মুখিয়া, রাজেন রাইরা কার্যত মুষড়ে পড়েছেন। তাঁরা জানান, আমাদের এলাকায় পর্যটকরা প্রধানত গরুবাথান, চেল নদী হয়ে আসেন। এই এলাকার রাস্তার যা দশা তা খুবই উদ্বেগজনক। ফলে পর্যটকদের লাভাগামী রাস্তা ব্যবহার করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যার জন্য দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে। আমরা দারুণ সমস্যায়া পড়েছি। আমরা চাই পুজোর আগে রাস্তা সংস্কার করা হোক।

অন্যদিকে, গরুবাথান থেকে অম্বিয়ক, পাপরখেতি হয়ে রাস্তার আমূল সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই রাস্তাটি লাভা হয়ে কালিম্পং পর্যন্ত গিয়েছে। কুয়াপানি পেরিয়ে রাস্তার দশা ভালো নয়। বর্ষার মধ্যে দ্রুতগতিতে রাস্তা সংস্কারের কাজও করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক এলাকায় জল জমে রাস্তা পিছল, কর্দমাক্ত হয়েছে। কিছু স্থানে জল জমে পাহাড়ি রাস্তা পুকুরের আকার নিয়েছে। পাহাড়ের ধস প্রবণতা সমস্যা বাড়িয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় সমস্ত মহল। লাভায় পর্যটক আবাস পরিচালনা করেন সুরজিৎ পাত্র। সুরজিৎবাবু বলেন, এখনও ভালো সংখ্যক পর্যটক আসছেন। পুজোর সময় দারুণ বুকিং আছে। আমরা চাইছি রাস্তা সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করা হোক। পর্যটনের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড টুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের উপদেষ্টা রাজ বসু বলেন, আমরা সম্প্রতি মাল শহরে পশ্চিম ডুয়ার্সের পর্যটন উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক করেছি। রাস্তার খারাপ দশা নিয়ে যে সমস্ত তথ্য উঠে এসেছে আমরা তা প্রশাসনিক মহলে জানাব। প্রশাসনিক মহলের কাছে তা দ্রুত সংস্কারের আর্জি রাখব। আশা করা যায় পুজোর আগে সমস্যা অনেকটাই মেটানো যাবে।

গরুবাথান ব্লকের বিডিও বিশ্বরঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, বর্ষার জন্য রাস্তা সংস্কারের কাজ ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ে এখনও বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের কাজ করা হবে। পাহাড়ে এলাকা অনুযায়ী রাস্তাগুলি বিভিন্ন দপ্তরের অধীনে আছে। আমরা সেই সমস্ত দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করা যাচ্ছে রাস্তাগুলি সংস্কার করার কাজ দ্রুত শেষ হবে।