‘আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’, দাবি প্রসেনজিতের

156

শিলিগুড়ি: ‘ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’ বুধবার আদালতে যাওয়ার পথে এমনটাই দাবি করলেন ধৃত প্রসেনজিৎ রায়। এনজেপি কাণ্ডে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতার এই মন্তব্যের জেরে শহরজুড়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। পাশাপাশি, মা-মাটি-মানুষের দলেই তিনি থাকবেন বলেও এদিন জানান প্রসেনজিৎ।

বুধবার প্রসেনজিৎকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে পাঠায় ভক্তিনগর পুলিশ। থানা থেকে বেরিয়ে আদালতে যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমে প্রসেনজিৎ বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। পরিবর্তিতে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তৃণমূলের ওপর আমার ভরসা রয়েছে। যতই আমাকে বহিষ্কার করা হোক, মা-মাটি-মানুষের দলেই থাকব।’

- Advertisement -

তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে সম্প্রতি নিউ জলপাইগুড়ি থানা এলাকার ইনল্যান্ড কন্টেনার ডিপোতে ভাঙচুর এবং কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, তৎকালীন এনজেপির আইএনটিটিইউসি ইউনিট সভাপতি প্রসেনজিৎ রায়ের নেতৃত্বে ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাস্থলে চলে সাত রাউন্ড গুলিও। মুখ্যমন্ত্রী শহরে থাকাকালীন তাঁর দলেরই নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠে। এবিষয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি স্থানীয় নেতাদের ডেকেও ধমক দেন। এদিকে, শিল্পমহল থেকেও ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া মেলে। এরপরেই ঘটনাস্থল থেকে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু সেই সময় এলাকা থেকে পালিয়ে যান প্রসেনজিৎ রায়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে খোদ পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের বিধানসভা কেন্দ্রে এই ঘটনায় দল অস্বস্তিতে পড়ে। পরিস্থিতি না বদলালে শিল্প গোটানোর হুমকি দেন ব্যবসায়ীরা। এরপরেই তড়িঘড়ি প্রসেনজিৎকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কার হতেই প্রসেনজিতের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। ময়দানে নামানো হয় সিআইডিকেও। অবশেষে গ্রেপ্তার হন প্রসেনজিৎ। সোমবার দুপুরে অসম সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সাত দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে নিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছোয় পুলিশ।