বায়না নেই, বড় প্রতিমা তৈরি করতে ভয় পাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা

প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার : করোনার থাবায় এবছর মৃৎশিল্পীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত কয়েক মাসে একাধিক উৎসবে নিয়মরক্ষার পুজো হয়েছে। ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় দুর্গাপুজোর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা। কিন্তু বড় পুজো কমিটিগুলি এখনও বায়না না দেওয়ায় বড় প্রতিমা তৈরি করার সাহস পাচ্ছেন না শিল্পীরা। প্রতি বছর বাঁশবেড়িয়া, কাঁচড়াপাড়া, কৃষ্ণনগর, কোচবিহার, শিলিগুড়ি থেকে মৃৎশিল্পীরা আলিপুরদুয়ারে আসেন। কিন্তু এবার করোনার প্রকোপে তাঁদেরও দেখা নেই। ফলে দক্ষ শিল্পীর অভাবও দেখা দিচ্ছে। সব মিলিয়ে চিন্তায় পড়েছেন আলিপুরদুয়ারের মৃৎশিল্পীরা।

জুলাই মাস শুরু হলেও অনেক মৃৎশিল্পী এখনও দুর্গা প্রতিমা তৈরি শুরু করেননি। অন্য বছর আরও আগেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। মৃৎশিল্পীদের একটি একটা বড় অংশ মাটির সামগ্রীও তৈরি করেন। লকডাউনের ফলে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ায় এই সামগ্রীর বিক্রি কমেছে। আলিপুরদুয়ার শহরের হাটখোলা, নিউটাউন বাজার, বিধানপল্লি, নোনাই সহ একাধিক অঞ্চলের মৃৎশিল্পীরা জানিয়েছেন, আগামীদিনে কী হবে, সেই নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।

- Advertisement -

চিকলিগুড়ি, বারোবিশা, মাদারিহাট, ফালাকাটা সহ আলিপুরদুয়ারে মাটির পাত্র ও মূর্তি তৈরির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কয়েকশো মৃৎশিল্পী। লকডাউনের শুরুতে বাসন্তীপুজো, হালখাতার মতো বিভিন্ন উৎসব বন্ধ থাকায় সেই সময়ে প্রতিমাই এখনও রয়ে গিয়েছে। মৃৎশিল্পী বাবুল পাল বলেন, এবছর বড় কাজে করার সাহস পাচ্ছি না। এখনও কোনও বড় অর্ডার আসেনি। আরেক মৃৎশিল্পী মিত্র পাল বলেন, বাইরের শিল্পীরা আসছেন না, ফলে দক্ষ কারিগরের অভাব রয়েছে। এছাড়াও মৃৎশিল্পের সঙ্গে শোলার অলংকার, পাটের চুল ইত্যাদি শিল্পের কারিগরদের যোগ রয়েছে। মৃৎশিল্পীদের অনিশ্চয়তা তাঁদেরও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

মৃৎশিল্পী সমিতির তরফে গোপাল পাল জানান, প্রতি বছর কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৃত্শিল্পীরা আলিপুরদুয়ারে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করতে আসেন। কিন্তু এবছর তা সম্ভব হচ্ছে না। বড় বাজেটের কোনও অর্ডারও আসেনি। তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে ছোট মূর্তি গড়ার দিকেই ঝুঁকছেন। আলিপুরদুয়ার টাউন ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে বলেন, আমরা প্রতি বছর পুজো কমিটিগুলির পাশে যেভাবে দাঁড়াই, এবার সেভাবে দাঁড়াতে পারব না। তবে কয়েক মাস এখনও সময় রয়েছে। বড় বড় পুজো কমিটিও এবছর নতুন চিন্তাভাবনা করবে বলে মনে হয়।