বিয়ের আগে ইয়ে, প্রি-হানিমুন নিয়ে সাবালক হচ্ছে বলিউড

222

নিউজ ব্যুরো : একটার পর একটা ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার পর জঞ্জির হিউজ সাকসেস এনে দিয়েছিল অমিতাভ বচ্চনকে। ছবি শুরুর আগে কোনও নায়িকাই কাজ করতে রাজি হচ্ছিলেন না লম্বা ঢ্যাঙা ফ্লপ নায়কের সঙ্গে। সেই কঠিন সময়ে অমিতাভের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন জয়া। জয়া তখন ভাদুড়ি। কয়েকটি বাংলা ছবির পাশাপাশি নিজেকে মেলে ধরেছিলেন হিন্দি ছবির জগতেও। বলা যায়, সাফল্যের নিরিখে সেই সময় তিনি বেশ কয়েক কদম এগিয়েছিলেন অমিতাভের থেকে। তবু জয়া রাজি হয়ে যান ৬ ফুট ২ ইঞ্চির নায়কের বিপরীতে অভিনয় করতে। কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা খুঁজে পাননি অমিতাভ। কাজ করতে করতে ভালোবেসে ফেলেছিলেন ছোটখাটো চেহারার লাজুক আটপৌরে বাঙালি মেয়েটিকে। তারপর? রিলিজ করল জঞ্জির। ঝড় তুলল বক্স অফিসে। সুপারস্টার রাজেশ খান্নার সাম্রাজ্যে জন্ম হল এক নতুন নায়কের। তিনি রোমান্টিক নন, রাগী। দর্শকদের ভাষায়, অ্যাংরি ইয়ং ম্যান।

ততদিনে প্রেম শুরু হয়ে গেছে অমিতাভ-জয়ার। ছবির সাফল্য সেলিব্রেট করতে হবে। অমিতাভ সিদ্ধান্ত নিলেন, জয়াকে নিয়ে উড়ে যাবেন লন্ডন। সেখানেই সেলিব্রেট করবেন জঞ্জির-এর সাফল্য। বাবা কবি হরিবংশ রাই বচ্চন ছেলের কাছে সব কথা শুনে বললেন, জয়াকে নিয়ে লন্ডন যেতে চাও? তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই। তবে তার আগে তোমাকে জয়ার সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়তে হবে। রক্ষণশীল বাবার নির্দেশ মেনে নিলেন অমিতাভ। জয়াকে বিয়ে করে হানিমুন এবং ছবির সাফল্য সেলিব্রেট করার জন্য উড়ে গেলেন লন্ডনে।

- Advertisement -

এই ঘটনা সাতের দশকের। বলিউডে প্রেম ভালোবাসা তখনও ছিল, এখনও আছে। তবে ধরন অনেকটাই বদলে গেছে। সেই সময়ে প্রেম ছিল রক্ষণশীল। কিছুটা পর্দার আড়ালে। এখনকার মতো এতটা খুল্লামখুল্লা ছিল না। বিয়ের আগে প্রেমিকা জয়াকে নিয়ে লন্ডনে সময় কাটাতে যেতে পারেননি অমিতাভ। তবে এখনকার তারকারা প্রেমিকাকে নিয়ে হামেশাই ছুটি কাটাতে উড়ে যাচ্ছেন বিদেশে। বরফ ঢাকা পাহাড়ের সামনে, অথবা সমুদ্র সৈকতে তোলা তাঁদের ভুরিভুরি খোলামেলা ছবি ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক মাধ্যমে। রণবীর কাপুর-আলিয়া ভাট, টাইগার শ্রফ-দিশা পাটানিরা ছবির কাজের বাইরেও বছরের বেশ কিছুটা সময় দেশে অথবা দেশের বাইরে একান্তে কাটান। এই তালিকায় উঠে আসতে পারে সুস্মিতা-রোহমান, অর্জুন কাপুর এবং মালাইকার নামও। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-নিক জোনাস, রণবীর সিং-দীপিকা পাডুকোন প্রমুখ একটা সময় হেঁটেছেন এই পথে। যদিও পিগির প্রেম আন্তর্জাতিক!

অথচ সাতের দশক তো দূর, নয়ের দশকেও বলিউড এই রকম ডেসপারেট ছিল না। বিয়ের আগে অজয় দেবগণ-কাজল ছবির কাজের বাইরে একসঙ্গে বিদেশে ছুটি কাটাতে গেছেন কিনা, জানা যায়নি। বিয়ে হয়নি সলমন খান এবং ঐশ্বর্যর। তবে তাঁদের আইকনিক ট্র‌্যাজিক লাভ স্টোরি আজও চর্চার বিষয়। তাঁরাও কি খুব একটা সাহসী হতে পেরেছিলেন? জানা নেই! বিয়ের আগে অভিষেকের সঙ্গেও সেইভাবে কোথাও যাননি রাইসুন্দরী। ছিল এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ।

কী বলা যায়, সাবালক হয়েছে বলিউড? কেউ কেউ বলবেন, সবসময় যে শুধুমাত্র দুজনেই ঘুরতে যান, তা তো নয়, কখনও কখনও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যান। এই তো কিছুদিন আগেই, রণবীর-আলিয়া রাজস্থান ঘুরে এলেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঠিক কথা। সুস্মিতা-রোহমানের সঙ্গেও ছিল পরিবার। তবে তেমন ঘটনা ঘটে খুব কমই। সামনে ১৪ ফেব্রুয়ারি। ভালোবাসার দিন। অর্থাৎ বসন্ত এসে গেছে। এই সময় দাঁড়িয়ে একটি কথা পরিষ্কার বলা যায়, সত্যিই সাবালক হচ্ছে বলিউড।এর পাশাপাশি তোলা যায় একটি সাংঘাতিক প্রশ্ন, তাহলে কি বিয়ের আগে ইয়ে মানে প্রি-হানিমুন! না, এই প্রশ্নের কোনও উত্তর হয় না। কারণ আনম্যারেড সেলেব কাপলদের বন্ধ দরজায় কে আর দুষ্টুমি করে কান পেতেছে!