স্কুলমাঠ যেন জলা জমি, পাঁচ বছরেও হাল ফেরেনি

মুরতুজ আলম, চাঁচল : মাঠ দেখলে মনেই হবে না এখানে কখনও স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা খেলাধুলো করত। শরীরচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানও হত এই মাঠেই। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারির অভাবে চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশনের মাঠটি এখন জলা জমিতে পরিণত হয়েছে। সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়ায় রাতবিরেতে মাঠের মধ্যে নেশার ঠেকও বসাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। ঐতিহ্যবাহী স্কুলের মাঠের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ জমেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

চাঁচলের সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশনের নিজস্ব খেলার মাঠটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধুঁকছে। বর্তমানে মাঠটিতে টানা ছয়মাস ধরে বৃষ্টির জল জমে রয়েছে। সীমানা প্রাচীরও নেই। ফলে ক্রীড়াপ্রেমীদের পাশাপাশি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও মাঠটির সংস্কারের জন্য সরব হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সৌমেন্দ্র প্রামাণিক জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে মাঠটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মাঠের মধ্যে সিমেন্ট, বালি, পাথর জমা করে রাখা হয়। পাশাপাশি রাতে চলে অসামাজিক কাজকর্ম। মাঠে দীর্ঘদিন জল জমে থাকলেও কোনও সংস্কার করা হচ্ছে না। মাঠটি প্রশাসনিক উদ্যোগে সংস্কার হওয়া খুব দরকার। আরেক বাসিন্দা মহম্মদ আলাউদ্দিন জানান, সিদ্ধেশ্বরী স্কুল মাঠটি চাঁচলের বাসিন্দাদের প্রাণকেন্দ্র ছিল। একসময় এই মাঠে শরীরচর্চা, খেলাধুলো করতে ভিড় জমাতেন বাসিন্দারা। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন মাঠটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক।

- Advertisement -

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসরারুল হক জানান, স্কুলের এই মাঠে ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলো ছাড়াও সমস্ত সরকারি মেলা, অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু বর্তমানে মাঠটিতে গোড়ালি সমান জল জমে রয়েছে। মাঠের উত্তর ও দক্ষিণদিকে নেই সীমানা প্রাচীরও। মাটি ও সীমানা পাঁচিলের জন্য বিডিও ও পঞ্চায়েতে একাধিকবার জানানো হলেও কোনও কাজ হয়নি। বছর খানেক আগে স্কুলের এক সরকারি অনুষ্ঠানে এসে জেলা সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল সীমানা প্রাচীর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও তা হল না। জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, জেলা পরিষদের সভাধিপতির সঙ্গে কথা বলে খুব শীঘ্রই ওই স্কুল মাঠের প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। চাঁচল-১ ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিক সমীরণ ভট্টাচার্য বলেন, মাঠের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য স্কিম তৈরি করে প্রস্তাব পাঠানো বয়েছে। বরাদ্দ মিললে কাজ চালু করা হবে।