কৃষ্ণার আদর্শ ম্যাকগ্রাথ, অনুপ্রেরণা লি

অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : আচমকা জীবনটাই বদলে গিয়েছে। ইয়োন মরগ্যান, শোয়ের আখতার, মাইকেল ভন- ক্রিকেট কিংবদন্তিদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন প্রসিধ কৃষ্ণা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সফল আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর কর্ণাটকের পেসারকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু হয়ে গিয়েছে। সুনীল গাভাসকার তাঁকে টেস্ট দলে দেখতে চান, এমন মন্তব্যও করেছেন।

প্রসিধের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সময় তার জবাব দেবে। তার আগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ওয়ান ডে ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসন্ন আইপিএলে কেকআরকে ভরসা দিতে তিনি তৈরি। দীনেশ কার্তিকদের সঙ্গে অনুশীলন করছেন চুটিয়ে সঙ্গে কলেজ স্তর পর্যন্ত ক্রিকেট খেলা বাবা ও বাস্কেটবলার মা-র পরামর্শ থাকছে মাথায়। এমন মনোভাব নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের নয়া তারকা উত্তরবঙ্গ সংবাদকে সাক্ষাৎকার দিলেন। ঘোষণা করে দিলেন, আগামীর যাবতীয় চ্যালেঞ্জের জন্য তিনি তৈরি।

- Advertisement -

জীবনের বদল

হ্যাঁ, জীবনটা সত্যিই অনেক বদলে গিয়েছে। প্রচুর শুভেচ্ছাবার্তা পেয়েছি। সপ্তাহ তিনেক আগে ওয়ান ডে দলে সুযোগ পাওয়ার সময় ভাবিনি টিম ইন্ডিয়ার প্রথম একাদশে ঢুকে পড়ব। জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা আমার কাছে স্বপ্নপূরণ। শুরুটা ভালো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনও অনেক পথ চলার বাকি আমার। বিরাট ও রবিভাই যেভাবে আমায় ভরসা দিয়েছেন, কখনও ভুলব না।

আইপিএল থেকে আন্তর্জাতিক আঙিনা

বছর তিনেক আগে নেট বোলার হিসেবে কেকেআরে এসেছিলাম। সেখান থেকে দলে সুযোগ পাই। প্রথম একাদশেও সুযোগ আসে। এভাবেই শেষ তিন বছর খেলেছি কেকেআরে। যেখানে ডিকে থেকে শুরু করে মরগ্যান, সবাই আমরা ভরসা দিয়েছে। ফাস্ট বোলার হিসেবে অনেক পরিণত হয়েছি আমি কেকেআরে খেলেই।

প্রত্যাশার চাপ

ক্রিকেট শুরুর দিন থেকে এই চাপ শব্দটা শুনে আসছি। বিশ্বাস করুন, চাপ আমায় সমস্যায় ফেলে না। চাপ থেকে সমস্যা তৈরি হলে জনি বেয়ারস্টো-বেন স্টোকসদের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচে চার উইকেট নিতে পারতাম না। আসলে আইপিএল গ্রহে ঢুকে পড়ার পর কোনও ক্রিকেটারের মধ্যে বাড়তি চাপ থাকে বলে মনে হয় না। চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার স্কিলটা এমনিই রপ্ত হয়ে যায়।

কেরিয়ারে ম্যাকগ্রাথ-থমসন প্রভাব

ছোটোবেলা থেকে ব্রেট লি, শোয়েব আখতারের বোলিং দারুণ লাগত আমার। ক্রিকেট জীবনের শুরুতেও ওঁরাই ছিলেন আমার অনুপ্রেরণা। এখনও সুযোগ পেলেই ওঁদের বোলিংয়ের ভিডিও দেখি। পরে চেন্নাইয়ে এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে যোগ দেওয়ার পর গ্লেন ম্যাকগ্রাথ স্যরের সান্নিধ্য পাই আমি। আদর্শ লাইন লেংথ কেমন হওয়া উচিত, একজন পেসার বল হাতে রানআপ থেকে দৌড় শুরুর সময় মনোভাব কেমন থাকা দরকার, ওঁর থেকেই শিখেছি। আর জেফ থমসন স্যরের থেকে শিখেছি আগ্রাসন দিয়ে ব্যাটসম্যানকে চমকে দেওয়ার স্কিল। আমার কেরিয়ারে দুই কিংবদন্তিরই বিরাট প্রভাব রয়েছে। ম্যাকগ্রাথ-থমসন স্যর আমার আদর্শ।

বাটলারকে দেওয়া ইয়র্কার

কাটার, স্লোয়ারের পাশে ইয়র্কার করার দক্ষতা রয়েছে আমার। কিন্তু একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে আমি মনে করি, সাফল্যের সেরা অস্ত্র হল ধারাবাহিকতা। বল হাতে সব পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকতা দেখানোর ব্যাপারে এখন বেশি পরিশ্রম করতে শুরু করেছি।

আইপিএলের লক্ষ্য

কেকেআরের শেষ দুটো মরশুম ভালো যায়নি। দলকে সফল করার লক্ষ্য অবশ্যই রয়েছে আমার মধ্যে। এবার আমাদের বোলিং আক্রমণও ভালো। আশা করি, আমি প্যাট কামিন্স, শিভম মাভি, কমলেশ নাগারকোটিরা মিলে দলকে সফল করতে পারব।

রাসেলকে বল করতে হয় না বলে স্বস্তি

(হাসি) আইপিএলে না করতে হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনওদিন সুযোগ আসতেই পারে আন্দ্রের বিরুদ্ধে বল করার। এখন থেকেই তৈরি আছি সেই দিনের জন্য। আমি কিন্তু ওর দুর্বলতা জানি (ফের হাসি)। কেকেআর নেটে অনেকবার রাসেলকে আউট করেছি।