অর্ধেক চিকিৎসক নেই, বীরপাড়া হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবা ধুঁকছে

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া : যতজন চিকিৎসক থাকার কথা তার অর্ধেক চিকিৎসক নেই। নার্স হাতেগোনা কয়েকজন। নেই পর্যাপ্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার এখন তথৈবচ অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে এখানে স্বাস্থ্য পরিষেবা ধুঁকে ধুঁকে চলছে বলে অভিযোগ। স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীর পরিশ্রমের পরেও পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে হাসপাতালে। ভুক্তভোগীরা বলেন, হাসপাতালে গেলে ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। কিছু হলেই রেফার করে দেওয়া হয় আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে। এখানে চিকিৎসাই যদি না হয় তাহলে এই হাসপাতাল থেকে কী লাভ? আলিপুরদুয়ারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা বলেন, বীরপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম থাকায় সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি রাজ্যস্তরে জানানো হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে বেডের সংখ্যা ২২০। তবে রোগী থাকে অনেক বেশি। কিন্তু চিকিৎসকের সংখ্যা এতটাই কম যে হিমসিম খেতে হচ্ছে কর্মরত অন্যান্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিৎসকের সংখ্যা ৩৫ জন হলেও আছেন ১৬ জন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দুজনের থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। শল্য চিকিৎসক দুজন থাকার কথা। রয়েছেন একজন। নেই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের ২টি পদ অনুমোদিত হলেও রয়েছেন মাত্র একজন। ৬ জন ল্যাবরেটরি টেকনিসিয়ানের জায়গায় রয়েছেন মাত্র তিনজন। এদিকে, ৫৬ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর জায়গায় রয়েছেন মাত্র ২০ জন। ফলে প্রতি পদে হোঁচট খাচ্ছে পরিষেবা।

- Advertisement -

ইমার্জেন্সি ডিউটি করার দায়িত্বে থাকেন জেনারেল ডিউটি মেডিকেল অফিসাররা। কিন্তু ১২ জন জেনারেল ডিউটি মেডিকেল অফিসারের জায়গায় রয়েছেন মাত্র চারজন। স্বাভাবিকভাবেই তিনগুণ চাপ পড়েছে অন্য চিকিৎসকদের ওপর। হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, বর্তমানে মেডিকেল লিভ ছাড়া আর কোনও ছুটি মিলছে না। যদি বা মেলে বড়জোর পাঁচদিন। চিকিৎসকের সংখ্যা এত কম না হলে এতটা চাপ পড়ত না। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নার্সদের মধ্যে সম্প্রতি ১১ জন কমিউনিটি হেলথ অফিসার হয়ে চলে গিয়েছেন। সাতজন নার্স পড়তে গিয়েছেন। ফলে নার্সের সংখ্যা একধাপে অনেকটা কমে গিয়েছে। হাসপাতালে এখন ২৫ জনও নার্স নেই।

বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের বাসিন্দাদের পাশাপাশি ফালাকাটা ব্লক ও ধূপগুড়ি ব্লকের একাংশের বাসিন্দারাও নির্ভর করেন। এছাড়া দুই ব্লকের অন্তত ২০টি চা বাগানের শ্রমিকরা এই হাসপাতালের ওপরই নির্ভরশীল। বিশেষ করে জ্বরের প্রকোপ দেখা দিলে রোগীর ভিড় উপচে পড়ে হাসপাতালে। হাসপাতালের সুপার বিদ্যুৎ ঘোষ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সবই জানানো আছে। আশা করছি শীঘ্রই কয়েকজন চিকিৎসক আমরা পাব।