গাজোলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিপজ্জনক দশা

গৌতম দাস, গাজোল : খোদ স্বাস্থ্যকেন্দ্রেরই বিপজ্জনক অবস্থা। অবস্থা এতটাই খারাপ যে চিকিৎসা করাতে এসে গুরুতর আহত হতে পারেন যে কোনও রোগী। স্বাস্থ্য ভবনটি মেরামতের জন্য বারবার দাবি জানানো হলেও তা নিয়ে এখনও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। ফলে যে কোনও সময় আহত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে এখানে কাজ করে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

বহুদিনের পুরোনো গাজোল গ্রামীণ হাসপাতাল সংলগ্ন এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। আগে এই ভবন থেকেই চিকিৎসার কাজ চলত। পরে নতুন ভবনে গ্রামীণ হাসপাতালের কাজ শুরু হলে এখানে থেকে যায় হোমিয়োপ্যাথি বিভাগ, দন্ত বিভাগ, যক্ষা বিভাগ এবং শিশুদের টিকাকরণ বিভাগ। সম্প্রতি দন্ত বিভাগ এবং হোমিয়োপ্যাথি বিভাগকে এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালের মূল ভবনে। কিন্তু এখনও এখানে রয়ে গিয়েছে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, যক্ষা বিভাগ এবং শিশুদের টিকাকরণ বিভাগ। কিন্তু ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। পোড়োবাড়ির রূপ নিয়েছে। ভবনে গজিয়ে উঠেছে বড় বড় বট-পাকুড় গাছ। দিনের পর দিন সেই গাছগুলির শিকড় ছড়িয়ে পড়ছে গোটা ভবন জুড়ে। হাসপাতালের ছাদে নোনা ধরে যাওয়ায় খসে পড়ছে চাঙড়। এতে যে কোনও সময় এখানে টিকা নিতে আসা শিশু অথবা চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর আহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

- Advertisement -

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পার্থ কুণ্ডু জানালেন, এখানে বসে প্রাণ হাতে নিয়ে কাজ করতে হয়। নিরাপত্তা বলে কিছুই নেই। দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে। মাঝেমধ্যে ছাদের আস্তরণ খসে পড়ছে। খুব ভয়ে ভয়ে কাজ করতে হয় আমাদের। ভবনটি মেরামত করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় আমরা আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু এখনও কোনও কাজ হয়নি। স্বাস্থ্যকর্মী কমলা সরকার বলেন, প্রতি সোম, বুধ এবং শুক্রবার এখানে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু এই ভবনটির অবস্থা খুবই খারাপ। চারিদিক আগাছায় ভরে গিয়েছে। মাঝেমধ্যেই সাপ এবং পোকামাকড় ঢুকে পড়ে। শৌচালয়ে অবস্থাও খুব খারাপ। আমরা আতঙ্কে থাকি। টিকা নিতে আসা শিশুরা যে কোনও সময় আহত হতে পারে। আমাদের দাবি, অবিলম্বে ভবনটি মেরামত করা হোক।

শিশুদের টিকাকরণে আসা অভিভাবকরা জানালেন, তাঁরাও এখানে এসে খুব ভয়ে ভয়ে থাকেন। সপ্তাহে তিনদিন টিকা দিতে শিশুদের নিয়ে আসেন মায়েরা। কিন্তু এখানে ঘরের যা হাল, তা দেখে সব সময় শঙ্কিত থাকেন সবাই। সবসময় মনে হয়, এই বুঝি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে বাড়িটি। টিকা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সবাই। তাঁদের দাবি, শিশুদের টিকাকরণের কাজ এখান থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় করা হোক। তা না হলে যে কোনওদিন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালের সুপার অঞ্জন রায় জানান, ওই ভবনটি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের আওতায় রয়েছে। তবুও আমরা হাসপাতালের তরফে যতটা পারি পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করেছি। পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করব ভবনটি যতটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার। সম্প্রতি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বদলি হয়ে গিয়েছেন। নতুন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক কয়েকদিনের মধ্যেই কাজে যোগ দেবেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।