গঙ্গারামপুর : বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জন্য গত ৬ দিন ধরে গঙ্গারামপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিত্তরঞ্জনপল্লি এলাকা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। শুধু রাস্তাঘাটই নয়, জল জমে রয়েছে একাধিক বাড়িতেও। ফলে হাঁটুজল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের। এব্যাপারে পুরসভার বিরুদ্ধে উদাসীন মনোভাবের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁরা এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্বকর্মাপুজোর সময় গঙ্গারামপুরে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। তখনই জলমগ্ন হয়ে পড়ে চিত্তরঞ্জনপল্লি এলাকা। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জন্য বৃষ্টির জল এখনও বেরোতে পারেনি। তারই মধ্যে গত দুতিনদিন ধরে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে গোটা জেলাজুড়ে। এতে চিত্তরঞ্জনপল্লি কার্যত একটি দ্বীপের আকার নিয়েছে। এই মুহূর্তে ওই এলাকার প্রায় সব রাস্তাতেই হাঁটুজল। প্রায় সব বাড়িতে ঢুকে গিয়েছে জল। বৃষ্টির সঙ্গে নর্দমার জল মিশে গোটা এলাকা দূষিত হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড়ো বিষয়, সেই জলে ডিম পাড়তে শুরু করেছে মশা। জলে ঘুরে বেড়াচ্ছে মশার লার্ভা। জলে দেখা যাচ্ছে বিষাক্ত সাপ সহ অন্য পোকামাকড়। এলাকার পানীয় জলের নলকূপগুলি এখন জলের নীচে। ফলে পানীয় জলের আকালও দেখা দিয়েছে ওই এলাকায়।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। সেই কারণেই জমা জল বেরোতে পারছে না। টানা ১০ দিন ধরে জলমগ্ন হয়ে রয়েছে এলাকা। অথচ পুর প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই। স্থানীয় বাসিন্দা শিল্পী সরকার বলেন, এলাকার ড্রেনগুলি দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার করা হয় না। সেকারণেই গত ৬ দিন ধরে জলে ডুবে রয়েছে গোটা এলাকা। আমাদের বাড়ির ভিতরেও এখন জল। বাচ্চাদের নিয়ে ভীষণ সমস্যায় রয়েছি। স্থানীয় মীরা ঘোষ বলেন, কয়েকদিন ধরেই ঘরের ভিতরে জল। এতে ঘরে থাকা অনেক জিনিস নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা একেবারে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। অথচ পুরসভা থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে আমরা ক্ষুব্ধ। আমরা চাই, পুর প্রশাসন এব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ করুক।

এলাকার বাসিন্দা তথা অধ্যাপক রাজীব সাহাও এনিয়ে পুরসভার বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ গোপন রাখেননি। তিনি বলেন, বিশ্বকর্মাপুজোর পর থেকেই আমাদের এলাকা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। গত দুতিনদিনের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। এলাকার পানীয় জলের নলকূপগুলি এখন জলের তলায়। বৃষ্টির সঙ্গে নর্দমার জল মিশে একাকার। সেই জলে বংশবিস্তার করছে মশা। জলমগ্ন বাড়িতে ঢুকে পড়ছে বিষাক্ত সাপ। এই মুহূর্তে এলাকার প্রায় ২০০ বাড়িতে জল ঢুকে পড়েছে। অথচ পুরসভা জমা জল সরাতে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা চাই, এই দুর্দশা থেকে দ্রুত আমাদের মুক্তির ব্যবস্থা করুক পুর কর্তৃপক্ষ। একই দাবি তুলেছেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনন্দ বিশ্বাস, পাপন সাহা, সুশীল ভৌমিক সহ অন্যরাও।

এ প্রসঙ্গে গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান অমলেন্দু সরকার বলেন, এই পুরসভার ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন আমি ওই এলাকার বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে তৎকালীন চেয়ারম্যানকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার কথা শোনেননি। তিনি বিভিন্ন এলাকায ড্রেনের পরিবর্তে চৌবাচ্চা বানিয়েছেন। ফলে এই মুহূর্তে চৌবাচ্চা দিয়ে আর জল বেরোচ্ছে না। তবে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডটি একটু নীচু এলাকা। সেখানে দুটি জলাশয় রয়েছে। পুরসভার তরফে সেখানে পাম্প ব্যবহার করে জমা জল বের করা হবে। আশা করছি, শীঘ্রই ওই এলাকার নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারব।