বাণগড়ে অসম্পূর্ণ খনন পুনরায় চালুর আশ্বাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

197

গঙ্গারামপুর: প্রত্ন নিদর্শন ও ইতিহাসের এক ভাণ্ডার বছরের পর বছর ধরে চাপা পড়ে আছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বাণগড়ে। অসম্পূর্ণ খনন হয়ে অবহেলায় পড়ে রয়েছে এই ঐতিহাসিক নিদর্শন। এবার সেই খননের কাজ পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল। পাশাপাশি, জেলার বিভিন্ন মন্দিরের প্রয়োজনীয় সংরক্ষণেরও আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর এই আশ্বাস এবং সদর্থক মনোভাব প্রদর্শনের পর রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ইতিহাস গবেষক সহ বিশিষ্টজনেরা।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ গঙ্গারামপুর ব্লকের অন্তর্গত ইতিহাস প্রসিদ্ধ বাণগড়ে এসে পৌঁছোন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর হেরিটেজ সোসাইটির অন্যতম সদস্য অভিজিৎ সরকার, নীলব্জা রায়, বিজেপি জেলা সভাপতি বিনয় কুমার বর্মন সহ বিশিষ্টজনেরা। এদিন ইতিহাস প্রসিদ্ধ বাণগড়ের বিভিন্ন অংশ এবং ধ্বংসাবশেষ দীর্ঘক্ষণ ধরে পর্যবেক্ষণ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সেইসঙ্গে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার প্রতিনিধির সঙ্গে বাণগড়ের বিষয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণগড়ের খননকাজ এতদিন ধরে বন্ধ রয়েছে কেন? এ বিষয়েও প্রশ্ন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। যদিও বাণগড়ের সমস্ত অংশ পরিদর্শন করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। এরপর বাণগড় সংলগ্ন এলাকায় মিউজিয়াম তৈরি এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রাচীন মন্দির সংরক্ষণের দাবিতে দক্ষিণ দিনাজপুরের হেরিটেজ সোসাইটির তরফে মন্ত্রীর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তুলে দেওয়া হয় জেলার তথ্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন বইও। এরপর ইতিহাস প্রসিদ্ধ বাণগড়ের বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর হেরিটেজ সোসাইটির অন্যতম সদস্য অভিজিৎ সরকারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

- Advertisement -

বাণগড় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘বাণগড় অত্যন্ত প্রাচীন ঐতিহাসিক সভ্যতার একটি নিদর্শন। ৭০০ একর জায়গায় ছড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন স্থলের প্রথম উদ্বোধন করেছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। এটি অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এরপর ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাণগড় খনন করা হয়েছে।’

বাণগড় পুনরায় খননের প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘বাণগড়ের মতো প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থানের সম্পূর্ণ খনন করা হবে। আমি খননের অনুমতি দিয়েছি। তবে এই জমিতে রাজ্য সরকার পাট্টা বিলি করেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে আমি আরও বেশি তথ্য নেব। তবে এখানে খনন করা মানে শুধু মাটি খোড়া নয়, তার উপযুক্ত সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা হবে।’ পাশাপাশি, বাণগড় এবং সংলগ্ন এলাকায় যদি কোনও ২০০ থেকে ৭০০ বছরের পুরোনো মন্দির অথবা ঐতিহাসিক স্থল থাকে তাহলে সেগুলি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়া যাবে। পরবর্তীতে সেগুলি নিয়ে কাজ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।