৬৫ বছর ভাড়াবাড়িই ঠিকানা জরাজীর্ণ পশু হাসপাতালের

113

মুরতুজ আলম, সামসী : নিজস্ব বাড়ি নেই। তাই প্রায় ৬৫ বছর ধরে ভাড়াবাড়িতে চলছে সামসী পশু হাসপাতাল। হাসপাতাল ভবনের অবস্থাও জরাজীর্ণ। দরজা, জানালা ভাঙা। ভবনের ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে। এনিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মী সহ এলাকাবাসীর মধ্যে। সামসীর প্রবীণ বাসিন্দা তথা বৈদ্যনাথপুর হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুকুমার সরকার বলেন, ১৯৫৫ সাল নাগাদ সামসী মহাবীর সিনেমা হলের পাশে কিষানলাল আগরওয়ালের নিজস্ব ভবনে চালু হয় পশু হাসপাতালটি। প্রায় ৬৫ বছর হয়ে গেল। আজও ভাড়াবাড়িতে চলছে ওই পশু হাসপাতাল।

পশু হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শেখর পাল জানান, পশু হাসপাতালটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ধুঁকছে। বাড়ির পরিকাঠামো বেহাল। ভেঙে পড়ছে বাড়ি। হাজারো সমস্যায় ধুঁকছে হাসপাতালটি। পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। যার ফলে হাসপাতাল কর্মীদের পাশাপাশি হাসপাতালে আসা লোকজন সমস্যায় পড়ছেন। শৌচাগারেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই বিদ্যুৎ পরিসেবাও। বর্তমানে ওই হাসপাতালে একজন চিকিৎসক, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন এলডিএ রয়েছেন। একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী ছিলেন। কিন্তু তিনি কয়েকমাস আগে অবসর নিয়েছেন। হাসপাতালের যাবতীয় সমস্যা স্থানীয় প্রধান, বিএলডিওকে জানানো হয়েছে। সমস্যা কবে মিটবে জানা নেই। যদিও সামসী পশু হাসপাতালের পরিসেবা নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা অনেকটাই সন্তুষ্ট। কিন্তু ওই হাসপাতালের নতুন নিজস্ব ভবনের দাবি তুলেছেন তাঁরা। সামসী পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রবণকুমার দাস বলেন, সামসী পশু চিকিৎসালযে সমস্যার কথা জানি। হাসপাতালের নিজস্ব জায়গা না থাকায় কোনো কিছু করা যাচ্ছে না। তবে আপাতত পানীয় জলের জন্য একটা নলকূপ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ছবিলপাড়া মৌজায় একটা জায়গায় খোঁজ দেওয়া হয়েছে।

রতুয়া-১-এর বিএলডিও পারমিতা মাইতি এব্যাপারে বলেন, সামসী পশু হাসপাতালের নিজস্ব জমি না থাকায় নতুন ভবন করা যাচ্ছে না। বর্তমানে হাসপাতালটি বেসরকারি ভাড়াবাড়িতে চলছে। তারজন্য ভাড়া বাবদ দিতে হয় প্রতিমাসে ২০৫ টাকা করে। সরকারি ফাঁকা জমি খোঁজার কাজ চলছে। সামসীর প্রধান শ্রবণকুমার দাস একটা সরকারি জমির খোঁজ দিয়েছেন ছবিলপাড়া মৌজায়। ইতিমধ্যে জায়গাটা দেখেও এসেছি। কিন্তু জায়গাটা ডোবা। জমির চরিত্র বদলের দরকার। জমির চরিত্র বদলের জন্য মহকুমাশাসক কিংবা ডিএমের অনুমতি দরকার। অনুমতি মিললেই জমির চরিত্র বদল হয়ে যাবে। তারপর নতুন ভবনের কথা ভাবা হবে।