জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : এখানে রাস্তার মধ্যে গর্ত নাকি গর্তের মধ্যে রাস্তা তা বোঝার জো নেই। বেশিরভাগ পথবাতি জ্বলে না। এই পরিস্থিতিতে যানবাহন চালকরা রীতিমতো ভগবানের নাম জপতে জপতে এই রাস্তায় গাড়ি চালান। জলপাইগুড়িতে তিস্তা সড়কসেতুর এই বেহাল দশার বিষয়টি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) অস্বীকার করেনি। তবে তিস্তার দ্বিতীয় সড়কসেতুর কাজ শেষ না হলে এই সেতুর সংস্কারের কোনও সুযোগ নেই বলে তারা জানিয়েছে। এনএইচএআই-এর প্রোজেক্ট ডিরেক্টর (উত্তরবঙ্গ জোন) প্রদ্যুৎ দাশগুপ্ত বলেন, এলাকায় বর্তমানে মহাসড়ক তৈরির কাজ চলছে। তাই আপাতত তাপ্পি দিয়ে তিস্তার প্রথম সড়কসেতুর সংস্কারের কাজ চালাতে হবে। জুলাই মাসের মধ্যে তিস্তার দ্বিতীয় সড়কসেতু তৈরির কাজ পুরোপুরি শেষ হবে। তখন পুরোপুরিভাবে প্রথম সড়কসেতুটি সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হবে।

২৭ডি জাতীয় সড়কের দুই ধারে গর্তে ভরে গিয়েছে। সময়ে পাশাপাশি গর্তের সংখ্যা বাড়ছে। তিস্তার প্রথম সড়কসেতুর বেহাল অবস্থা পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলেছে। এখানে রোজই যানজট হয়। হলদিবাড়িতে হুজুর সাহেবের মেলার জেরে বর্তমানে এই রাস্তায় প্রচণ্ড চাপ বেড়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা বর্তমানে শুরু হয়েছে। বেহাল সড়কের জন্য পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে এলাকা ঘন কুয়াশায় ছেয়ে থাকছে। রাস্তার বেহাল দশা তো বটেই, কুয়াশার জেরে এখানে গাড়ি চালাতে যানবাহন চালকরা খুবই সমস্যায় পড়ছেন। এ নিয়ে পরিবহণ কর্মীরা ক্ষোভ জানিয়েছেন।

- Advertisement -

সংশ্লিষ্ট সড়ক ও তিস্তা সড়কসেতুর নজরদারির কাজে খামতি রয়েছে বলে বিভিন্ন পরিবহণ কর্মী সংগঠনের নেতৃত্ব অভিযোগ জানিয়েছেন। বর্ষীয়ান পরিবহণ কর্মী ইউনিয়নের নেতা মানিক ঘোষ বলেন, তিস্তা সড়কসেতুর পথবাতিগুলি অধিকাংশ সময় জ্বলে না। তার উপর রাস্তা খানাখন্দে ভর্তি। প্রতিদিন সকালে এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে। গাড়ির আলো জ্বালিয়ে চালকরা কোনওরকমে যানবাহন চালাচ্ছেন। যখন-তখন বড়সড়ো বিপদ হতে পারে। তবে এখন এই সেতুর কাজে হাতে হাত দিলে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে বলে এনএইচএআই জানিয়েছে। তাই দ্বিতীয় সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পরই সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছে।

এদিকে, এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এনএইচএআই-এর ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে। গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক প্রদীপ দের অভিযোগ, সমস্যা মেটানোর জন্য বহুবার এনএইচএআই-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কাজই হয়নি। কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, উত্তরবঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ২৭ডি জাতীয় সড়কের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এই সড়ক সংস্কারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার একেবারেই উদাসীন। ফলে প্রতিদিনই যাত্রীদের নাকাল হতে হচ্ছে। যে কোনও সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।