শুভদীপ শর্মা, ময়নাগুড়ি : দীর্ঘদিন সংস্কারে অভাবে বেহাল সড়ক। পাশাপাশি নেওড়া নদীর সেতুর প্রবেশের মুখে বিরাট গর্ত। ফলে বিপদের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন ময়নাগুড়ি ব্লকের সিঙ্গিমারি, রাখালহাট, আমগুড়ি রামশাই গ্রাম পঞ্চায়েতের লক্ষাধিক মানুষ। প্রায় দিনই ঘটছে ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনা। রয়েছে প্রাণহানির আশঙ্কাও। এই বেহাল দশায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলাপরিষদ।

ময়নাগুড়ি-মালবাজারগামী ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের সিঙ্গিমারি মোড় থেকে একটি পাকা রাস্তা রাখালহাট হয়ে রামশাই পর্যন্ত চলে গিয়েছে। প্রায় ১৮ কিমি জেলাপরিষদের এই রাস্তা যেমন রামশাই, পানবাড়ি, রাখালহাট, সিঙ্গিমারির প্রায় হাজার পঞ্চাশেক মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ গরুমারায় বেড়াতে আসা পর‌্যটকদের কাছে। কারণ, রামশাইতেই রয়েছে গরুমারার অন্যতম মেদলা নজর মিনার। বর্ষার তিন মাস গরুমারার বাকি সব নজর মিনার বন্ধ থাকলেও সারা বছর পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে এই মেদলা। তাই লাটাগুড়ি বা জলপাইগুড়ি হয়ে রামশাইয়ে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল এই সড়ক। তাছাড়া তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের হাজার পঞ্চাশেক গ্রামবাসী, ছাত্রছাত্রী, মুমূর্ষু রোগী যাতায়াত করেন এই সড়কেই। এই পথ দিয়ে সিঙ্গিমারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াত করেন সকলে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে সড়কটি। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড়ো বড়ো গর্ত। বৃষ্টিতে সড়কের ভাঙা অংশগুলোতে জল জমে যায়। অনেকে বুঝতে না পেরে সেখান দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। পাশাপাশি সিঙ্গিমারিতে স্থানীয় নেওড়া নদীতে ওঠার মুখে বিরাট গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানেও বড়ো দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য অনানুর হক জানান, রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার না হলে সমস্যা আরও চরমে উঠবে। জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সহসভাধিপতি দুলাল দেবনাথ জানান, দ্রুত রাস্তা ও সেতুর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।