শিলিগুড়ি হাসপাতালে জায়গা নেই, চিকিত্সাও যেমন-তেমন

322

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের পরিসেবা নিয়ে দিনদিন অভিযোগ বাড়ছে। কখনও চিকিত্সকের অভাব আবার কখনও পর্যাপ্ত বেডের অভাব নিয়ে অভিযোগ লেগেই রয়েছে হাসপাতালে। শুক্রবারও হাসপাতালে গিয়ে ধরা পড়ল সেই ছবি। বেড না থাকায় হাসপাতালের করিডরে, সিঁড়ির তলে, লিফটের কাছে রাখা হয় রোগীদের। শুধু তাই নয়, বাইরে থাকা রোগীদের ঠিকমতো চিকিত্সাও হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন রোগীর পরিজনরা। অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছাড়াই মেডিসিন ওযার্ড, আইসোলেশন ওযার্ডের বাইরে জ্বরের রোগীদের গদি পেতে ফেলে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের সুপার অমিতাভ মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যা জানানোর স্বাস্থ্যভবনে জানিয়েছি। এর বাইরে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।

শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিনই জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগে মানুষ আসেন চিকিত্সা করাতে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত কয়েক দিনে জ্বরের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগীকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশই জ্বরে আক্রান্ত। আর এই রোগীদের হাসপাতালে রেখে সুষ্ঠু পরিসেবা দিতেই হিমসিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দিন প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসাপাতালে বেড মিলছে না। ফলে বাধ্য হয়ে করিডর, মেঝেতে গদি পেতে রাখতে হচ্ছে রোগীকে। অন্যদিকে, চাহিদার তুলনায় চিকিত্সকের সংখ্যা অনেকটাই কম হওযায় সমস্ত রোগীকে ঠিকমতো চিকিত্সা পরিসেবা দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার রাতে পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন সুকান্তপল্লির বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় দাস। বেড না মেলায় তাঁকে করিডরে গদি পেতে রাখা হয়। রাতে একজন চিকিত্সক এসে দেখে গিয়েছেন। কিন্তু এরপর শুক্রবার বেলা বারোটা পর্যন্ত তাঁকে কোনো চিকিত্সক দেখতে আসেননি। এদিকে, তাঁর পেটের ব্যথাও কমেনি। একইরকমভাবে বৃহস্পতিবার রাতে হায়দরপাড়ার বাসিন্দা বিকি সরকার জ্বর নিয়ে ভরতি হয়েছেন। তাঁকেও করিডরে মেঝেতে গদি পেতে রাখা হয়েছে। অভিযোগ, রাতে চিকিত্সক এলেও সকালে কোনো চিকিত্সক দেখেননি। ডেঙ্গু সন্দেহে তাঁর রক্তপরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, জ্বরের রোগীকে কেন এভাবে বাইরে মেঝেতে ফেলা রাখা হয়েছে। রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার দায় কে নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মৃত্যুঞ্জয়বাবুর স্ত্রী উমা দাস বলেন, পেটে ব্যথার জন্য স্বামীকে ভরতি করি। রাতে চিকিত্সক দেখে ওষুধ দেন। সকালেও ব্যথা কমেনি। চিকিত্সকও দেখেননি।