স্ট্রেচার-ট্রলির হাল দেখে উঠতে চান না সরকারি হাসপাতালের রোগীরা

335

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : প্রতি বছর উত্তরবঙ্গের হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু সরকারি হাসপাতালগুলিতে ঝাঁ-চকচকে বিল্ডিং তৈরি হলেও রোগীদের এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া বা অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে এমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে স্ট্রেচার, ট্রলি বা হুইলচেয়ার ব্যবহার করা হয় সেগুলির  হাল ভয়াবহ। যেকোনো সময় সেগুলি ভেঙে পড়লে রোগীরা গুরুতর জখম হতে পারেন। গত বুধবার শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের অফিস সচিব অলোক কুণ্ডুর মৃত্যুর পর এনিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে শহরে। একটা স্ট্রেচার বা হুইলচেয়ার ভেঙে গেলে তার বদলে নতুন কেনার কেন ব্যবস্থা থাকবে না, কেন ভাঙা হুইলচেয়ার বা স্ট্রেচার ব্যবহারে বাধ্য করা হবে, রোগীদের পরিজনরা এই প্রশ্ন তুলছেন।

অলোক কুণ্ডুর মৃত্যুর পর অভিযোগ ওঠে, য়ে স্ট্রেচারে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেটির একটা চাকা ভাঙা থাকার কারণে তা উলটে অলোকবাবু মেঝেতে পড়ে যান। এর কিছুক্ষণ পরেই চিকিত্সকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযোগ ওঠে, স্ট্রেচার থেকে পড়ে যাওয়ার ফলেই অলোকবাবুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এমন ঘটনার পরেও শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে গিয়ে বৃহস্পতিবার দেখা গেল, যে সব হুইলচেয়ারে করে রোগীদের নিয়ে য়াওয়া হচ্ছে তার অধিকাংশই ভাঙা। কোনোটার চাকা ভাঙা, কোনোটার হাতল ঠিক নেই, কতগুলি এতটাই ছেঁড়া ও নোংরা যে বসতে চান না রোগীরা। হাসপাতালে চিকিত্সা করাতে আসা হাতিয়াডাঙ্গার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মনোতোষ শীলের বক্তব্য, গরিবদের তো এসব মেনে নিতেই হবে। কারণ নেতা-মন্ত্রীরা তো আর হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য আসেন না। তাছাড়া এলেও তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। তাই তাঁরা এসব সমস্যা বুঝবেন না। প্রায় একই অভিযোগ, ঘোগোমালির মণিকা সরকারের। অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে তিনি হাসপাতালে এসেছিলেন চিকিত্সা করাতে। তাঁর বক্তব্য, এই পাই, এটাই আমাদের কাছে অনেক। অনেক সময় তো হুইলচেয়ার, স্ট্রেচার, ট্রলি পাওয়া যায় না। এমন অভিযোগ অনেকেরই। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যেসব হুইলচেয়ার খারাপ অবস্থায় রয়েছে, সেগুলিকে কেন ব্যবহার করছে হাসপাতালের কর্মীরা। ফের য়দি কোনো দুর্ঘটনা হয় তবে তার দায় কে নেবেন?

- Advertisement -

শিলিগুড়ি ওয়েফেয়ার অর্গানাইজেশনের সম্পাদক রূপক দেসরকারের বক্তব্য, মেডিকেল ও হাসপাতালের স্ট্রেচার, হুইলচেয়ার সহজে পাওয়া যায় না। পর্যাপ্ত হুইলচেয়ার, স্ট্রেচার না থাকার কারণে সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। হাসপাতাল, মেডিকেলে অনেক বড়ো বড়ো বিল্ডিং হচ্ছে। ন্যূনতম এই জিনিসগুলি তো ঠিক রাখতে হবে। কিন্তু এটাই হচ্ছে না। সমাজসেবী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ে অভিযোগ, রোগীদের চিকিত্সার জন্য যে পরিকাঠামো রয়েছে, তা ঝাঁ-চকচকে মনে হলেও বেশ কিছু অভাব রয়েছে। ট্রলিগুলির তো অধিকাংশের চাকা ভাঙা। হুইলচেয়ারগুলির অবস্থাও খারাপ।

শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেলের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ডাঃ রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, এদিনই উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের সুপারদের বলা হয়েছে যেসব হুইলচেয়ার, স্ট্রেচার ব্যবহারের অনুপযুক্ত, সেগুলি বাতিল করতে হবে। যেগুলি মেরামত করা সম্ভব সেগুলি অবিলম্বে মেরামত করতে হবে। যদি প্রযোজন হয় নতুন কিনতে হবে। আমি পুরো বিষয়টি দেখার জন্য শুক্রবারই মেডিকেলে যাব।