ছাগলে কী না খায়, রাজনীতিতে কী না হয়

374

দেবদূত ঘোষঠাকুর

পুরভোটে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে ঘড়ি চিহ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। কলকাতা পুরসভায় প্রথম তৃণমূল কংগ্রেসের বোর্ডের মেয়র সুব্রত মুখোপাধ্যায়। শুধু তিনি একা নন। তৃণমূলের আরও কয়েকজন ওই চিহ্নে লড়াই করেছিলেন। সুব্রত আর মেয়র হতে পারেননি। তবে তৃণমূল কংগ্রেস পুরবোর্ডের দখল হারিয়েছিল। সুব্রত তখন তৃণমূলের কাছে ভিলেন।

- Advertisement -

সালটা ছিল ২০০৫। তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে তখন মুখ দেখাদেখি বন্ধ প্রাক্তন মেয়রের। তৃণমূলে নেই। অথচ রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক তিনি। দলহীন সুব্রত পায়ের তলার মাটি খুঁজছেন। যোগ দিলেন কংগ্রেসে। পরের বছর বিধানসভা নির্বাচনে চৌরঙ্গি কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী। হেরে গেলেন সিদ্ধার্থ রায় মন্ত্রীসভার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেন্টরদের অন্যতম প্রধান একজন, সুব্রত মুখোপাধ্যায়। অবশেষে ২০১১ সালে পায়ের তলার মাটি শক্ত হল মা-মাটি-মানুষের দলে। পরপর তিনটি নির্বাচনে জিতে মন্ত্রী হলেন বটে, মন্ত্রীসভার প্রথম স্থান তো দূর অস্ত, দ্বিতীয় জায়গাটাও জুটল না প্রবীণ এই রাজনীতিকের।

২০২৪ সালে কী হবে? মুকুল রায় ফের তৃণমূলে ফিরে আসায় সেই শূন্যতা কি সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা করতে পারে বিজেপি? ক্ষমতায় এলে সুব্রত মুখোপাধ্যায় কি হতে পারেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শা-দের তুরুপের তাস? রাজনীতিতে কী না হয়!

যাঁরা সুব্রতকে নিয়ে এমনটা ভাবছেন, ভাবতে থাকুন। আসলে রাজনীতিতে কিছুই কিন্তু অসম্ভব নয়। যেমন অসম্ভব হয়নি ১৯৮২ সাল থেকে টানা সিপিএমের টিকিটে জিতে আসা পোড়খাওয়া কৃষক নেতা রেজ্জাক মোল্লার ২০১৬ সালে তৃণমূলে যাওয়াটা। সুব্রতবাবু  তৃণমূলে এসে জমি খুঁজে পেয়েছেন। পাঁচ বছর মন্ত্রী থাকার পরে রাজনীতিতেই গুরুত্বহীন হয়ে গেলেন রেজ্জাক। মন্ত্রী থেকে ঢেলা।

২০১১ সালে ভাঙড়ে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে রেজ্জাক মোল্লা যাঁর কাছ থেকে সব থেকে বেশি বাধা পেয়েছিলেন তিনি তৃণমূলেরই আরাবুল ইসলাম। স্বাধীনতার পরে ২০১১ সালে প্রথমবার ভাঙড়ে হেরেছিল সিপিএম। জিতে বিধায়ক হন আরাবুল। তাঁর বাড়া ভাতে ছাই দিতে আসা সিপিএম ফেরত রেজ্জাককে মানা সম্ভব ছিল না আরাবুলের পক্ষে।

সেই সময় রেজ্জাক বলেছিলেন, আরাবুলকে সঙ্গে নিয়ে আমার অবস্থা এখন হয়েছে অনেকটা ‘গরজে গোয়ালা ঢেলা বয়’ এর মতো। গোয়ালা কাঁধে করে ছানা নিয়ে যাচ্ছে। একদিকটা কাত হয়ে যাচ্ছে। বোঝা কমাতে সেদিকের ছানা তো ফেলে দিতে পারে না। তাই অন্য দিকটায় ঢেলা বেঁধে বাঁকটা সোজা করে নিচ্ছে। ওকেও আমাকে এভাবেই বইতে হচ্ছে। কে জানত পাঁচ বছরের মধ্যেই রেজ্জাক মন্ত্রী থেকে নিজেই ঢেলা হয়ে যাবেন! রাজনীতিতে এমনটাই যে হয়!

