পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত টাস্ক দিচ্ছেন পিকে

176

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি শহর থেকে গ্রামাঞ্চল, শিলিগুড়ি সমতলে কোথাও তৃণমূল ক্ষমতায় নেই। তাই শিলিগুড়ির মতো খারাপ ছাত্রর জন্য চিন্তিত দলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর এখানকার নেতাদের ফাইনাল পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত টাস্ক দিচ্ছেন। প্রায়দিনই এখন পিকে (প্রশান্ত কিশোর)-র থেকে টাস্ক নিয়ে যেতে হচ্ছে দলের নেতাদের। আর সেই টাস্ক ঠিকমতো করা হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য পিকের টিমের সদস্যরা মাস্টারমশাইদের মতো গার্ড দিচ্ছেন। নেতারাও টাস্ক শেষ করে তাঁদের উত্তরপত্র পিকের টিমের কাছে দিচ্ছেন। সেই উত্তরপত্র আবার পাঠানো হচ্ছে কলকাতায় প্রশান্ত কিশোরের কাছে। তা যাচাই করে নেতাদের মার্কস দেওয়া হচ্ছে বলেও খবর।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এপ্রিলে এই রাজ্যে বিধানসভা ভোট। সেই ভোটের দিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির তালিকা তৈরি করে দিচ্ছেন প্রশান্ত কিশোর। রাজ্যের কোন ইস্যুকে তুলে ধরতে হবে বা কোন ইস্যু নিয়ে লাগাতার কর্মসূচি করে যেতে হবে, কোন কোন ইস্যু নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করতে হবে তার বেশিরভাগই গুছিয়ে দিচ্ছেন পিকের টিমের সদস্যরা। তবে শিলিগুড়ির জন্য এই টাস্ক থাকছে অন্য জেলার থেকে অনেকটাই বেশি। কারণ শিলিগুড়ি রাজ্যের একমাত্র জায়গা, যেখানে সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে পুরনিগম, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ কোনওকিছুই তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে নেই। বিধানসভার তিনটি আসনে বাম ও কংগ্রেস, মহকুমা পরিষদ ও পুরনিগমে বাম ও দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রটি বিজেপির দখলে। স্বাভাবিকভাবেই শূন্য হাতে থাকা শিলিগুড়িকে নিয়ে বাড়তি চিন্তা রয়েছে প্রশান্ত কিশোরের।তাই এখানে লাগাতার কর্মসূচির নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড সবাই করেছেন কি না তা নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে তৃণমূলের নেতাদের। যদি কেউ কার্ড না করে থাকেন তবে সেই নাগরিককে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড করতে সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রেশন কার্ড নিয়ে কারও কোনও সমস্যা থাকলে তা নেতাদের দায়িত্ব নিয়ে মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া যুবশ্রী, কন্যাশ্রীর সুযোগ মানুষ ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না তাও জানতে বলা হয়েছে। পিকের টিমের নির্দেশ, নেতাদের কাছে সাধারণ মানুষ নয়, নেতাদের যেতে হবে মানুষের দরজায়। যদিও এইসব প্রকল্প নিয়ে মানুষের কাছে গিয়ে ভালো সাড়া পাওয়া নয়, বিধানসভা ভোটের আগে জনসংযোগটাও ঝালিয়ে নেওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতারা।  শুধু তাই নয়, প্রশান্ত কিশোরের নির্দেশমতো রাজ্যের যে কোনও ইস্যুতে রাজ্যের অন্য জেলার পাশাপাশি এখানেও কর্মসূচি পালন করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে লাগাতার আন্দোলনে যেতে হবে। বিশেষ করে, শিলিগুড়িতে অশোক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বর্তমান শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর কাজকর্মের বিরুদ্ধেও সরব হতে হবে দলকে। তবে শিলিগুড়িতে অশোক ভট্টাচার্য যেহেতু একটা ফ্যাক্টর তাই খুব সাবধানে এই কেন্দ্রে পা ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলার মুখপাত্র বেদব্রত দত্ত বলেন, সব রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রশান্ত কিশোরের টিম ঠিক করে দেয় না। আগের মতোই দলের তরফে বেশ কিছু কর্মসূচি তৈরি হয়। তবে পিকের টিম কিছু বিশেষ কর্মসূচি দিয়ে থাকে।