জাতীয় সড়কের হাল দেখে আঁতকে ওঠেন সবাই

উত্তরবঙ্গ ব্যুরো : উত্তরবঙ্গে একাধিক জাতীয় সড়কের হাল দেখে দিল্লি থেকে আসা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কর্তারাও আঁতকে ওঠেন। জলপাইগুড়ির পর থেকে ধূপগুড়ি পর্যন্ত ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে এখন ফোর লেনের কাজ চলছে। এই রাস্তায় গাড়ি নিয়ে যেতে হবে শুনলে পোড়খাওয়া দূরপাল্লার বাস বা ট্রাকচালকরাও নাকি কপালের ঘাম মুছে নেন। অ্যাম্বুল্যান্সচালকরাও মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে যেতে দুবার ভাবেন।

শিলিগুড়ি থেকে ময়নাগুড়ি হয়ে ধূপগুড়ি পর্যন্ত ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের অবস্থা এককথায় ভয়াবহ। চার লেনের মহাসড়কের কাজ শেষ হয়ে গেলেও বেশ কিছু জায়গায় মহাসড়ক তৈরি হয়নি। আর সেইসব জায়গাতেই রাস্তার অবস্থা সব থেকে খারাপ। রাস্তার পিচের চাদর পুরোপুরি উঠে গিয়েছে বছরদুয়েক আগেই। বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হলে গর্তগুলিতে জল জমে বিপজ্জনক অবস্থা হয়। কোন গর্ত কতটা গভীর বুঝতে না পেরে একের পর এক গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বৃষ্টির পর এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করাই যায় না। কোনও সময় রাস্তার বেহাল অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করা হলেও কিছুদিন বাদে ফের বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে যায়।

- Advertisement -

২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর ময়নাগুড়ি তিস্তা সেতু থেকে দোমোহনি মোড় হয়ে উল্লারডাবরি ও ময়নাগুড়ি রোড ছুঁয়ে আসাম মোড় পর্যন্ত রাস্তা বলে কার্যত কিছু নেই। অথচ এই পথ দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রতিদিন প্রচুর ট্রাক, বাস সহ অসংখ্য যান চলাচল করে। ভাঙাচোরা রাস্তায় গাড়ি খারাপ হওয়ার ফলে যানজট হয়। জাতীয় সড়কের এই অংশ পেরিয়ে অবশ্য স্বস্তি নেই। ধূপগুড়ি পর্যন্ত দুর্ভোগ চলে। ঝুমুর সেতুর আগে পর্যন্ত সড়ক বেহাল। সম্প্রতি এই এলাকাতেও গর্তগুলি মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু অংশে জমিজট থাকায় রাস্তা তৈরির কাজ আটকে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের আধিকারিক প্রদ্যুৎ দাশগুপ্ত বলেন, সড়কের বেহাল অংশ দ্রুত মেরামত করা হবে।

শুধু ২৭ নম্বর নয়, খড়িবাড়ি ব্লকের রানিগঞ্জ পানিশালি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিকারী থেকে ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি মোড় পর‌্যন্ত ৩১সি জাতীয় সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল পড়ে রয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে এখানে জাতীয় সড়ক প্রায় ডোবায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় তিনবছর আগে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ খড়িবাড়ি থেকে বিহারের গলগলিয়া পর্যন্ত রাস্তা মেরামত করলেও বাকি রাস্তা অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় ছেড়ে দেয়। দ্রুত রাস্তার সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। ৩১সি জাতীয় সড়ক পানিট্যাঙ্কি হয়ে নেপাল ও ২ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। অপর একটি অংশ খড়িবাড়ি ব্লকের বিন্নাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত হয়ে বিহারের গলগলিয়া এবং ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ঘোষপুকুরে ৩১বি জাতীয় সড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

ফলে উত্তরবঙ্গে যাতায়াত ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই রাস্তার গুরুত্ব অপরিসীম। অনেকসময় সেনাবাহিনীর বড় বড় ট্যাংক, গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। বালি-পাথর ভর্তি ট্রাক ও ডাম্পার প্রতিদিনই চলাচল করে থাকে। এলাকার প্রায় দশহাজার কৃষক এই রাস্তার উপর নির্ভরশীল। অথচ তিনবছরেও এই রাস্তা সারিয়ে উঠতে পারেনি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। জাতীয় সড়ক ৩১সি-এর শিলিগুড়ির এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অজয়কুমার সিং বলেন, রাস্তাটি মেরামতের জন্য আট কোটি টাকার টেন্ডার করা হয়েছে। কিন্তু লকডাউন থাকায় আমরা কাজ শুরু করতে পারছি না।