পুজোর প্রতিমা তৈরির বরাত বাতিল, বিপাকে রায়গঞ্জের মৃৎশিল্পীরা

360

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: লকডাউন কতদিন চলবে তা নিয়ে কেউ নিশ্চিত নন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দেশজুড়ে লকডাউন জারি করেছে। সাধারণ মানুষ এই লকডাউনকে পুরোপুরিভাবেই সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। বাসন্তী ও বাংলা নববর্ষের গণেশ পুজো বাতিলের পর এবার দুর্গাপুজো কী নামমাত্র সারবেন উদ্যোক্তারা? এই নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

ইতিমধ্যে রায়গঞ্জ শহরের বেশ কয়েকটি বড় বাজেটের পুজোর উদ্যোক্তারা এবার নামমাত্র পুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে তাঁরা প্রতিমা তৈরির বরাত বাতিল করে এসেছেন। সাধারণত প্রতিবছর নববর্ষের পর দুর্গা প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেন শিল্পীরা। কিন্ত এবছর সেই ব্যস্ততা এখনও শুরু হয়নি রায়গঞ্জের কুমোরটুলিতে।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: চিন থেকে আমদানি করোনা কিট বেজিং ফেরত পাঠাচ্ছে নয়াদিল্লি

একের পর এক বরাত বাতিল হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিল্পীরা। যদিও দেশের স্বার্থে লকডাউনকে মেনে নিয়েছেন তাঁরা। মৃৎশিল্পী ভানু পাল, নান্টু পাল, অর্পিতা পাল সহ আরও অনেকেই এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। একদিকে মারন রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি, অন্যদিকে রুজি রোজগারে টান পড়েছে। কারণ একের পর এক প্রতিমার বরাত বাতিল হচ্ছে।

পুজোর প্রতিমা তৈরির বরাত বাতিল, বিপাকে রায়গঞ্জের মৃৎশিল্পীরা| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

রায়গঞ্জের বিশিষ্ট মৃৎশিল্পী ভানু পাল জানান, বাসন্তী ও গণেশ পুজোর প্রতিমা তৈরি করে এবার বিপাকে পড়েছি। কারণ নমো নমো করেই পুজো সেরেছেন সকলে। প্রতিমার বরাত দিয়েও শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাননি। যদিও কিছু করার ছিল না। কারণ এই মারণ রোগ আগে প্রতিরোধ করতে হবে। তবে ভেবেছিলাম দুর্গা পুজোয় ক্ষতিটা কিছুটা পুষিয়ে যাবে। কিন্ত সব আশাতেই জল ঢেলে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘যেভাবে একের পর এক প্রতিমার বরাত বাতিল করছেন উদ্যোক্তারা, তাতে দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছি। কারণ সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এই বড় কাজের ওপর। রায়গঞ্জের বেশ কয়েকটি ক্লাব প্রতিমার অর্ডার বাতিল করে দিয়ে গিয়েছে। তারা পুজো বাতিল করলেও হয়তো নাম মাত্র করবেন।

আরও পড়ুন: বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত শহর, বাজ পড়ে মৃত এক

রায়গঞ্জের অপর মৃৎশিল্পী অর্পিতা পাল তাঁর স্বামী গণেশ পালের মৃত্যুর পর এই পেশাকে আকড়ে ধরেন। কয়েকবছর ধরে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। কিন্ত এইবছর লকডাউনের জন্য সবকিছুই এলোমেলো হয়ে গেল। অর্পিতাদেবী জানান, করোনা সংক্রমণে এবছর দুর্গাপুজো হবে কিনা তা নিয়ে চিন্তায় আছি। কারণ একের পর এক অর্ডার বাতিল হচ্ছে।

প্রতিমাশিল্পী নান্টু পাল বলেন, ‘মানুষকে আগে সুস্থ রাখতে হবে। তাই আমাদের সরকারি নির্দেশকা মেনে চলতে হবে। প্রতিমার বরাত না পেলে আমাদের মতো শিল্পীরা সমস্যায় পড়বেন।’ একই দাবি শিল্পী দুলাল পাল, গৌতম পাল সহ আরও অনেকের।

এই বিষয়ে জেলা শিল্প অধিকর্তা সুনীল সরকার জানান, মৃৎশিল্পীদের বিষয়টি মাথায় রয়েছে। সরকারের নিশ্চয় পরিকল্পনা রয়েছে।