শহীদ পরিবারের অনুমতি ছাড়া মাল্যদান নয়, পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য

73

মেখলিগঞ্জ: তিন বিঘা শহীদ দিবসে ২৬ তারিখ মেখলিগঞ্জের কুচলিবাড়িতে উপস্থিত থাকবেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ একাধিক নেতৃত্ব সহ বিধায়ক। পাশাপাশি রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পরেশচন্দ্র অধিকারী সহ বিভিন্ন দলের একাধিক নেতৃত্বরাও উপস্থিত থাকবেন সেদিন। প্রস্তুতি তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে শহীদ বেদী সংলগ্ন এলাকায় পড়ল পোস্টার। তাতে আবেদন জানানো হয়েছে, শহীদ পরিবারের অনুমতি ছাড়া মাল্যদান না করার। ঘটনায় চাঞ্চল্য মেখলিগঞ্জে।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে তিনবিঘা করিডোর চুক্তি কেন্দ্র করে তিন বিঘা আন্দোলন হয়। তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটি ও কুচলিবাড়ি সংগ্রাম কমিটির আন্দোলনের শুরু করলেও বিভিন্ন দল সমর্থন করেন। এই আন্দোলনে তিনজন শহীদ হয়েছিলেন। তিনবিঘা চুক্তির সাক্ষর হয় ২৬ শে জুন। প্রত্যেক বছর এইদিনটিকে শহীদ দিবস পালন করা হয়। বিজেপি থেকে শুরু করে ফরওয়ার্ড ব্লক, তৃণমূল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের দেখা যায় শহীদ দিবসের দিন শহীদ বেদীতে মাল্যদান করতে। এবারও শহীদ দিবস পালন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বিশেষ করে ভারতের অখন্ডতার জন্য আন্দোলন হওয়ায় অন্যান্য দলের থেকে একটু বেশী গুরুত্ব দেয় বিজেপি। গত বছর বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ একাধিক রাজ্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারও দিলীপ ঘোষ সহ বিজেপির একাধিক বিধায়ক কুচলিবাড়িতে পৌঁছবেন ২৬ জুন।

- Advertisement -

বুধবার শহীদ পরিবারের তরফে মেখলিগঞ্জের চারুবাগানের ক্ষীতেন অধিকারী ও তিনবিঘা করিডরের সুধীর রায়ের শহীদ বেদীর পাশে পোস্টার লাগানো হয়। তাতে লেখা, দুঃখের সহিত জানানো হচ্ছে যে, আগামী ২৬ জুন শহীদ পরিবারের অনুমতি ছাড়া কেউ মাল্যদান করবেন না। এবিষয়ে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দলের নেতারা প্রত্যেক বছর মাল্যদান করে গেলেও বাকি সময় খবর নেন না। তিন বিঘা আন্দোলনের শহীদ সুধীর রায়ের ছেলে ভূপেন রায় বলেন, ‘শহীদ দিবসের দিন অনেক নেতা-নেত্রী আসলেও কেউ কোনও কথা রাখেনি। এমনকি শহীদ বেদী সংস্কার পর্যন্ত হয়নি।’ শহীদ ক্ষীতেন অধিকারীর ছেলে পুলক অধিকারী বলেন, ‘কার্যত লকডাউন পরিস্থিতিতে কিস্তির টাকায় কেনা টোটো চালিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে। কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছেন না।’ শহীদের পরিবারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত না যতদিন না হবে ততদিন কাউকেই লোক দেখানো মাল্যদান করতে দেওয়া হবে না।

বিজেপির যুব মোর্চার জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক জ্যোতি বিকাশ বলেন, ‘আমরা রাজ্যে এখনও ক্ষমতায় আসিনি। তবে শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে রয়েছি।’ তিনি আরও জানান, ২৬ জুন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ একাধিক নেতৃত্ব আসবেন। তার আগে আমরা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করব। অন্যদিকে তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটির নেতা তথা বর্তমান শিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পরেশচন্দ্র অধিকারী বলেন, ‘আমরা শহীদ দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়েছি। শহীদ পরিবারের সদস্যরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তবে আমি শহীদ পরিবারের পাশে সব সময় রয়েছি।’