২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর। পুরভোটের ফলাফলে দেখা গেল, দিনকয়েক আগেও কৃষ্ণনগর পুরসভার যে কাউন্সিলাররা ছিলেন কংগ্রেসের, ভোটবাক্স খুলতে তাঁরাই হয়ে গেলেন তৃণমূলের হয়ে নির্বাচিত! প্রায় পুরো বোর্ডটাই দলবদল করে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে। সেদিনই সদলবদল তৃণমূলে যোগ দিয়েছিন শান্তিপুরের কংগ্রেস বিধায়ক অজয় দে। অথচ খাতায়কলমে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিধানসভাতে কংগ্রেস বিধায়ক হিসেবেই বিধানসভার সদস্য ছিলেন অজয়।

ওইদিন তৃণমূল ভবনে শাসকদলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়ের উপস্থিতিতে অজয়বাবুদের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দিয়েছিলেন রাজ্যের তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেই সময় প্রদেশ কংগ্রেস নেতা তথা বিধায়ক মানস ভুঁইয়ার মন্তব্য ছিল, দল ভাঙানোর খেলা চালিয়ে ঘুরপথে সিপিএমকে সাহায্য করছে তৃণমূল। কোন উন্নয়নের টানে অজয়বাবু দল ছেড়ে দিলেন, বোধগম্য হল না!

ওই ঘটনার চার বছরের মধ্যে প্রেক্ষাপট পুরো বদলে গেল। দেখা গেল, মুকুল চলে গিয়েছেন বিজেপিতে। আর মানস তৃণমূলে। ২০২১ সালের মাঝামাঝি এসে দেখা গেল, রাজনৈতিক চোরাস্রোতে মুকুল ফের নৌকা ভেড়ালেন তৃণমূলের ঘাটে। মানস তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য তথা বিধায়কও। তবে কংগ্রেসে থাকাকালীন দলের সংগঠনের যে সম্মানীয় পদে ছিলেন, পাঁচ বছর তৃণমূলে থেকেও সেই সম্মানটা আর ফিরে পাননি প্রদেশের কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি।

এর পরের চমকটা আরও বড়। জীবনে এবারই প্রথমবার নির্বাচনে জিতে এসেছিলেন মুকুল। বিজেপির টিকিটে। আর তারপরেই তৃণমূল ভবনে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বুকে জড়িয়ে তৃণমূলে ফিরে আসেন তিনি। তাঁর সপ্তাহখানেক আগেই ২০১৭ সাল পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনে যেখানে মুকুল রায় ছিলেন সেখানে অভিষেক হয়েছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদটি চার বছর ফাঁকা ছিল। তাই প্রশ্ন, তৃণমূলের সংগঠনে মুকুল রায়ে অবস্থান ঠিক কোথায়?

যদা যদা হি ধর্মস্য, গ্লানির্ভবতি ভারত…।
গীতার এই শ্লোকটি আশা করি সবাই বহুবার শুনেছেন। কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে অর্জুনের যাবতীয় বিভ্রান্তি দূর করতে শ্রীকৃষ্ণ সখা অর্জুনকে বলছেন, যখনই  ধর্মকে অধর্ম গ্রাস করে, তখনই ঈশ্বর ধর্মের গ্লানি দূর করতে ধরাধামে আবির্ভূত হন। অর্থাৎ যখন কোনও সামাজিক ও আধ্যাত্মিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয় তখনই  অবতার রূপে ভগবান আবির্ভূত হন।

