নিজের রাজ্যে খোঁজ নেই প্রশান্ত কিশোরের

499

পাটনা : কথায় বলে, গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না। ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরের দশাও সেরকমই। একের পর এক রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দে রাজনীতির কারবারিদের বারবার ফিরে যেতে যিনি দিবারাত্র কৌশল তৈরি করছেন, সেই প্রশান্ত কিশোর বা পিকে-র টিকিটিও দেখা যাচ্ছে না বিহারের ভোটযুদ্ধে। বিহারের বাসিন্দা পিকে বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, আপের মতো একাধিক রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রচারের কৌশল ঠিক করে দিয়েছেন এবং দিচ্ছেনও। কিন্তু ২০১৫ সালে নীতীশ কুমারের জেডিইউ ও লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি এবং কংগ্রেসকে নিয়ে বিরোধী মহাজোট তৈরি করার পর বিহারের রাজনীতিতে কার্যত ছেয়ে গিয়েছিলেন পিকে। ভোটের পরই নীতীশের ডাকে সাড়া দিয়ে জেডিইউয়ে সরাসরি যোগ দিয়েছিলেন তিনি এবং পেয়েছিলেন দলের সহসভাপতির পদ।

কিন্তু দল থেকে বহিষ্কারের পর থেকে বিহারের রাজনীতিতে পিকে-র সেই জৌলুস উধাও বললেই চলে। এবারের ভোটেও তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। বিহারের ভোটযুদ্ধ থেকে পিকে এই দূরে থাকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতুহল জমেছে রাজ্য রাজনীতিতে। অনেকেই বলাবলি করছেন, ঢেঁকি যেমন স্বর্গে গিয়ে ধান ভাঙে, তেমনই পিকেও বহাল তবিয়তে বিহারের রাজনীতির ভাগ্যচক্র ঠিক করছেন। এলজেপি নেতা চিরাগ পাসোয়ানের উগ্র জেডিইউ-বিরোধিতার নেপথ্যেও পিকে-র হাত রয়েছে বলে বলে জানা যাচ্ছে। সদ্যপ্রয়াত রামবিলাস পাসোয়ানের ছেলেকে তিনি বুঝিয়েছেন, জেপি আন্দোলনের হাত ধরে যে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার রাজনীতি বিহারে শুরু হয়েছিল তা এখন কার্যত শেষের পথে। রামবিলাস প্রয়াত। লালু জেলবন্দি। একা নীতীশের পক্ষে ওই ধারা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব নয়। বিহারের জনতা নতুন বিকল্প চান। চিরাগ সেই চাহিদা মেটাতে পারেন।

- Advertisement -

একদা বাত বিহার কি নামে একটি কর্মসূচি শুরু করেছিলেন পিকে। কিন্তু তাতেও বিশেষ চিড়ে ভেঁজেনি। বরং বিহারের ভোটযুদ্ধে অদ্ভুতরকমের নীরবতা দেখাচ্ছেন ভোট কৌশলী। কিন্তু পাটনার রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নীরব থাকলেও পিকে-র কাছে বিহার সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রকাশ্যে তাঁকে দেখা না গেলেও সবার অলক্ষ্যে যে তিনি নীতীশ কুমারকে কুর্সিচ্যূত করার কাজ করছেন না সেটা পুরোপুরি হলফ করে বলতে পারছেন না কেউই। কারণ, চিরাগের পাশাপাশি আরএলএসপি নেতা উপেন্দ্র কুশওয়াহার সঙ্গেও ইদানীং দেখা যাচ্ছে তাঁকে। সবমিলিয়ে প্রথম দফার ভোটের আগে বিহার ও পিকে-র সমীকরণ নিয়ে জল্পনা বাড়ছে বই কমছে না।