চা বলয়ে দুই রাস্তা বেহাল, প্রশাসনের কাজে ক্ষোভ

নাগরাকাটা : এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বেহাল হয়ে রয়েছে ডুয়ার্সের চা বলয়ের ভুটান সীমান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি রাস্তা। বর্ষার শুরুতেই রাস্তা দুটি কার্যত পুকুরের আকার ধারণ করেছে। খানাখন্দে ভরা পথে প্রাণ হাতে করে যাতায়াত করতে হচ্ছে সব মিলিয়ে লক্ষাধিক বাসিন্দাকে। বানারহাটের চামুর্চি মোড় থেকে চামুর্চি এবং নাগরাকাটা থেকে চাম্পাগুড়ি হয়ে জিতি সীমান্ত পর্যন্ত ওই দুটি রাস্তাই ১৫টি চা বাগানে পৌঁছানোর একমাত্র পথ। পরিস্থিতি এমনই বাগানগুলিতে তেল, কয়লার গাড়িও এখন রাস্তার বেহাল দশার কারণে যেতে চাইছে না।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে বারবার নানা মহলে যোগাযোগ করেও লাভ হয়নি। এনিয়ে ক্ষোভের পারদ চড়ছে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে। জলপাইগুড়ির জেলা শাসক অভিষেক তিওয়ারি বলেন, দুটি রাস্তাই বর্তমানে বর্ডার রোড অর্গানাইজেশনের হাতে। এর আগে দু-তিনবার তাদের সঙ্গে রাস্তা নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। ফের পদক্ষেপ করা হবে। বানারহাটের চামুর্চি মোড় থেকে চামুর্চি সীমান্ত পর্যন্ত সার্ক রোড নামে পরিচিত রাস্তাটি ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ। ওই পথই ব্যবহার করতে হয় সেখানকার বানারহাট, পলাশবাড়ি, রিয়াবাড়ি, কাঁঠালগুড়ি, নিউ ডুয়ার্স, আমবাড়ি, চামুর্চি ও চুনাভাটির মতো ৮টি চা বাগানকে। রাস্তার পরিস্থিতি সেখানে আরও সঙিন হয়েছে শয়েশয়ে বালি-পাথরবোঝাই ডাম্পারের চলাচলের কারণে। দুর্ঘটনা এখন প্রায় নিত্যদিনের বিষয়। শীতের সময় রাস্তা লাগোয়া চা বাগানগুলি ডলোমাইট মেশা ধুলোয় ঢেকে গিয়েছিল। চর্মরোগ ছড়ানোর অভিযোগও মিলেছিল সেসময়।

- Advertisement -

বর্ষা আসতেই সারা পথজুড়ে তৈরি হওয়া বড় বড় জল ভর্তি গর্তে পড়ে হামেশাই উলটে যাচ্ছে গাড়ি। চা মালিকদের সংগঠন ডিবিআইটিএ-র বিন্নাগুড়ি সাব-ডিস্ট্রিক্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও পলাশবাড়ি চা বাগানের ম্যানেজার জয়ন্ত সান্যাল বলেন, এমন ভয়ংকর রাস্তা এর আগে দেখিনি। বাগানগুলিতে তেল ও কয়লার গাড়ি এখন আর আসতে চাইছে না। তৈরি চা নিলামকেন্দ্রে পাঠাতে গিয়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যাওয়ায় বাগানের গাড়িগুলির ঠাঁই হচ্ছে গ্যারাজে। পরিস্থিতির কথা সবিস্তারে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। ডিবিআইটিএ-র সম্পাদক সঞ্জয় বাগচী বলেন, আমাদের পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিআরও চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল দ্রুত কাজ শুরু হবে। সেদিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছি।

অন্যদিকে, নাগরাকাটা থেকে চাম্পাগুড়ি হয়ে জিতি সীমান্ত পর্যন্ত অন্য রাস্তারটির বেহালদশা। সেটি ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এলাকার কুর্তি, ভগৎপুর, নয়া সাইলি, হিলা, নাগরাকাটা, জিতি ও হোপ- এই ৭ বাগানের বাসিন্দাদের যাতায়াতের পথ। ওই পথ দিয়ে গাড়িতে চেপে স্কুলে যাতায়াত করতে হয় ৩ হাজার পড়ুয়াকে। চাম্পাগুড়ি এলাকার পবন খেরোয়ার নামে এক বাসিন্দা বলেন, ওই রাস্তা দিয়ে কোথাও যেতে হবে শুনলেই গায়ে জ্বর আসে। ওই বাগানের ম্যানেজার ব্রিজেশ রাই বলেন, দ্রুত রাস্তাটি চলাচলের যোগ্য করে তোলা না হলে যে কোনও সময় বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে। নাগরাকাটার বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা বলেন, চামুর্চি ও জিতি রোড দুটি নিয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বারলা বলেছেন, রাস্তার পরিস্থিতি যে খারাপ তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। বিআরও-কে চিঠি লিখব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।