ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত বর্ধমান, ভাঙচুর অ্যাম্বুলেন্স

91

বর্ধমান: মুখ্যমন্ত্রী পদে বুধবার শপথ নেওয়ার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন রাজ্যে হিংসার ঘটনা তিনি বরদাস্ত করবেন না। পাশাপাশি, অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ তিনি পুলিশকে দিয়েছেন। তারপরও পূর্ব বর্ধমান জেলায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনার সমাপ্তি ঘটছে না। এদিনও জেলার কোনও কোনও জায়গা তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে যেমন উত্তপ্ত হয় তেমনি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্ত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় তৃণমূলেরই দুই গোষ্ঠীর কোন্দলে। কোন্দল চরমে ওঠায় আস্ত অ্যাম্বুলেন্সের ঠাঁই হয় হাসপাতাল সংলগ্ন জলাশয়ে। বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পাশেই রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সংগঠনের অফিস। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এদিন দুপুরে হঠাৎই অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সংগঠনের অফিসের সামনে তৃণমূলেরই কিছু লোকজন জড়ো হয়। দুই পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয়ে যায় ওই অফিসে ভাঙচুর। পালটা অপর পক্ষ একটি অ্যাম্বুলেন্সে ভাঙচুর চালিয়ে সেটি পাশের পুকুরের জলে ফেলে দেয়। এই ঘটনা নিয়ে বর্ধমান হাসপাতাল চত্বর তপ্ত হয়ে ওঠে।

- Advertisement -

মুখ্যমন্ত্রী অশান্তি বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরেও কেন এই ঘটনা ঘটল তা জানতে চাওয়া হয় তৃণমূল নেতা আব্দুল রবের কাছে। তিনি বলেন, শেখ সাহেবের নেতৃত্বে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সংগঠন অফিসে ভাঙচুর করা হয়। শেখ সাহেব তৃণমূল কংগ্রেস করলেও সে বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমান দক্ষিণে দলের প্রার্থী খোকন দাসের বিরোধিতা করে। এমনকি হাসপাতাল চত্বরে থাকা সকল অ্যাম্বুলেন্স চালকদের তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাসকে ভোট না দেওয়ার জন্য সে  চাপ দেয়। এদিন শেখ সাহেবই হাসপাতাল চত্বরে দলবল নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করে বলে আব্দুল রব অভিযোগ করেছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাম্বুলেন্স চালক সংগঠনের নেতা শেখ সাহেব যদিও আব্দুল রবের আনা অভিযোগ মানতে চাননি। শেখ সাহেব বলেন, তিনি বর্ধমান শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি। সেটাই আব্দুল রবের রাগের কারণ। পালটা অভিযোগে শেখ সাহেব জানান, ভোটের ফল ঘোষণার দিন দুপুরে তৃণমূল নেতা আব্দুল রবের নেতৃত্বে তার গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। আর এদিনও তাকে হাসপাতালে চত্বরে ডুকতে বাধা দেয় আব্দুল রবের দলবল। তারাই তাঁর অ্যাম্বুলেন্সটি পুকুরের জলে ফেলে দিয়েছে বলে শেখ সাহেব অভিযোগ করেছেন।

এই ঘটনা ছাড়াও রাজনৈতিক হিংসার ঘটনার জেরে তপ্ত থাকে জেলার কাটোয়া, মঙ্গলকোট ও মন্তেশ্বরে। বুধবার মঙ্গলকোটের গোতিষ্ঠা অঞ্চলের পিলসোয়া গ্রামে বিজেপি-তৃণমূলের সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে উভয় দলের কয়েকজন আহত হন। তার মধ্যে প্রিয়রঞ্জন কর্মকার ওরফে বাবু নামে এক বিজেপি কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর ঘাড়ে রামদার কোপ মারা হয়েছে। মঙ্গলকোট থানার পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে মঙ্গলকোটের নতুনহাটে ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে। সেখান থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার  অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মঙ্গলকোটের পাশাপাশি রাজনৈতিক হিংসার  ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে কাটোয়ার করজগ্রামের মুসলিম পাড়া। মঙ্গলবার রাতে এই এলাকায় বিজেপি ও তৃণমূলে মধ্যে সংঘর্ষের  ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৫ জন জখম হয়েছেন। জখমদের মধ্যে ৩ জন তৃণমূল কর্মী, ২ জন বিজেপি সমর্থক বলে এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে।

পাশাপাশি, মন্তেশ্বর থানার বন্ধুপুর মোড় এলাকায় এদিন বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। তা নিয়ে থানায় অভিযোগ জমা পড়তেই পুলিশ দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এদিনই কালনা আদালতে পেশ করে। একইভাবে সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে কালনা থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, কালনার অর্জুনা গ্রামে মঙ্গলবার অশান্তি বাধে। তা সামাল দিতে গ্রামে পৌঁছান কালনা-২ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা মহম্মদ আমানত আলি। হাঁসুয়ার কোপ মেরে তাঁকে জখম করার দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। কর্মাধ্যক্ষকে বাঁচাতে গিয়ে তৃণমূলের আরও পাঁচজন আহত হন। এই ঘটনায় জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এদিন কালনা আদালতে পেশ করে।