কার্তিককে বিজেপি প্রার্থী তুলে ধরে পোস্টার, বিজেপি-তৃণমূল চাপানউতোর

472

কালিয়াগঞ্জ: কার্তিক পালকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে পোস্টার পড়ল কালিয়াগঞ্জ জুড়ে। আর এই পোস্টার ঘিরেই শুরু হল তৃণমূল বিজেপি চাপানউতোর। সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন কার্তিক পাল। আর এরপরই তাকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে পোস্টার পড়ে। পোস্টারে সৌজন্য হিসেবে নাম রয়েছে বিজেপি নেতা অমিত সাহা ও গৌরাঙ্গ দাসের। কার্তিক চন্দ্র পাল কালিযাগঞ্জের মাটিতে পা রাখতেই এই দুজনই তাঁকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেছিলেন। বিজেপি পোস্টারের এই দায় তৃণমূলের ঘাড়ে ঠেলে দিলেও এটিকে নব্য ও পুরনো বিজেপির অন্তর্কলহের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা অমিত সাহা এর পেছনে নিজের দলের কর্মীদেরও সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ রাখছেন না। এতে সব মিলিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে যাকে নিযে এত শোরগোল সেই কার্তিক চন্দ্র পালের সাথে যোগাযোগ না করতে পারায় তাঁর কোন অভিব্যাক্তি পাওয়া যায়নি।

বিজেপি নেতা অমিত সাহা বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমার রাজনৈতিক চরিত্র হননের চেষ্টা চলছে। কে বা কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তারা দলের না বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরা দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমি রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসুকে বিষযটি জানিয়েছি।’ পোস্টারে সৌজন্যে হিসেবে নাম থাকা রাজ্য বিজেপির নেতা গৌরাঙ্গ দাস বলেন, ‘আমিও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে কেউ বা কারা। আমাদের দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঠিক করেন কে প্রার্থী হবেন। দলের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কার্তিক পালকে কোনঠাসা করার জন্যই তৃণমূল চেষ্টা করে চলেছে।’

- Advertisement -

এই বিষয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী জানান, নোংরামি চলছে কালিয়াগঞ্জে।কার্তিক পাল বিজেপিতে যোগদান করায় তৃণমূলের রাতের ঘুম উড়ে গেছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বলব দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে প্রকৃত দোষীকে শাস্তি দেওয়া হোক। এই বিষয়ে কালিয়াগঞ্জের স্থানীয় তৃণমূল বিধায়াক তপন দেব সিংহ বলেন, ‘আমাদের রাহু এখন ওদের ঘরে সমাদৃত। তাই রাহুর প্রকটে সংসারে অশান্তি স্বাভাবিক বিষয়। আমাদের ওতো সময় নেই যে ওনাদের পোস্টার আমরা শহর, গ্রাম জুড়ে লাগিয়ে বেড়াব।’ এই বিষয়ে রাযগঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী জানান, ‘এই ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভারতীয় জনতা পার্টিতে রাতারাতি ঘরে বসে প্রার্থী নির্বাচন হয় না। সম্পূর্ণ সাংগঠনিকস্তরে চলে প্রার্থী নির্বাচনের কাজ। আমাদের দলে আদি ও নতুনের মধ্যে কোন রকম কোন্দল নেই। আমি কাউকেই দায়ি মনে করছি না। আমার মনে হয় না এটা কোন ইস্যু হতে পারে।