আকাশে মেঘের ভ্রূকুটি, খেত থেকে আলু তুলতে ব্যস্ত চাষিরা

105

গাজোল: সকাল থেকে মেঘলা আকাশ, ঝোড়ো হাওয়া, তার সঙ্গে ঝিরঝির বৃষ্টি এবং মেঘের গর্জন যেন ফেরাল বছর খানেক আগেকার স্মৃতি। গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারির রাতে অকাল বৃষ্টি এবং শিলা বৃষ্টির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন গাজোল ব্লকের কয়েক হাজার আলুচাষি। কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে জল জমে নষ্ট হয়ে যায় বিঘার পর বিঘা আলু। কান্নার রোল পড়ে যায় আলুচাষিদের মধ্যে। গতবারের ক্ষত বুকে নিয়ে এবারও কিছুটা লাভের আশায় আলু চাষ করেছিলেন চাষিরা। কিন্তু শনিবার সকাল থেকে বিরূপ আবহাওয়া যেন গত বছরের স্মৃতিকে উস্কে দিচ্ছে। আকাশের অবস্থা খারাপ দেখে সকাল থেকেই আলু তোলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাজোলের বিস্তীর্ণ এলাকার চাষিরা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জমি থেকে আলু তুলে নিয়ে যাচ্ছেন ঘরে। কয়েকদিন পর কিছু পরিমাণ আলু হিমঘরে মজুত করবেন তাঁরা। বাকি আলু বিক্রি করবেন বাজারে।

গাজোল ব্লকে প্রায় ২৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়ে থাকে। কয়েক হাজার চাষি যুক্ত আলু চাষের সঙ্গে। এদিনের আবহাওয়ার জেরে তাই স্বাভাবিকভাবেই আশঙ্কার কালো মেঘ দেখা দিয়েছে হাজার হাজার আলুচাষির মধ্যে।

- Advertisement -

এদিন দুপুরে গাজোলের মাতইল এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, খেতমজুরদের সঙ্গে নিয়ে জমি থেকে আলু তোলার কাজ চালাচ্ছেন চাষিরা। জমি থেকে আলু সংগ্রহ করে অতি দ্রুত তা বস্তাবন্দি করে আপাতত তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ঘরে। আলুচাষি জয়জিৎ সরকার, বীরেশচন্দ্র সরকার, থানেশ্বর সরকার, চন্দন ঘোষরা জানালেন, গতবছর ঠিক এই সময়ে অকাল বৃষ্টির জেরে বিঘার পর বিঘা জমির আলু নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রায় সমস্ত আলু পচে গিয়েছিল। দুর্গন্ধে ভরে গিয়েছিল চাষের জমি। এবারও যেন সেই আবহাওয়া ফিরে আসছে। এদিন সকাল থেকেই গোটা আকাশ মেঘলা। মাঝে মাঝে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সঙ্গে বইছে ঝোড়ো হাওয়াও। যার জেরে আশঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা। তাই সকাল থেকেই খেতমজুরদের সঙ্গে নিয়ে আলু তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

আলুচাষিদের কথায়, এবার আলু চাষে খরচ অনেক বেশি হয়েছে। বীজও কিনতে হয়েছে অনেক চড়া দামে। প্রথমদিকে পঞ্জাবের ফার্স্ট-কাট বীজের দাম ছিল প্রতি প্যাকেট ৪ হাজার টাকা। পরে সেই বীজের দাম হয়ে যায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা। গতবছর আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক চাষি আলু বীজ রাখতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দাম দিয়ে বীজ কিনতে হয়েছে। যার ফলে খরচ অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। এবার প্রতি বিঘায় আলু চাষ করতে খরচ হয়েছে মোটামুটি ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু সেই তুলনায় আলুর দাম পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকদিন আগে পর্যন্ত আলু বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকা কুইন্টাল। বর্তমানে সেই দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫০ টাকা কুইন্টাল। এই অবস্থায় কোনওরকম খরচটুকু উঠে আসছে। লাভ থাকে না বললেই চলে। ভোটের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কৃষকদের নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু পরে কাজের কাজ কিছুই হয় না। কৃষকেরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেলেও সরকারি তেমন সাহায্য মেলেই না বললেই চলে।

আলুচাষিরা জানান, গতবছর আলু চাষ করে সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু সরকারি সাহায্য মেলেনি। তবে যাঁদের জমি নেই তাঁরা ভুয়ো কাগজপত্র জমা দিয়ে সরকারি সাহায্য তুলে নিয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। গতবছরও সামান্য যে পরিমাণ আলু পেয়েছিলেন তা বিক্রি করেছিলেন পাঁচ থেকে ছয় টাকা কেজি দরে। তারপরে সেই আলুই তাঁরা বাজার থেকে কিনেছিলেন ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে। তাই নতুন সরকারের কাছে তাঁরা আর্জি জানাচ্ছেন, যেভাবে সহায়কমূল্য ধান কেনা হচ্ছে সেই ভাবে সহায়কমূল্য দিয়ে আলুও কেনা হোক। যদি সরকার ১০ টাকা কেজি দরে সহায়কমূল্য আলু কেনে তাহলে তাঁরা কিছুটা উপকৃত হবেন।