সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া : আট বছর সময়টা বড়ো একটা কম নয়। অথচ এই সময়ের মধ্যে ফাঁসিদেওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজবাড়ি এলাকায় পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তা একবারের জন্যও সংস্কার করা হয়নি। রাস্তায় একসময় পিচ ছিল বটে। কিন্তু বর্তমানে পিচের চাদর উঠে রয়েছে শুধুই পাথর আর মাটি।

সেই মাটিতে ঘাস গজিয়েছে। বৃষ্টিতে রাস্তায জল জমে সেই ঘাসের বাড়বাড়ন্ত। সেই ঘাস খাওয়াতে অনেকে রাস্তায় তাঁদের গোরু বেঁধে রাখেন। এর জেরে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। রাস্তাটি এভাবে বেহাল হওয়ায় এর উপর নির্ভরশীল নিজবাড়ি, হ্যাচারি মোড় সহ সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। দ্রুত সমস্যা মেটানোর দাবিতে তাঁরা সরব হয়েছেন। নইলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। ফাঁসিদেওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শাহানারা বেগম বলেন, আমাদের টাকায় এই রাস্তা সংস্কার সম্ভব নয়। সমস্যা মেটানোর জন্য আমরা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ও শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)-কে জানিয়েছি। এলাকায় রাস্তাটির ভৃমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সদস্য আইনুল হক বলেন, সমস্যা মেটাতে দ্রুত পদক্ষেপের চেষ্টা হচ্ছে।

ফাঁসিদেওয়া ব্লকের নিজবাড়ি যাতায়াতে একাধিক রাস্তা রয়েছে। পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ধ্যের রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াতে অনেকটা কম সময় লাগলেও এটি বেহাল হয়ে পড়ায় বাসিন্দারা বর্তমানে অনেকটাই ঘুরপথে যাওয়া-আসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। এলাকায় একটি বটলিফ ফ্যাক্টরি রয়েছে। যাতায়াতে কম সময় লাগায় এই কারখানার শ্রমিকরা অবশ্য বেহাল রাস্তাটি ব্যবহারেই বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু আট বছরে দিনকে দিন বেহাল হয়ে রাস্তাটি এই শ্রমিকদের কাছে তো বটেই সংলগ্ন এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার বাসিন্দার কাছে বড়োসড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাটিতে ঘাস গজিয়েছে। সেই ঘাস খাওয়াতে অনেকে রাস্তার উপরই তাঁদের গোরু বেঁধে রাখেন। এর জেরে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছড়িয়েছে। এছাড়া, রাস্তাটিতে কোনো আলোর ব্যবস্থা নেই। এর জেরে রাতে চলাফেরা করতে গিয়ে অনেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সমস্যার বিষয়ে জানা থাকা সত্ত্বেও তা মেটাতে প্রশাসনের কোনো হেলদোলই নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা নীলু বর্মন, হরিপদ সিংহ, রূপেশ খালকো প্রমুখের অভিযোগ, আট বছর হল রাস্তাটি বেহাল হয়ে থাকলেও এটি সংস্কারে একটিবারের জন্যও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নতুনভাবে রাস্তাও তৈরি করা হচ্ছে না। এর জেরে অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন। বর্ষার মরশুমে তাঁদের ভোগান্তি চরমে উঠছে। দ্রুত সমস্যা না মেটানো হলে হরিপদবাবুরা বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।