দলত্যাগী নেতারাও সেই অর্থে রাজনৈতিক অবতার। যখনই কোথাও কোনও রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়, তখনই ওইসব নেতারা আবির্ভূত হন। কেউ পাণ্ডবদের থেকে কৌরবদের দিকে যান, কেউ উলটোদিকে। দলত্যাগী এইসব অবতারদের জন্য অনেক সময় পাশা উলটে যায়। সেক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের পরেও এদিক-ওদিক যাতায়াত চলতে থাকে। থিতু হতে সময় নেয়।

এ যেন পদার্থবিদ্যার সূত্র। গ্লাসে ঘোলা জল ঢেলে চামচ দিয়ে নাড়িয়ে বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিলেন। রাখলে একসময় দেখা যাবে ময়লা নীচে থিতিয়ে পড়বে। উপরে পরিষ্কার টলটলে জল। অর্থাৎ এটা রাজনৈতিক স্থিতিশীল অবস্থা। আবার নির্বাচন এলে কিংবা দলের কোনও নেতা-নেত্রীর মৃত্যু ঘটলে কিংবা রাজনৈতিক প্রয়াণ ঘটলে ওই পরিষ্কার জল আবার ঘোলা হতে শুরু করবে। আর শুরু হয়ে যাবে ঘোলা জলে মাছ ধরা। শুভেন্দু অধিকারী, মুকুল রায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়রা সক্রিয় হয়ে উঠবেন।

শুধু শুভেন্দু, রাজীবের দোষ দিয়ে বা কী লাভ! ১৯৯৯-২০০০ সালে আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণটা একবার দেখুন। কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল হল। সেই সময় সৌগত রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, অজিত পাঁজার মতো নেতারা বারবার দলবদল করেছেন। কোথায় গিয়ে থিতু হবেন, সেই দোলাচলে থেকেছেন। এই সময়টায় সৌগতবাবু দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রে মমতার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গিয়েছিলেন। বড়তলা কেন্দ্রে অজিত পাঁজা-সাধন পান্ডের দ্বৈরথ সে সময়টা জমে উঠেছিল। একজন তৃণমূলের। অন্যজন কংগ্রেসের। প্রিয়রঞ্জন অবশ্য আমৃত্যু কংগ্রেসেই ছিলেন। সুব্রতবাবুদের মতো এদিক-ওদিক করেননি।

প্রবাদপ্রতিম আরএসপি নেতা মাখন পালের কাছে শুনেছিলাম, কমিউনিস্ট পার্টি ভাঙার সময় জ্যোতি বসু নাকি দেওয়ালের উপরে বসে জল মাপছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত সিপিএম দলেই ঝাঁপ দিলেন। পশ্চিমবঙ্গ তাদের একজন ভবিষ্যতের মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে গেল। কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস না হলে মমতাই কি কখনও জ্যোতি বসুর উত্তরসূরি হতে পারতেন?

আয়ারাম গয়ারাম শব্দটির উৎপত্তি ঠিক কোথায়? ১৯৬৭ সালে হরিয়ানার হাসানপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ের পর ১৫ দিনের মধ্যে গয়ারাম (আসল নাম গয়া লাল, কিন্তু পরিচিতি গয়ারাম হিসেবে। তাঁর কাজের জন্য) নামে এক বিধায়ক কংগ্রেসে যোগ দিয়ে বারতিনেক দলবদল করে ফের ফিরে এসেছিলেন কংগ্রেসে। ১৫ দিন পর হরিয়ানার কংগ্রেস নেতা রাও বীরেন্দ্র সিংহ সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা করেছিলেন, গয়া রাম এখন আয়া রাম। তিনি ফের কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন। তখন থেকেই দলবদলের প্রতিশব্দ  এই আয়ারাম গয়ারাম।

রাজ্যে দলবদলের প্রথম নথিভুক্ত ঘটনাটি ঘটে ১৯৫২ সালে। গয়ারামের ঘটনার ১৫ বছর আগে। চারজন ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক কংগ্রেসে যোগ দেন। তখন অবশ্য দলবদলের পরে পরেই সংশ্লিষ্ট বিধায়কের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যেত। এ ক্ষেত্রেও সেই চারটি আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল তার বিধায়ক দলবদল করার ঠিক পরে পরেই (এখন ২০১১ সালের পর থেকে দলত্যাগীরা পুরোনো দলের বিধায়ক থেকে যান পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত)।

