সংস্কারের ১ বছরেই বেহাল রাজ্য সড়ক

দেওয়ানহাট : সংস্কারের পর বছর ঘোরেনি। এর মধ্যেই বলরামপুর-দিনহাটা রাজ্য সড়কের বেশ কিছু অংশ ফের বেহাল হয়ে পড়েছে। যার জেরে যাতায়াতে সমস্যায় পড়ছেন বাসিন্দারা। দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে। সংস্কারের পর এত তাড়াতাড়ি রাস্তা বেহাল হওয়ায় কাজের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অতি দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তুফানগঞ্জ মহকুমার বলরামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ত্রিরঙ্গি থেকে দিনহাটা শহর পর্যন্ত বিস্তৃত ২২ কিমি এই রাজ্য সড়ক জেলার পরিবহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা নিম্ন অসম, তুফানগঞ্জ, দিনহাটা, কোচবিহার সদর মহকুমার একাংশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করে তুলেছে। এই বিস্তীর্ণ এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই রাস্তার উপর নির্ভরশীল। ২০১৬ সালে কালজানি নদীর উপর সেতু তৈরি হওয়ায় এই রাস্তার ব্যস্ততা ও গুরুত্ব কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। কোচবিহার শহরকে এড়িয়ে এই পথে তুফানগঞ্জ ও দিনহাটা মহকুমার মধ্যে যাতায়াতে দূরত্ব অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি সময় ও খরচ দুই-ই বাঁচে বাসিন্দাদের। ছাত্রছাত্রী, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রচুর যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি চলে এই রাস্তায়। এহেন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেশ কিছু জায়গায় পিচের আস্তরণ উঠে একাধিক খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেগুলিতে জল জমে থাকছে। ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

- Advertisement -

দিনহাটা মহকুমার বুড়িরহাট এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত রায় নিত্যদিন এই রাস্তা দিয়ে তুফানগঞ্জে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেই রাস্তা সংস্কার হল। ইতিমধ্যে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। যে কোনও সময় ওইসব অংশে দুর্ঘটনা হতে পারে। চেকাডরা এলাকার বাসিন্দা পাপন দেব বলেন, সংস্কারের পর এত তাড়াতাড়ি রাস্তা খারাপ হওয়ার কথা নয়। গুণমান বজায় না রেখে কাজ করার ফলেই এমনটা হয়েছে। এভাবে সরকারি অর্থের অপচয় মানা যায় না। দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বলরামপুর-দিনহাটা রাজ্য সড়কের বেহাল দশা প্রসঙ্গে পূর্ত (সড়ক) দপ্তরের কোচবিহার ডিভিশনের নির্বাহী বাস্তুকার জ্যোতির্ময় মজুমদার বলেন, ওই সড়কের পুরো অংশ সংস্কার হয়নি। এখনও কাজ বাকি রয়েছে। কিছু অংশে পিচের আস্তরণ ওঠার বিষয়টি জানি। বৃষ্টি কমলে ফের সংস্কার শুরু হবে।