হরিশ্চন্দ্রপুরের দৈনিক বাজারে নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল

- Advertisement -

সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর : বৃষ্টি হলেই জমে থাকছে জল। বেহাল হয়ে গিয়েছে নিকাশি ব্যবস্থা। হরিশ্চন্দ্রপুরের দৈনিক বাজারে নোংরা জলে দাঁড়িয়ে বেচাকেনা করতে হচ্ছে এলাকার ব্যবসায়ীদের। জল ডিঙিয়ে নিত্যদিনের আনাজপত্র থেকে মাছ, মাংস কিনতে আসছেন সাধারণ মানুষ। তার ওপর গত কয়েকদিনে লাগাতার বৃষ্টিতে সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নোংরা জল ডিঙিয়ে প্রতিদিন বাজার করতে যেতে হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানাচ্ছেন, জমা জলের মধ্যে বসেই কেনাবেচা করতে হচ্ছে। পচা জলের দুর্গন্ধে টেকা দায়। দীর্ঘদিন থেকে পঞ্চায়েতকে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে নিকাশি ব্যবস্থা সংস্কার করে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিক প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে বাড়ছে রোগের আশঙ্কা। যদিও এপ্রসঙ্গে পঞ্চায়েতের তরফে জানানো হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের অসচেতনতার ফলেই বাজারে নিকাশিনালা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই বারবার পরিষ্কার করেও কোনও কাজ হচ্ছে না।

এপ্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক চন্দ্রশেখর দাস জানান, হরিশ্চন্দ্রপুর দৈনিক বাজারে প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত হাজার মানুষ বাজার করেন। তাছাড়াও এলাকার ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যবসায়ী পসার নিয়ে বসেন। সারা বছর সহ বর্ষাকালে এই বাজারে নিকাশিনালার বেহাল দশার কারণে দীর্ঘদিন ধরে জল জমে থাকছে। গত কয়েকদিন লাগাতার বৃষ্টির কারণে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। জল জমে থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। তবুও বাধ্য হয়ে এই নোংরা জল ডিঙিয়ে বাজার করতে আসতে হচ্ছে এলাকার মানুষদের। এলাকার ব্যবসায়ীরা এই জলের মধ্যেই বসে দীর্ঘ সময় ব্যবসা করছেন। তাছাড়া যাঁকে এই বাজারটি দেওয়া হয়েছে, তিনিও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা। না হলে এই জমা জল থেকে ডেঙ্গির মতো মারণরোগ এলাকায় ছড়াবে।

এক সবজি বিক্রেতা নূর মোহাম্মদ বলেন, নিকাশিনালার বেহাল দশার কারণে বৃষ্টির জমা জল বাজার থেকে বের হতে পারছে না। আমরা কষ্ট করে এই জলের মধ্যেই কেনাবেচা করছি। এই জল পচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তবু নিরুপায় হয়ে দোকানদারি করতে হচ্ছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আমরা চাই দৈনিক বাজার এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা সংস্কার হোক। যদিও অভিযোগ প্রসঙ্গে, হরিশচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রিজবা খাতুন বলেন, আমরা ওই বাজারের ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করাচ্ছি পঞ্চায়েতের তরফে। তবুও এলাকার কিছু বাসিন্দাদের অসচেতনতার কারণে প্লাস্টিক পড়ে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই নিয়ে বারবার এলাকাবাসীকে জানিয়ে কোনও লাভ হচ্ছে না। তাছাড়া নতুন করে ড্রেন তৈরি করেও সেই জল কোথায় ফেলা হবে, তা নিয়ে সমস্যা দেখা যাচ্ছে। তবু আমরা এলাকাবাসীর দাবি মেনে আবার ড্রেনটি সংস্কার করে দেব।

এপ্রসঙ্গে জেলা পরিষদের শিশু নারী ও ত্রাণ কর্মাধক্ষ্য মর্জিনা খাতুন জানান, আমি এলাকার ওই সমস্যাটির কথা শুনেছি। আমি হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিককে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। তাছাড়া ওই এলাকার নিকাশিনালা সংক্রান্ত বিষয়টি আমি আগামীতে জেলা পরিষদের সভায় উত্থাপন করব।

- Advertisement -