আলু চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন সীমান্তের চাষিদের

329

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ: করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই অনেকের অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় আলু চাষ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন আলু চাষিদেরও।

তাঁরা জানান, করোনার কারণে তাঁদের অনেকেরই চাষের কাজেও ব্যাঘাত ঘটেছে। এই অবস্থায় আলু চাষ করে পরিস্থিতি সামলে অনেকটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। কিন্তু চাষের প্রথমদিকেই তাঁদের বড় ধাক্কা খেতে হচ্ছে, কারণ আলু বীজের দাম অনেকটাই বেড়েছে।

- Advertisement -

সহিদুল ইসলাম, বেগম খাতুন সীমান্ত এলাকার অনেক চাষিরা বলেন, ‘এবার আলু বীজের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। পাশাপাশি সার, কীটনাশক সহ চাষের অন্য খরচও অনেকটা বেড়েছে। তার ওপর শ্রমিক পাওয়াও একটা সমস্যার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিষয়টি তাঁদের দারুণভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। খরচ কমাতে তাঁদের মতো অনেকেই আলু চাষের কাজে পরিবারের সদস্যদেরও শামিল করার চেষ্টা করছেন। নিজেরা বেশি শ্রম দিতে পারলে শ্রমিক খরচ কিছুটা কম হবে। এই জন্য অনেক জায়গায় বাড়ির মহিলা সদস্যদেরও শামিল হতে দেখা যাচ্ছে।’ পরিস্থিতি সামলাতে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও আলু চাষের কাজে সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে বলে বলেন বর্মন, আকালু মহম্মদদের মতো চাষিরা।

তবে বীজের দাম বেশি হলেও লাভের আশায় এবারও মেখলিগঞ্জ ব্লকজুড়ে আলু চাষ নিয়ে চাষিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ চোখে পড়ছে। তাঁদের দাবি, চাষের খরচ যেহেতু বেশি পড়ে যাচ্ছে তাই ফসল তোলার পর যাতে ভালো দাম পাওয়া যায় সেইদিকেও যেন প্রশাসনের তরফে নজর রাখা হয়। মেখলিগঞ্জ ব্লক কৃষি দপ্তরের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, সীমান্তের এই ব্লকেও ভালো আলু চাষ হয়। এবারও চাষিরা এই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বীজের দাম বেশি নিয়ে সমস্যার কথা কৃষকদের তরফে বলা হচ্ছে। কৃষকদের চাষ সম্পর্কিত বিষয়ে তাঁদের তরফে নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মেখলিগঞ্জ ব্লকের আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটি এলাকাতেই কমবেশি আলু চাষ হয়। গত কয়েক বছরে চাষের জমির পরিমাণও বেড়েছে। করোনার কারণে এবার পরিস্থিতি আলাদা হলেও আলু চাষের প্রতি উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, এবার প্রতি পঞ্চাশ কেজি আলু বীজের প্যাকেট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। গতবারও এই দাম অর্ধেক ছিল। এবার বিঘা প্রতি ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অবস্থায় ফলন ও দাম ভালো না পাওয়া গেলে তাঁদের আরও বিপাকে পড়তে হবে। বীজ সহ চাষের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকে চাষের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিতে চাইছেন। সীমান্ত এলাকার অধিকাংশ আলু চাষিই অবশ্য এবারও লাভের আশায় আলু চাষে নেমেছেন। করোনা পরিস্থিতির ঘাটতি পূরণ করতে চাইছেন। চাষের জন্য ধারদেনাও করতে হচ্ছে বলেও বহু চাষি জানিয়েছেন।