দু-বেলা খাবার চায় নসিমন বিবির পরিবার

380

শীতলকুচি : স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। দুজনের বয়সেই ৭০ বছর পেরিয়েছে, তাই শরীর ঠিকমতো চলে না। আগে অন্যের বাড়িতে দিনমজুরি করে সংসার  চলত শীতলকুচি ব্লকের গাদোপোঁতা গ্রামের নসিমন বিবির। নসিমন বিবির  স্বামী উমর আলী মিয়াঁ বয়সের কারণে আর অন্যের বাড়িতে কাজ করতে পারে না। কানেও কম শোনেন। বছর ত্রিশের এক ছেলেও রয়েছে তাঁদের। সে জন্ম থেকেই বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ায় বৃদ্ধ মা-বাবাকেই  এখনও তাঁকে আগলে রাখতে হয়।  সংসারে রোজগার না থাকায় দুবেলা খাবার জোটানোই দায় হয়ে গিয়েছে নসিমন বিবির।

স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের বয়স্কভাতার ব্যবস্থা করে দেয়নি। ছেলে প্রতিবন্ধী অথচ যোগাযোগের অভাবে প্রতিবন্ধী কার্ড পর্যন্ত বানাতে পারেননি তাঁরা। ফলে কোনোরকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা তাঁদের জোটে না। নিজস্ব কোনো জমি নেই তাঁদের। অন্যের দয়ায় বাঁশ ঝাড়ের এক কোনে  কোনোরকমে  ভাঙা ঘরে দিন কাটে তাঁদের। বুড়ো বয়সেও ছুটতে হয় অন্যের বাড়িতে দিনমজুরি করতে। কিন্তু বয়স বাড়ায় ঠিকমতো শরীর চলে না তাঁদের। তাই অনেকেই কাজে দিতে চান না নসিমন  বিবিকে। কোথাও কাজ পেলে ছেলেকে সঙ্গেই নিয়ে যান তিনি। ক্ষেতের এক কোণে বসিয়ে রেখে জমিতে কাজ করেন। তাতে যা সামান্য অর্থ আসে তা দিয়েই রেশনের চাল কিনে দুবেলা খাওয়া হয় তাঁদের।

- Advertisement -

বাড়িতে একটি মাত্র ভাঙাচোরা ঘর রয়েছে , রোদ ও বৃষ্টি দুটোই ঢোকে ভাঙা চাল দিয়ে। বাড়িতে জলের কল, এমনকি শৌচাগারও নেই । তবে জব কার্ড অবশ্য আছে নসিমন  বিবির। কিন্তু ঠিকঠাক কাজ পাননা তিনি। তাঁদের কিছু একটা ঘটে গেলে ছেলের কী হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ঘুম আসে না তাঁর।

নসিমন  বিবি বলেন, ‘আমাদের অনেক বয়স হয়েছে, শরীর চলে না। তাই ছেলেকে নিয়ে সরকারি অফিসে সাহায্যের জন্য যেতে পারি না। গ্রামের নেতাদের বললেও আমাদের দেখেন না তাঁরা। তাই অন্যের জমিতে  ভাঙা ঘরেই দিন কাটছে আমাদের। যদি প্রশাসন ও  কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আমাদের সাহায্য করেন তাহলে দুমুঠো খাবার ও চিকিৎসা করে আর কয়টা দিন বাঁচতে পারব ।

জনৈক  আলী আক্তার বলেন, ‘আমরা স্থানীয়রা অনেক ভাবেই সহযোগিতা করি তাঁদের । প্রশাসন বা কেউ সহযোগিতা করলে পরিবারটি উপকৃত হবে।’

শীতলকুচি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তপতী বর্মন বলেন, ‘ওই পরিবারের কথা আমাকে  কেউ জানায়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’ শীতলকুচি বিডিও ওয়াংদি গ্যালপো ভুটিয়া বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

ছবি- সপরিবারে নসিমন বিবি।

তথ্য ও ছবি- মনোজ বর্মন