কাজ হারিয়ে পেটের টানে, অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিক পায়ে হেঁটেই বাড়ির পথে

269

ফাঁসিদেওয়া, ১১ মেঃ লকডাউনে রোজগার বন্ধ। কাজের জায়গায় কাজ হারিয়ে এখন টান পড়েছে পেটে। খরচের টাকাও প্রায় শেষ। মেলেনি প্রশাসনের তরফে কোনও সহযোগিতা। এরপর বাধ্য হয়েই অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিকরা পায়ে হেঁটেই ঠাটা পড়া রোদে বিহারের সাবুডাঙ্গির একটি ইটভাটা থেকে রওনা হয়ে পড়েন। রাজ্যের কিছু জায়গায় শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর জন্য বাসের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। কিন্তু, বিহারের স্থানীয় প্রশাসন কিছুই করেননি বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন৷ এদিকে, যেখানে গর্ভবতী মহিলাদের বিশ্রামে থাকার কথা, তা না করে, হাঁটা পথে কয়েকশো কিলেমিটার কেউ ফিরছেন আসাম আবার কেউ যাচ্ছেন আসাম-বাংলা সীমান্ত লাগোয়া কোনও গ্রামে। এভাবে করোনা পরিস্থিতিতে অবহেলিত অন্তঃসত্ত্বারাও। এনিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। রবিবার ওই ইটভাটার প্রচুর শ্রমিক বিভিন্ন রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেককেই শেল্টার হোমে পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে মহিলাদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখার পাশপাশি কোচবিহার জেলার শ্রমিকদের দ্রুত বাড়ি ফেরানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিহারের বেশ কয়েকটি ইটভাটা থেকে শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লক হয়ে কয়েকশো শ্রমিক পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এদের মধ্যে একটি দল এদিন রাতে বিধাননগর এসে পৌঁছায়। সেই দলেই ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বক্সিরহাট থানার বারোকোদালি গ্রামের বাসিন্দা রেশমী খাতুন এবং ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ধুবড়ি জেলার বাসিন্দা গোলকগঞ্জ থানার পোকালাগি গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা খাতুন ছিলেন। রেশমী খাতুন এবং জাহানারা খাতুন জানিয়েছেন, তাঁরা ৭ মাস আগে কাজের জন্য বিহারে ইটভাটায় কাজ করতে গিয়েছিলেন। এরপর প্রায় ৫ মাস কাজ করেন। এরপর লকডাউন শুরু হতেই সেই ভাটায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকদিন ভাটার মালিক সহযোগিতা করলেও, আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই আসল সমস্যা শুরু হয়। মালিকের অসহযোগিতার কারণে ঠিকমত খাবার মিলছিল না। গাঁটের পয়সা খরচ করে প্রায় ২ মাস পেটের খিদে মিটলেও, টাকা পয়সা প্রায় শেষ। এরপরই প্রশাসনের কাছে সাহায্যের দরবার করেও, না মেলায় সকলে মিলে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তবে, ওই মহিলাদের গর্ভাবস্থা বাঁধ সাঁধলেও, পেটের টানে ওই অবস্থাতেই স্বামী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে তাঁরা রওনা দিয়েছিলেন।

- Advertisement -

এদিন রাতে দার্জিলিং জেলায় প্রবেশ করতেই পরিযায়ী শ্রমিকের ওই দলটিকে পুলিশ বিধাননগর কুরবান আলী হাই স্কুলে তৈরি করা শেল্টার হোমে প্রশাসনের রাখার বন্দোবস্ত করেন। এছাড়াও এদিন শিলিগুড়ি থেকে ঝাড়খন্ডগামী কয়েকজন শ্রমিককেও আটকে দেওয়া হয়। এদিন ওই শেল্টার হোমে প্রায় ৬৪ জনকে রাখা হল। অন্যদিকে, বিহার থেকে কোচবিহার এবং আসাম সহ বেশ কয়েকটি এলাকার প্রায় ২টি দল ফাঁসিদেওয়া এসে পৌঁছায়। এরপর ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে তাঁদের থার্মাল স্ক্রিনিং করানো হয়। ওই ২টি দল থেকে মোট ২ জনকে শিলিগুড়ির সারি হাসপাতাল এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বাকি শ্রমিকদের ফাঁসিদেওয়া হাই স্কুলে তৈরি করা শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। এদিন ফাঁসিদেওয়াতে প্রায় ৩০ জন শ্রমিককে শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর মিলেছে। অন্যদিকে, অন্তঃসত্ত্বা ওই ২ মহিলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করার আর্জি জানিয়েছেন।

কোচবিহার জেলার সকল শ্রমিকদের আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, সকল শ্রমিকদের নামের তালিকা জেলার ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হবে। অন্যদিকে, ফাঁসিদেওয়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অরুণাভ দাস জানিয়েছেন, অন্তঃসত্ত্বাদের খোঁজ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, মেডিকেল টিম পাঠিয়ে তাঁদের অভজার্ভেশন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের হাসপাতালে ভরতি করানো হতে পারে। এছাড়া, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।