শিবরাত্রির দিন শাসকদলের তারকা প্রার্থী সায়নী ঘোষকে ট্রোলড করে রানিগঞ্জে পোস্টার

139

আসানসোল: শিবরাত্রির দিন ফের ‘বুলাদির শিবরাত্রি’ ইস্যুতে আসানসোল দক্ষিণ বিধান সভার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা প্রার্থী সায়নী ঘোষকে ট্রোলড করে পোস্টার পড়ল রানিগঞ্জে। আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার রানিগঞ্জের বল্লভপুর পঞ্চায়েত এলাকার বহু জায়গায় সায়নীকে কটাক্ষ করে এমনসব পোস্টার দেওয়া হয়। তবে সেইসব পোস্টারে কোনও রাজনৈতিক দলের নাম নেই বলে জানা গেছে । নিজেদের শিবভক্ত বলে দাবি করে সায়নী ঘোষকে এবারের বিধান সভা নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে ঐসব পোস্টারে। বুধবার রাতে এইসব পোস্টার লাগানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার শিবরাত্রির সকাল থেকে ঐ এলাকার বাসিন্দাদের চোখে পড়ে সেইসব পোস্টার। তারপরেই গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

প্রসঙ্গত, বছর পাঁচেক আগে ‘বুলাদির শিবরাত্রি’ নামে একটি কার্টুন সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। সায়নী ঘোষ প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দান ও পরে আসানসোল দক্ষিণ বিধান সভায় প্রার্থী হওয়ার পরে সেই বিতর্কিত পোস্টটিকে ছবি করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার করা হচ্ছে। এদিনের পোস্টারে দেখা যায় দুটি ছবি মিলিয়ে পোস্টার তৈরি করা হয়েছে। একটি পাঁচ বছর আগের সায়নীর পোস্ট করা সেই কার্টুন। অন্যটি কয়েকদিন আগে ভোট প্রচারে বেরিয়ে রানিগঞ্জের জেকে নগরে সায়নীর শিব পুজোর ছবি। পোস্টারে কটাক্ষ করে লেখা হয়েছে, ‘আগামী পাঁচ বছর হিন্দু দেবদেবীকে অপমান করার জন্য সায়নী ঘোষকে জোড়া ফুল চিহ্নে ভোট দিন’। তার নীচেই লেখা ‘পবিত্র শিবলিঙ্গ কলুষিত করা জন্য সায়নী ঘোষকে ধিক্কার’। বিতর্কিত ছবির মাথায় লেখা ‘ভোটের আগে’, সম্প্রতি শিব পুজোর ছবির মাথায় লেখা ‘ভোটের সময়’।

- Advertisement -

পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি নেতা ও কর্মীরা শিবভক্তের নামে আড়াল থেকে এইসব কাজ করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন ওরফে দাসু এদিন বলেন, ‘বিজেপির কাছে কোনও ইস্যু নেই রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করার। তাই এইসব করে বেড়াচ্ছে ও ভোট নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তো মা দূর্গাকেই অস্বীকার করেছেন। মা দূর্গাকে অপমান করেছেন। যদি ওঁরা মা দূর্গাকে মানেন না, তবে দেবাদিদেব মহাদেব বা শিবকেও তো মানেন না। তাহলে কেন নির্বাচনে দেবদেবী নিয়ে আসছেন। ক্ষমতা থাকলে বিজেপি উন্নয়নের ইস্যুতে লড়াই করুক।

অন্যদিকে, আসানসোলের বার্নপুরে প্রচারে বেড়িয়ে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে সায়নী ঘোষ মাল্যদান করেছিলেন। সেই বিবেকানন্দের মূর্তিকে বিবেকানন্দ জন্মোৎসব কমিটির পক্ষ থেকে ৩০ কিলো দুধ, ২৯ লিটার গঙ্গাজল, ঘি ও মধু দিয়ে মূর্তিকে শোধন বা শুদ্ধ করা হয়। কমিটির সভাপতি তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যে স্বামীজি বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে হিন্দু ধর্মকে সর্বোচ্চ ধর্ম হিসাবে তুলে ধরেছিলেন। হিন্দু ধর্মের দেবদেবীকে যে অপমান করেছেন তাকে আমরা স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে মালা পড়াতে দেব না ঠিক করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ দিয়ে বলপ্রয়োগ করে এই কাজ করা হয়েছে। আমরা মূর্তি শোধন করে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করলাম।’

বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সম্পাদক বাপ্পা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সায়নী ঘোষ যা করেছেন সেই ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এখন সায়নীর বিরুদ্ধে যা হচ্ছে তা বিজেপিকে করার প্রয়োজন নেই। যারা হিন্দুত্ব মানেন তারা আঘাত পেয়েছেন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। সায়নী ঘোষ যা করেছেন তার ফল ভোটের ফলাফলেই তিনি হাতেনাতে পেয়ে যাবেন।’