বহিরাগতকে প্রার্থীপদ থেকে সরানোর দাবিতে ব্যানার জামালপুরে

82

বর্ধমান, ২৩ মার্চঃ ভূমিপুত্র প্রার্থীর দাবি পুরণ হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভায় প্রার্থী করেছে বগিরাগত অলোক মাঝিকে। এ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন জামালপুর বিধানসভার তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকরা। সেই ক্ষোভের বহিপ্রকাশ দেখা গেল মঙ্গলবার সকাল থেকে দেখা গেল জামালপুর এলাকা জুড়ে। বহিরাগত প্রার্থী অলোক মাঝিকে মানছি না, মানবো না। জামালপুর বিধানসভায় ভূমিপুত্র প্রার্থী চাই। এমন ব্যানারে এখন ছয়লাপ জামালপুর। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে জামালপুরের রাজনৈতিক মহলে। ভোটের মুখে জামালপুরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ লড়াই চরমে ওঠায় বেজায় উৎফুল্ল বিজেপি শিবির। জামালপুর বিধানসভার বিজেপি আহ্বায়ক জীতেন ডকাল বলেন, তৃণমূলই ‘খেলা হবে’ স্লোগানের জনক।জামালপুরে সেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর খেলা এখন জমে উঠেছে। এখন মনে হচ্ছে ভোটের দিন সত্যি সত্যি ওরা “সাপ লুডো”খেলবে। জামালপুর বিধানসভার এবার পদ্ম ফুঁটবেই বলে তিনি দাবি করেছেন ।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণার অনেক আগে থেকেই জামালপুরের তৃণমূল নেতা ও কর্মীরা ভূমিপুত্র প্রার্থীর দাবি জানিয়েছিলেন। সেই সময়ে জামালপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন শ্রীমন্ত রায়। তাঁর অনুগতরা স্থানীয় ক্ষেত্রমোহন মাঝি অথবা অমল দলুইকে প্রার্থী করার দাবি তোলে। অপরপক্ষের নেতা তথা জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খানের অনুগামীরা এলাকার উচ্চ শিক্ষিত ভূতনাথ মালিককে প্রার্থী করার দাবি দলের কাছে জানিয়েছিলেন। কিন্তু, দলের নেতৃত্ব দুই পক্ষের দাবিকে নস্যাৎ করে। গলসি বিধানসভা থেকে
অলোক মাঝিকে তুলে এনে জামালপুর বিধানসভার প্রার্থী করে দেওয়া হয়। অলোক মাঝির নাম ঘোষনা হতেই মুষড়ে পড়েন মেহেমুদ খান ও তাঁর অনুগামীরা। তাঁরা সদলবলে অলোক মাঝির উপরে গোঁসা করে বসে থাকেন। তবে, ব্লক তৃণমূলের সভাপতি শ্রীমন্ত রায় দলীয় বাধ্যবাধকতা মেনে তাঁর অনুগতদের নিয়ে অলোক মাঝির হয়ে ভোট প্রচারে নেমে পড়েন পরিস্থিতির বদল ঘটে কয়েকদিনের মধ্যেই।

- Advertisement -

মেহেমুদ খানের মানভঞ্জন ঘটাতে ভোটের মুখেই গত ১৫ মার্চ দল শ্রীমন্ত রায়কে ব্লক সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে মেহেমুদ খানকে সভাপতি করে। এরপর সব অভিমান দূরে সরিয়ে মেহেমুদ খান তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে অলোক মাঝির হয়ে ভোটের প্রচারে নেমে পড়েন। তবে, রাজনীতির ময়দান থেকে একেবারে ভ্যানিস হয়ে যান শ্রীমন্ত রায় ও তাঁর অনুগামীরা। গত ৪ মার্চ সকাল থেকে জামালপুর যে ব্যানারে ছয়লাপ হয়। ব্যানারে লেখা হয়েছে, ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করা না হলে, ভোটের দিন সাপ লুডো খেলে দেবে জামালপুরের তৃণমূল কর্মীরা। আর এদিন যে ব্যানারে ফের ছয়লাপ জামালপুর তাতে লেখা রয়েছে, ভূমিপুত্র প্রার্থী চাই। বহিরাগত প্রার্থী অলোক মাঝিকে মানছি না, মানব না।

এদিনের ব্যানার প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী অলোক মাঝি বলেন, কারা কোথায় কি ব্যানার লাগাচ্ছে সেই বিষয়েটিতে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু দেখছিনি। এইসব বিরোধীদেরও কাজ হতে পারে। দল আমায় জামালপুর বিধানসভায় প্রার্থী করেছে। জামালপুরের নেতা ও কর্মীরা আমায় জেতানোর জন্য জোরদার লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন। সদ্য জামালপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া মেহেমুদ খান বলেন, অলোক মাঝি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধি মাত্র। রাজ্যের ২৯৪টি আসনে লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃতীয় বার মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য জামালপুরের তৃণমূল কর্মীরা লড়ছেন। ব্যানার লাগিয়ে কিছু লাভ হবে না। অলোক মাঝি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। অপরদিকে শ্রীমন্ত রায় বলেন, দলে আমাকে যোগ্য মানতে না পরে ব্লক সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তাই এখন আমার কোনও দায় নেই , দায়িত্বও নেই। কোথায় কে কি ব্যানার- ফেস্টুন ঝোলাচ্ছে সেই বিষয়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দেখবে। আমার এখন ওইসব দেখার এক্তিয়ারও নেই।