প্রণবের আত্মজীবনী ঘিরে ছেলে-মেয়ের ঝগড়া প্রকাশ্যে

419
ফাইল ছবি

প্রসেনজিত দাসগুপ্ত, নয়াদিল্লি: প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের লেখা শেষ আত্মজীবনী নিয়ে প্রকাশ্যে টুইট যুদ্ধে মাতলেন প্রণববাবুর ছেলে-মেয়ে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় ও শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়। একজন চান, তাঁর অনুমতি ব্যতিত এই বই যেন প্রকাশিত না হয়। অন্যজন চান, কোনও বিতর্ক ছাড়াই বাবার লেখা শেষ বইটি প্রকাশিত হোক। বলা বাহুল্য প্রণব মুখোপাধ্যায়ের লেখা আত্মজীবনীর শেষাংশ ‘দ্য প্রেসিডেনশিয়াল ইয়ার্স’ নিয়ে এভাবেই গৃহযুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়েছে মুখোপাধ্যায় পরিবারে।

বিতর্কের সূত্রপাত প্রণববাবুর জন্মদিন থেকে। গত ১১ ডিসেম্বর ৮৫ বছরে পা দেন দেশবরেণ্য প্রয়াত এই বাঙালি রাষ্ট্রপতি। সেই দিন এক আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা থেকে জানানো হয়, আগামী বছর জানুয়ারি মাসে প্রকাশ্যে আসবে প্রণববাবুর লেখা তাঁর আত্মজীবনীর শেষাংশ ‘দ্য প্রেসিডেনশিয়াল ইয়ার্স’। একই সঙ্গে জল্পনা ছড়ায় রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রবেশ থেকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া পর্যন্ত তাঁর যাবতীয় তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এই বই-তে। তবে একই সঙ্গে বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায় এও জল্পনা ছড়ায় যে এই বইতে সনিয়া গান্ধী ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডা. মনমোহন সিং-এর ইউপিএ জমানার তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রণব।

- Advertisement -

২০১৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির ব্যাখা, মনমোহন ও মোদির মধ্যে তুলনামূলক বিচারের মত একাধিক বিতর্কিত অধ্যায় তুলে ধরেছেন প্রণব এই বইতে যা অস্বস্তিতে ফেলতে পারে কংগ্রেসকে। এরপরেই এদিন অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় উক্ত প্রকাশক সংস্থার প্রতি টুইট করে বলেন, ‘লেখকের ছেলে হিসেবে অনুরোধ করছি, এই বইয়ের প্রকাশনা বন্ধ করুন।’ তিনি এও বলেন, বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে তাঁর অনুমতি ছাড়াই বইয়ের খণ্ডাংশ ছাপা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ যা প্রয়াত রাষ্ট্রপতির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই সত্য যাচাই না হওয়া পর্যন্ত বইটির প্রকাশ বন্ধ রাখার আর্জি জানান প্রণব পুত্র, প্রাক্তন সাংসদ অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়।

এর পরেই প্রকাশ্যে দাদার বিরুদ্ধে সরব হন প্রণব দুহিতা শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়। অভিজিতের পালটা টুইট করে তিনি বলেন, ‘লেখকের মেয়ে হিসেবে আমার দাদাকে বলছি, বাবার লেখা শেষ বইটির প্রকাশে অহেতুক বাধার সৃষ্টি করবেন না। অসুস্থ হওয়ার আগেই তিনি সংশ্লিষ্ট বইয়ের কাজ শেষ করেছিলেন।’

কংগ্রেস মহিলা মোর্চার নেত্রী শর্মিষ্ঠা বলেন, ‘বইটির মূল পাণ্ডুলিপি বাবা (প্রণব) নিজের হাতে লিখেছিলেন। এই বইতে যা কিছু লেখা সেটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত। কেউ সস্তার প্রচারের জন্য তা বন্ধ করার চেষ্টা করলে তা গর্হিত অপরাধ ও একইসঙ্গে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির প্রতি নিদারুণ অসৌজন্য ও অশ্রদ্ধার নিদর্শন।’ তাঁর টুইটে দাদার লেখা বইয়ের ভুল নামও শুধরে দেন শর্মিষ্ঠা। প্রণব লিখিত আত্মজীবনীর নাম ‘দ্য প্রেসিডেনশিয়াল ইয়ার্স’ যা অভিজিৎ ভুল করে ‘দ্য প্রেসিডেনশিয়াল মেমোয়ার্স’ লেখেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রকাশিত হওয়ার আগেই প্রচারের শিরোনামে উঠে এল প্রণব মুখোপাধ্যায়ের লেখা আত্মজীবনীর শেষাংশ ‘দ্য প্রেসিডেনশিয়াল ইয়ার্স’। কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই বই নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বইটির প্রকাশের স্বপক্ষেই মত দিয়েছেন। অনেকে এও মনে করছেন, প্রণব পুত্র অভিজিতের উপর চাপ সৃষ্টি করছে কংগ্রেস হাইকম্যাণ্ড। প্রণবের আত্মজীবনীর জেরে দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এই বই বের হোক, তা চায় না কংগ্রেস। সেজন্য অভিজিৎ-কে সামনে রেখে এই বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ বন্ধ করতে চায় তারা।

বই প্রকাশ নিয়ে মুখোপাধ্যায় পরিবারে যেরকম গৃহযুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে, সেটা বেনজির বলে মনে করছেন অনেকেই। ভারতরত্ন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের শেষ আত্মজীবনী ‘দ্য প্রেসিডেনশিয়াল ইয়ার্স’ যাবতীয় বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে মুক্তির আলো দেখতে পায় কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।