রায়গঞ্জে আলুর দাম আকাশছোঁয়া, বাজারে হানা দিল পুলিশ

749

রায়গঞ্জ: করোনার জেরে নাজেহাল গোটা দেশ। সাধারণ মানুষের আর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ। কিন্ত এই সুযোগে একাংশ অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে অন্যান্য আনাজপাতির সঙ্গে আলুর দাম আকাশছোঁয়া। অথচ মধ্যবিত্তের হেঁশেলে আলুকে বাদ দিয়ে রান্না করা অসম্ভব। রাজ্য সরকার আলুর দাম বেধে দিলেও রায়গঞ্জের পাইকারি ও খুচরো বাজারগুলিতে আলু বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার পুলিশ, কৃষি, মার্কটিং সোসাইটি ও ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা রায়গঞ্জের মোহনবাটিতে পাইকারি ও খুচরো বাজারে হানা দেয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখেন। সেই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রির নির্দেশ দেন।

এদিন রায়গঞ্জের বাজারগুলিতে পোখরাজ আলু কোথাও ৩০ থেকে ৩২ টাকা এবং জ্যোতি আলু ৩২ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। যদিও প্রশাসনের আধিকারিকেরা বাজারে ঢুকতেই ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, পোখরাজ ২৮ টাকা এবং জ্যোতি আলু ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। খুচরো বিক্রেতাদের দাবি, তাদের চড়া দামে আলু কিনতে হচ্ছে। তাই এত দাম। তাদের ৫০ কেজি পোখরাজ আলুর দাম পড়ছে ১২৫০ টাকা এবং জ্যোতি আলুর দাম পড়ছে ১৩৫০ টাকা। পাইকারদের দাবি, তারা পোখরাজ কিনছেন ১২১০ টাকা এবং জ্যোতি কিনছেন ১৩৫০ টাকা। যদিও দামটা হেরফের করে।

- Advertisement -

আলুর পাইকারি ব্যবসায়ী রাজেশ সাহা জানান, চাহিদা অনুযায়ী আলু আসছে না বলে দামটা বেশি। প্রতিদিন দাম পরিবর্তন হচ্ছে। এদিন আলু পাইকারদের গোডাউনে গিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকেরা ন্যায্য মূল্যে আলু বিক্রির পাশাপাশি রাসায়নিক মেশানো আলু বিক্রি করা যাবে না বলে সাবধান করে দেন। আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য গত সোমবার ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেন কৃষি, মার্কেটিং ও পুলিশ প্রশাসন।

এদিকে ক্রেতারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন বাজারে বিভিন্ন দাম নেওয়া হচ্ছে। অসিত দত্ত নামে এক ক্রেতা বলেন, মঙ্গলবার দেবীনগর বাজারে ৩০ থেকে ৩২ টাকা দরে আলু বিক্রি হয়েছে। এরকম কিছুতেই দেবে না বলে বিক্রেতা জানান। অরিন্দম কুন্ডু বলেন, বাজারে গিয়ে বুঝতে পারছি না আসলে আলুর দাম কত। রায়গঞ্জ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ী বলেন, আলুর উৎপাদন কম হওয়ায় এবারে বাজারে যোগান কম। সেই সঙ্গে মিড ডে মিলে এবং করোনার জন্য ত্রাণ সামগ্রী হিসাবে আলু দেওয়ায় বাজারে আলুর চাহিদা বেড়েছে। কিন্ত সেই মতো যোগান নেই। ফলে দাম কিছুটা বেড়েছে। কৃষি দপ্তর যদি কৃষকদের আলু উৎপাদনে উৎসাহিত করে ভালো হয়।

রেগুলেটেড মার্কেটিং সোসাইটির সেক্রেটারি বিরাজ কৃষ্ণ পাল বলোএন, আশাকর্মীদের কাছে অভিযোগ ছিল বেশি দামে বাজার গুলিতে আলু বিক্রি হচ্ছে। সেই অভিযোগ পেয়েই আমরা আজ বাজারে হানা দিই। পাইকারদের পাশাপাশি খুচরো ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রির জন্য বলে দিয়েছি। এরপরেও যদি তারা কথা না শোনেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।