মালদায় জাতীয় সড়কের ধারে পড়ে রয়েছে পিপিই

কল্লোল মজুমদার, মালদা : ক্রমেই মালদা জেলার গলায় করোনা থাবা চেপে বসছে। এই পরিস্থিতিতে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের একটি দৃশ্য দেখলে চমকে উঠতে হয়। ৩৪ জাতীয় সড়কের দিক দিয়ে মেডিকেলে ঢোকার মুখে একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে রাস্তায় ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পিপিই, গ্লাভস, রক্ত পরীক্ষার ভায়াল সহ নানারকম মেডিকেলের বর্জ্য। বৃষ্টিতে সেই বর্জ্য ভেসে চলে আসছে মেডিকেলের প্রবেশদ্বারে। কখনও বা ভেসে বেড়াচ্ছে জাতীয় সড়কের ওপর। এই নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে মেডিকেলে আসা মানুষের মধ্যে। বিষয়টি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের জানা থাকলেও এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তাঁরা। যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেডিকেল কর্তা এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকার নির্দেশিত বর্জ্য নিষ্কাশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছেন। যদিও ঠিকাদার সংস্থার দাবি, এক্ষেত্রে তাঁদের কোনও দোষ নেই। মেডিকেল কর্তৃপক্ষ বিপজ্জনক এই বর্জ্য মজুত করার কোনও জায়গা দিতে পারছে না। তেমনি কোনও ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না।

ইতিমধ্যে মালদা জেলায় করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা দুই হাজার ছুঁইছুঁই। মালদা শহরেই সেই সংখ্যাটা পৌঁছে গিয়েছে সাড়ে চারশোয়। মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। এরই মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে এই জেলার করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রামিতদের চিকিৎসার জন্য মালদা মেডিকেলের ট্রমা কেয়ার ইউনিটের তৃতীয়তলে গত ২২ জুলাই নতুন করে একটি কোভিড হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে। এই হাসপাতালে একসঙ্গে ১২৫ জন করোনা সংক্রামিতের চিকিৎসা করা সম্ভব। হাসপাতালের একটি সূত্র জানাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত ওই কোভিড হাসপাতালে নয়জন সংক্রামিত ভর্তি হয়েছেন। তবে তার আগেই মালদা মেডিকেলে চালু হয়েছে সারি ওয়ার্ড। করোনা উপসর্গযুক্ত রোগীদের সেখানে ভর্তি করে চিকিৎসা করা হয়। এই মুহূর্তে সারি ওয়ার্ডে ৫০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই দুই ওয়ার্ডের কর্মরত চিকিৎসাক, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করলেও সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলা হচ্ছে। হাসপাতালের অন্য বর্জ্যর সঙ্গে সারি ও কোভিড হাসপাতালের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে জাতীয় সড়কের ধারে গড়ে তোলা ওয়েস্ট ডিস্পোজাল ঘরগুলিতে। যদিও ঘরগুলি ছোট হওয়ায় তা উপচে জাতীয় সড়কের ওপর চলে এসেছে। এই বর্জ্যর মধ্যে রয়েছে বিপজ্জনক হলুদ ব্যাগও। কারণ, সারি ওয়ার্ড ও কোভিড হাসপাতালে ব্যবহৃত জিনিসপত্র হলুদ ব্যাগে করে ফেলার নির্দেশ রয়েছে। অন্যান্য বর্জ্যর সঙ্গে প্রতিদিন পথকুকুরের দল হলুদ ব্যাগ ছিঁড়ে ফেলে বিপজ্জনক সামগ্রী বাইরে রাস্তার ওপরে এনে ফেলছে। যা থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এদিন মালদা মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য আসা মানিকচকের বাসিন্দা রফিকুল শেখ জানান, হাসপাতালের যা পরিস্থিতি, তা দেখে আমরা আতঙ্কে রয়েছি। জাতীয় সড়কের ধারে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

এক ট্যাক্সিচালক সুব্রত পোদ্দার বলেন, আমরা এই নিয়ে বারবার সাফাইকর্মীদের বলেছি। কিন্তু সাফাইকর্মীরা আমাদের কথার কোনও গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আর এক গাড়ির চালক কৃষ্ণ সিংহ বলেন, করোনা মোকাবিলায় যখন লকডাউন হচ্ছে, তখন মেডিকেল থেকে এই জাতীয় বিপজ্জনক বর্জ্য রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হচ্ছে। যা আমরা দেখতে পাচ্ছি তাতে মনে হচ্ছে করোনা মোকাবিলায় মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ আন্তরিক নয়। মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, বজর্য নিষ্কাশনের জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর যে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে তারা উত্তরবঙ্গের সমস্ত হাসপাতালে এই কাজ করে। কিন্তু তারা সঠিকভাবে কাজ করছে না। ১০ থেকে ১২ দিন অন্তর বর্জ্য পরিষ্কার করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু সারি বা কোভিড ওয়ার্ডেরই নয়, সমস্ত ওয়ার্ডেরই বর্জ্য রয়েছে।

এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মেডিকেল অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় সাংবাদমাধ্যমকে জানান, ওই বেসরকারি সংস্থা নিয়মিত পরিষ্কার করছিল। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখন তারা বর্জ্য নিষ্কাশনে দেরি করছে। আমরা এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এক্ষেত্রে মেডিকেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা বিষয়টি দেখছেন। সম্প্রতি রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরও এই সমস্যা নিয়ে একটি অ্যাপ বানিয়েছে। আমরা সেই অ্যাপের মাধ্যমে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে নিয়ে এসেছি। যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধান করা হবে। একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মালদা মেডিকেলের সুপার অমিতকুমার দা বলেন, পিপিইগুলি চিকিৎসকদের নয়। অন্য কোথা থেকে এসেছে। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।