১৯৬৭ সালে রাজ্যে চতুর্থ সাধারণ নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এল প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকার। মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়। উপমুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। সরকারের মধ্যে তেমন বনিবনা হচ্ছিল না। সেই সুযোগে কংগ্রেস খাদ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল ঘোষকে মুখ্যমন্ত্রী করে নতুন সরকার গড়তে তলে তলে এগোতে থাকল। তারই জেরে জোট ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন প্রফুল্ল ঘোষ। দাবি করলেন, তাঁর সঙ্গে আরও ১৭ জন বিধায়ক আছেন। অজয় মুখোপাধ্যায় সরকারকে আস্থা ভোট নিতে বললেন রাজ্যপাল ধরমবীর। জ্যোতিবাবুরা যে সময় দিলেন তা মানতে নারাজ রাজ্যপাল ধরমবীর। তিনি প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করলেন। কংগ্রেসের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী হলেন দলত্যাগী প্রফুল্ল ঘোষ। তবে সেই সরকারও কাজ করতে পারেনি। রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হয়।

পশ্চিমবঙ্গে দলবদলের ইতিহাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা বড় ভূমিকা অবশ্যই আছে। কংগ্রেস ভেঙে তিনি নিজে তৃণমূল কংগ্রেস নামের নতুন দলই শুধু গঠন করেননি, পুরো কংগ্রেস দলটিকেই অস্থির করে দিয়েছিলেন তিনি। এ যেন এক ধরনের সংক্রমণ। সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায় সবাই সেই সংক্রমণের শিকার। ভাইরাসটির নাম ক্ষমতা।

এবং সোমেন্দ্রনাথ মিত্র।
শোনা যায় তাঁর সঙ্গে রেষারেষির জেরেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন মমতা। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের কিছুদিন আগে সবাইকে অবাক করে দিয়ে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন শিয়ালদহের ছোড়দা সোমেন্দ্রনাথ (সোমেন) মিত্র। তবে এ যুগের ব্যতিক্রমী রাজনীতিক সোমেন বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলে গিয়েছিলেন। ২০০৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। আবার মতবিরোধ। সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কংগ্রেসে ফিরে আসেন এবং কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির দাযিত্ব পান সোমেন। আমৃত্যু সেই দলেই ছিলেন।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের পরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যে ঝড় উঠেছিল তা এখন অনেকটাই স্তিমিত। ওই ঝড়ে কত পাখির যে বাসা ভেঙেছে তার পরিসংখ্যান এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ঝড় থেমে যাওয়ার পরে বেশিরভাগ পথহারা পাখি নিজেদের বাসা খুঁজে পেয়েছে। ব্যতিক্রম একজনই। কানন, শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি এখন দলহীন। পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটেছে আগেই। তারপরে তৃণমূলের সঙ্গে। ভোটের আগে বিজেপিকেও না বলে দিয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন।

শোভন, রেজ্জাক মোল্লা কি পাঁকে পড়ে গিয়েছেন?  নাকি পাঁকাল মাছের শিকারির মতো কাদায় নিজেকে লুকিয়ে রেখেছেন? সঠিক সময়ে জন্য অপেক্ষা করছেন? রেজ্জাক একবার এ প্রসঙ্গে শ্রী রামকৃষ্ণের বাণী উদ্ধৃত করে একবার বলেছিলেন, পাঁকাল মাছ ধরতে হলে পাঁকেই থাকতে হবে। আমি সেই পাঁকের মধ্যে রয়েছি। তবে রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোভন শিকারির মতো অপেক্ষা করলেও রেজ্জাক কিন্তু নিজেই শিকার হয়ে গিয়েছেন।

(লেখক সাংবাদিক)