প্রাক্তন বাম জনপ্রতিনিধিদের বাড়ি যাচ্ছে পিকের দল

734

কলকাতা : ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে স্বচ্ছ ইমেজের বাম নেতাদের তৃণমূল কংগ্রেসে শামিল করানোর কাজে তাঁর টিম আইপ্যাককে মাঠে নামিয়েছেন ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর। পিকে বুঝেছেন, দলের মুখ মমতা হলেও স্থানীয়স্তরে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মুখওয়ালা নেতার অভাব রয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণে পিকে মাঠে নামিয়েছেন আইপ্যাকের একঝাঁক উজ্জ্বল মেধার তরুণ-তরুণীকে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির বেশ কয়েকজন সিপিএম ও ফরওয়ার্ড ব্লক নেতার সঙ্গে ইতিমধ্যে তাঁরা দেখা করেছেন। ওই নেতাদের দাবি, আইপ্যাকের তরফে তাঁদের সুন্দর ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূলে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই আইপ্যাক সদস্যদের কারও বাড়ি উত্তরপ্রদেশ, কারও বিহার বা অন্ধ্রপ্রদেশে। হিন্দি ও ইংরেজিতে এঁরা নেতাদের সঙ্গে যোগায়োগ করে কথা বলেছেন। যোগাযোগ যে করা হচ্ছে তা অস্বীকার করেননি আইপ্যাকের সদস্যরা। তবে সরকারিভাবে এবিষয়ে তাঁরা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। অগাস্ট মাসের শুরু থেকেই এই যোগাযোগের কাজ শুরু হয়েছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তন অধ্যাপক দেবেশ দাস বাম জমানায় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ছিলেন। কলকাতার এন্টালি কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। তাঁর বক্তব্য, ৪ অগাস্ট একজন ফোন করে বিধায়ক থাকাকালীন এলাকার জন্য আমার কাজের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। ওঁরা বলেন, আইপ্যাক আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়। আমার কোনও আগ্রহ নেই বলেই ফোন কেটে দিই। প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত রায় ও মমতা রায়কেও আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট সাধা হয়েছে বলে খবর। মমতা রায়ের দাবি, ৯ অগাস্ট তাঁর বাড়িতে একজন এসে বিস্ময়প্রকাশ করে বলেন, কীভাবে এত ছোট বাড়িতে তিনি থাকেন। কেন তাঁর গাড়ি নেই। তৃণমূলের হয়ে কাজ করলে এসবই পাওয়া যাবে। মমতা তাঁকে সাফ বলে দেন, কমিউনিস্টদের কেনা যায় না। আপনি এখন আসতে পারেন। লক্ষ্মীকান্ত রায়ে দাবি, তিনিও বলে দিয়েছেন, কমিউনিস্টরা আদর্শচ্যুত হয় না। তিনি তাঁর অবস্থায় খুশি রয়েছেন। দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর কেন্দ্রের বর্তমান সিপিএম বিধায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাকে কলকাতায় প্রশান্ত কিশোরের অফিসে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল। আমি বলে দিয়েছি, আমার বয়স ৬৭। এই বয়সে কেউ মতাদর্শ বদলায় না। কৃষ্ণনগর উত্তরের প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক সুবিনয় ঘোষ একজন আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, হায়দরাবাদ থেকে একজন এসে আমার সঙ্গে কোর্ট চত্বরে দেখা করেছেন। আইপ্যাকের লোকেরা আমাকে বলেছেন, সমীক্ষায় ওঁরা আমার কথা জানতে পেরেছেন। প্রতিটি লোকসভা ও বিধানসভা আসনের জন্য আইপ্যাকের আলাদা দল গড়া হয়েছে। আমি তাঁদের বলে দিয়েছি, পুরসভার কাউন্সিলার ও বিধায়ক হিসেবে আমি মানুষের মধ্যে কাজ করেছি, এর থেকে বেশি কিছু চাই না।

- Advertisement -

সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি হইচই ফেলে দিয়েছেন ফরওয়ার্ড ব্লকের যুব নেতা আলি ইমরান রামজ। ২০১১ ও ২০১৬ সালে উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া বিধানসভা থেকে জিতেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, ১৭ জুলাই কলকাতায় বাইপাসের ধারে একটি হোটেলে তিনি যখন স্ত্রীকে নিয়ে নৈশভোজে গিয়েছিলেন, সেই সময় প্রশান্ত কিশোর তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রশান্ত কিশোরের তরফে অবশ্য এই সাক্ষাতের কথা অস্বীকার করা হয়নি। তবে পিকে আইপ্যাক কর্মীদের মাধ্যমে জানিয়েছেন, রামজ নিজেই বারবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাইছিলেন। রামজ নাকি বলেছিলেন, তাঁর স্ত্রী  পিকের ভক্ত। তাঁরা যে হোটেলে এসেছিলেন, পিকে সেই হোটেলেই ছিলেন। তাই সাক্ষাৎ হয়। পিকে তাঁদের চা-কফি খাওয়ান বলে জানিয়েছেন। তবে তাঁরা ডিনার করতে রাজি হননি। রামজ অবশ্য স্বীকার করেছেন, চায়ে দাম পিকে-ই দিয়েছেন। তবে বলেছেন, তাঁর স্ত্রী আদৌ পিকে সম্পর্কে কিছু জানেন না।