তৃণমূল নেতার তোলাবাজিতে কারখানায় আলুচাষ

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : ব্যাটারি তৈরির কারখানায় আলুর চাষ! অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের আর্থিক সাহায্য মেলার পরেও এই আলু চাষের নেপথ্যে হাত রয়েছে তৃণমূলের এক নেতার। তাই ক্লাস্টার তৈরির সিদ্ধান্ত যাঁরা নিয়েছিলেন, সেই শিল্পপতিরা বিপাকে পড়ে অবশেষে তৃণমূল নেতা মানবেন্দ্র রায়চৌধুরীর বিরুদ্ধে দ্বারস্থ হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে। ক্লাস্টারের তরফে তপন পাইন বলেন, সমঝোতার জন্য অনেকবার টাকা দিয়েছি। কিন্তু দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। তাই পুলিশে অভিযোগ দায়ে করেছি। এবার মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিচ্ছি।

ফাঁসিদেওয়ার লিম্বুটারির একটি ব্যাটারির ক্লাস্টার প্রোজেক্টকে কেন্দ্র করে সরাসরি তাই দাদাগিরির অভিযোগ এনেছে ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, কোম্পানি আইন মেনে ২০১১ সালে গঠন করা হয় শিলিগুড়ি স্টোরেজ ব্যাটারি ক্লাস্টার সার্ভিস। স্ক্র‌্যাপ ব্যাটারি রিসাইকল করে নতুন ব্যাটারি তৈরি করে বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল এই ক্লাস্টারের। প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে ৩ কোটি ১০ লক্ষ ৯৫ হাজার ২০০ টাকা এবং রাজ্যের তরফে প্রথমে ৬৫ লক্ষ ৭২ হাজার ও পরবর্তীতে বৈদ্যুতিকরণের জন্য ৪৭ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়। উৎপাদন চালুর জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও কেনা হয়। কিন্তু সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ থেকে যন্ত্রাংশ স্থাপন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষকে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তপন পাইন, সঞ্জয় আগরওয়ালরা।

- Advertisement -

সঞ্জয়বাবু জানান, ২৪ জন মিলে ক্লাস্টারটি তৈরি করেছিলেন। প্রত্যেককে দিতে হয়েছে প্রকল্প ব্যয়ের ১০ শতাংশ করে টাকা। কিন্তু কেন্দ্র-রাজ্যের পাশাপাশি তাঁদের টাকাও জলে গিয়েছে। লকডাউন শেষে তাঁরা কাজ শুরু করতে গেলে নতুন করে তাঁদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ তপনবাবুর। তিনি বলেন, বারবার টাকার দাবি করা হচ্ছে। আমাদের কত টাকা আছে যে মানবেন্দ্র রায়চৌধুরীকে দেব? কিন্তু তাঁর প্রভাব এতটাই বেশি যে, আমরা ট্রায়াল পর্যন্ত করতে পারছি না। ইতিমধ্যে কারখানার ৭টা মোটর চুরি হয়ে গিয়েছে। বাকি যন্ত্রাংশ ঠিক আছে কি না বুঝতে পারছি না। উনি ওই জমিতে আলু চাষ শুরু করেছেন বলে জানতে পেরেছি। পুলিশকে সমস্তটা জানিয়েছি। এবার মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছি। দার্জিলিং জেলা পুলিশের ডিএসপি (গ্রামীণ) অচ্যিন্ত গুপ্ত বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। গোটা ঘটনা গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

যদিও মানবেন্দ্রবাবুর সাফাই, জমির গরমিল রয়েছে। অন্যায়ভাবে জমির চরিত্র বদল করা হয়েছে। ছাড়পত্র দেওয়ার পাশাপাশি ক্লাস্টার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যেখানে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার কোটি কোটি টাকা দিয়েছে, সেখানে তিনি বাধা দেওয়ার কে, এই প্রশ্ন উঠেছে। ওই তৃণমূল নেতার বক্তব্য, গ্রামবাসীরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন কারখানাটির বিরুদ্ধে। তাঁরা কারখানাটির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করেছেন।