কোচবিহার রাজবাড়ি সারানোর টাকা নেই এএসআইয়ের

544

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : কথায় বলে রাজাই নেই তো তার আবার রাজবাড়ি। কোচবিহারের রাজবাড়ির ক্ষেত্রেও এই কথাটা অনেকটাই সঠিক। রাজপরিবারের কেউ আর এই বাড়িতে না থাকায় তার রক্ষণাবেক্ষণও হয় না ঠিকমতো। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের (এএসআই) তত্ত্বাবধানেও ঐতিহ্যবাহী এই রাজভবনের অনেককিছুই ক্রমশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমনকি বিভাগের কর্তারা স্বীকার করে নিচ্ছেন, রাজবাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের মতো অর্থ তাঁদের হাতে নেই। কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী বিশাল রাজবাড়ি সৌন্দর্যের দিক দিয়ে য়ে অতুলনীয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজবাড়ির ভিতরে ঢুকতে প্রথমেই রয়েছে বিশাল দরবার হল। উঁচু গম্বুজের সেই দরবার হলের উপরের দিকে রয়েছে চারটি বিশাল ঝাড়বাতি। লোহার শিকল দিয়ে ঝোলানো সেই ঝাড়বাতিগুলির এক-একটিতে ৩৫-৪০টি করে বাল্ব লাগানো রয়েছে। রাজ আমলে বিচার পারিষদদের নিয়ে রাজা দরবার হলে প্রতিদিন বসতেন। সেই সময় ঝাড়বাতির আলোয় ভরে উঠত দরবার হল।

রাজা না থাকলেও রাজবাড়ির দরবার কক্ষে সেই বিশাল ঝাড়বাতিগুলি রয়েছে। তবে রাজ আমলে ঝাড়বাতির প্রতিটি আলো জ্বলত। আর এখন ঝাড়বাতিগুলিতে দুএকটি করে আলো জ্বলে। বাকি প্রতিটি আলো নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে শুধু জাদুঘরের দরবার হলের আলো নয়, বিলিয়ার্ড রুমের দেয়ালের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারাও খসে পড়েছে। কিন্তু সেগুলিও সারানো হচ্ছে না বহুদিন ধরে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে পর্যটকদের মধ্যেও। কোচবিহার রাজবাড়ির জাদুঘরের দায়িত্বে থাকা তথা ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের আধিকারিক ডঃ সুনীল ঝা বলেন, প্রতিটি ঝাড়বাতিতে ৩৫-৪০টি করে আলো রয়েছে। পয়সার অভাবের কারণেই আমরা লাইটগুলি ঠিক করতে পারছি না। তবে ঝাড়বাতির লাইটগুলি নষ্ট হয়ে থাকার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রেখেছি। বরাদ্দ এলেই সেগুলি ঠিক করা হবে। বিলিয়ার্ড রুমের খসে পড়া পলেস্তারাও ঠিক করা হবে।  কোচবিহার হেরিটেজ সোসাইটির সম্পাদক অরূপজ্যোতি মজুমদার বলেন, কোচবিহারের রাজবাড়ির প্রতি ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের উদাসীনতার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, লোয়ার অসম ও সিকিম নিয়ে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের আলাদা একটি সার্কেল করা প্রয়োজন। তাহলে এই অঞ্চলের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলি গুরুত্ব পাবে। টাকাপয়সারও অভাব হবে না।

- Advertisement -

১৮৮৭ সালে মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের আমলে শহরের কেশব রোডের ধারে কোচবিহার রাজবাড়ি তৈরি হয়। ১৯৫০ সাল নাগাদ কোচবিহারের রাজ আমলের অবসান ঘটে। কিন্তু তারপরেও কোচবিহারের মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণ ১৯৭০ সাল পর্যন্ত রাজবাড়িতে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ১৫-২০ বছর রাজবাড়ি অবহেলায়-অনাদরে পড়ে থাকে। বিংশ শতকের শেষদিকে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ রাজবাড়িটি অধিগ্রহণ করে। রাজবাড়িটি রং করা হয়। রাজবাড়ির সামনে পড়ে থাকা বিশাল মাঠে সুদৃশ্য বাগান তৈরি হয়। রাজবাড়ির প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলতে একবিংশ শতকের শুরুতে রাজবাড়ির বিশাল দরবার হল সহ চারটি ঘরে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ জাদুঘর খোলে। দিনে দিনে জাদুঘরের জনপ্রিয়তা বাড়ায় বর্তমানে তা আটটি ঘরে করা হয়েছে। মাস ছয়-সাতেক আগে রাজবাড়ির জাদুঘরে অস্ত্র গ্যালারি খোলা হয়েছে। জাদুঘরের  দরবার হল পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু ঝাড়বাতিগুলির আলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেই আকর্ষণ একটু হলেও ফিকে।