ভাতার থেকে বঞ্চনার অভিযোগ মৃৎশিল্পীদের

254

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: লোকশিল্পী ভাতাতেও ‘কাটমানি’র ছায়া। প্রকৃত অভাবী অসহায় লোকশিল্পীদের একাংশকে বঞ্চিত করে চুপিসারে অবৈধ উপায়ে সচ্ছল পরিবারের শখের গান বাজনা করা ব্যক্তিদের পকেটে ফি মাসে ঢুকছে ‘লোক প্রসার প্রকল্পে’র বরাদ্দ অর্থ। মধ্যখান থেকে যোগ্য দুঃস্থ শিল্পীরা সরকারি প্রকল্পের বাইরে রয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে অন্য পেশায় যুক্ত থেকেও রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে রীতিমতো বেআইনিভাবে একাধিক ব্যক্তির নামে ওই প্রকল্পের বরাদ্দ মাসে হাজার টাকা ভাতা ব্যাঙ্ক একাউন্টে জমা হচ্ছে।

উত্তর দিনাজপুর জুড়ে কয়েক বছর ধরে শিল্লী ভাতার নামে অনিয়মটাই যেন দস্তুর। বস্তুত, বাউল, বাওয়াইয়া, ক্ষনগান, সংকৃর্তন প্রভৃতি লোকগান থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে কিংবা তফসিলি ও আদিবাসী নৃত্য সহ লোক নৃত্যের সংস্কৃতির সঙ্গে পরম্পরায় জড়িত পরিবারের শিল্পীরাই মূলত এই প্রকল্পের প্রকৃত উপভোক্তা। এই ভাতার উপরেই অনেক শিল্পীর সংসার নির্ভরশীল। তার উপরে করোনার আবহে দীর্ঘ আট মাস ধরে বাইরের মেলা অনুষ্ঠানে পারফরম্যান্স সম্পূর্ণ বন্ধ। এমনকি বিভিন্ন সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থা আয়োজিত গান বাজনার আসরও পুরো স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় সবধরনের জলসার আয়োজন স্থগিত রয়েছে। ফলে অসহায় গ্রামীণ এলাকার লোকশিল্পীর আর্থিক অবস্থা ভীষণ সঙ্গিন। অথচ এই অবস্থায় আর্থিক সঙ্গত সম্পন্ন একাধিক ব্যক্তি উপভোক্তার সুযোগ নিয়ে ভাতার টাকা তুলছেন। ফলে আসল গরিব পরিবারের লোকশিল্পীরা ওই সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দ টাকা থেকে হাতছাড়া হতে হচ্ছে।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ ও ইসলামপুর মহকুমার প্রত্যন্ত গ্রামের বহু দুর্বল লোকশিল্পী প্রকল্পের সম্বন্ধে পুরো অন্ধকারে। আর এই সুযোগে অন্য পেশায় প্রতিষ্ঠিত কেউ কেউ শিল্পীভাতার প্রকল্পে উপভোক্তার টাকা তুলছেন। জেলা লোকপ্রসার প্রকল্প তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সারা উত্তর দিনাজপুরে ১৩ হাজার ৮৫০ জন উপভোক্তা লোকপ্রসার প্রকল্প অর্থাৎ শিল্পী ভাতার আওতাধীন রয়েছে।
জেলা আধিকারিক রানা দেব দাসকে একাধিকবার ফোন করেও কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

তবে রায়গঞ্জ মহকুমাশাসক অর্ঘ্য ঘোষ বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।‘
অন্যদিকে ইসলামপুর মহকুমা শাসক অলঙ্কৃতা পান্ডে অবশ্য বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণ হলে বাতিল করা হবে অন্য পেশার উপভোক্তাদের।‘

মৃৎশিল্পী অমল দাস বলেন, ‘আমি কুড়ি বছর যাবৎ মূর্তি তৈরি করছি। একাধিকবার আবেদন করেও এখনও পর্যন্ত পাইনি শিল্পী ভাতা।‘

ভবানী দাস বলেন, ‘করোনার জন্য প্রতিমা বিক্রি প্রায় বন্ধের মুখে। চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে ভুগছি। আমরা শিল্পী হয়েও এখনো পর্যন্ত এখনো পর্যন্ত জুটছে না আমাদের শিল্পী ভাতা।‘

সুভাসগঞ্জের পট শিল্পী নমিতা পাল বলেন, ‘৬৫ বছর বয়স হয়ে গেল ৪০ বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে এই কাজ করছি। একাধিকবার আবেদন-নিবেদন করেও মেলেনি শিল্পী ভাতা।‘ একই কথা বললেন নমিতা দেবীর স্বামী পরেশ চন্দ্র পাল। ৪০ বছর ধরে এই কাজ করলেও মেলেনি শিল্পী ভাতা।

মৃৎশিল্পী চিত্তরঞ্জন পাল বলেন, ‘শিল্পী ভাতার জন্য কর্ণজোড়ায় একাধিকবার আবেদন-নিবেদন করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এদিকে করোনা আবহে মূর্তি বিক্রির পরিমাণেও ভাটা পড়েছে। সব প্রতিমা বিক্রি হয়নি। চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে আমাদের।‘