অবশেষে গ্রেপ্তার বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা প্রসেনজিৎ রায়

94

শিলিগুড়ি: দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হল শিলিগুড়ির বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা প্রসেনজিৎ রায়। সোমবার দুপুরে অসম সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার সাত দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে নিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছোয় পুলিশ। সেখান থেকে তাকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে পাঠানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ির কোনও পুলিশকর্তা সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে চলতি মাসের ৪ তারিখ নিউ জলপাইগুড়ি থানা এলাকার ইনল্যান্ড কন্টেনার ডিপোতে ভাঙচুর এবং কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, তৎকালীন এনজেপির আইএনটিটিইউসি ইউনিট সভাপতি প্রসেনজিৎ রায়ের নেতৃত্বে ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাস্থলে চলে সাত রাউন্ড গুলিও। মুখ্যমন্ত্রী শহরে থাকাকালীন তাঁর দলেরই নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠে। এবিষয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি স্থানীয় নেতাদের ডেকেও ধমক দেন। এদিকে, শিল্পমহল থেকেও ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া মেলে। এরপরেই ঘটনাস্থল থেকে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু সেই সময় এলাকা থেকে পালিয়ে যায় প্রসেনজিৎ রায়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে খোদ পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের বিধানসভা কেন্দ্রে এই ঘটনায় দল অস্বস্তিতে পড়ে। পরিস্থিতি না বদলালে শিল্প গোটানোর হুমকি দেন ব্যবসায়ীরা। এরপরেই তড়িঘড়ি প্রসেনজিৎকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কার হতেই প্রসেনজিতের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। ময়দানে নামানো হয় সিআইডিকেও।

- Advertisement -

পুলিশের সন্দেহ ছিল, হয় বিহার নয়তো অসমের দিকে পালিয়েছে প্রসেনজিৎ। অসমের শিবসাগর, দেওচড়াই, তিনসুকিয়া ও ডিব্রুগড় জেলায় প্রসেনজিৎ ঘোরাফেরা করছে বলে পুলিশ জানতে পারে। সাপেকাঠি গ্রামে তার মামার বাড়িও রয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। এরপরই নিউ জলপাইগুড়ি পুলিশের চারজনের একটি দল সেখানে গিয়ে ঘাঁটি গাড়ে। এরপর গতকাল একটি সাদা গাড়িতে করে প্রসেনজিৎ নিজেই গাড়ি চালিয়ে বের হতেই রাস্তা আটকে দাঁড়ায় পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় দাপুটে নেতাকে।

এদিন শিলিগুড়িতে নিয়ে এসে তাকে ভক্তিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও শিলিগুড়িতে পৌঁছে প্রসেনজিৎ জানিয়েছে, তার এলাকায় গণ্ডগোল হয়েছিল বলে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যদিও তাকে ফাঁসানো হয়নি বলেই দাবি করেছে প্রসেনজিৎ।