বিতাড়িত অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ হাসপাতালের বারান্দায়

442

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি : শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে হাসপাতালের বারান্দায় অসহায়ভাবে বসেই দিন কাটছে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার। অশক্ত শরীরে পরের দয়ায় কোনোরকমে দিন কাটছে ওই মহিলার। পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব নাজিম খাতুন জানান, প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে হাসপাতাল চত্বরই তাঁর বাড়িঘর। তাঁর কথায়, কিছুদিন আগেও ছিল তাঁর স্বামী ও সংসার। গত মাসের ২৮ তারিখ তাঁর স্বামী কিছু না জানিয়ে তাঁকে ভাড়া বাড়িতে ফেলে পালিয়ে যায়। বাড়িতে মজুত খাবার শেষ হয়ে যায়। তাছাড়া ভাড়া বাকি থাকায় বাড়ির মালিক বাড়ি থেকে বের করে দেন। শেষমেশ নিরুপায় হয়ে হাসপাতালে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁকে।

হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে  দুটি পুঁটলি, জলের বোতল ও কিছু সামগ্রী নিয়ে নির্লিপ্ততভাবে বসে ওই মহিলা। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই বেরিয়ে এল তাঁর জীবনের কাহিনি। তাঁর বাপের বাড়ি জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। প্রায় এক বছর আগে হলদিবাড়ি ব্লকের উত্তর বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন শান্তিনগর জোরামপাড়া এলাকার বাসিন্দা মঙ্গলু মহম্মদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বাড়ির অমতে বিয়ে বলে স্বামীর বাড়ির সদস্যরা তাঁকে মেনে নেননি। শুরু থেকেই চলত তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। তা সহ্য করতে না পেরে স্বামীর হাত ধরে ভাড়াবাড়িতে উঠতে হয় তাঁকে। এখানেও বেশিদিন সুখ হয়নি তাঁর কপালে। শ্বশুরবাড়ির লোকদের প্ররোচনায় এখানেও তাঁর স্বামী শারীরিক, মানসিক অত্যাচার চালাত বলে অভিযোগ। আর এই প্ররোচনায় মদত দিত তাঁর শ্বশুর মহম্মদ মহারুল, স্বামীর বোনজামাই মহসিন মহম্মদ, ননদ শেফি খাতুন। নাজিম খাতুনের অভিযোগ, তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাঁর ওপর অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এরই মধ্যে গত ২৮ জুলাই তাঁকে কিছু না জানিয়ে তাঁর স্বামী মঙ্গলু মহম্মদ বাড়ি ফিরে যায়। আবার সেদিনই বাড়ির মালিক বাড়ি খালি করার নির্দেশ দেন। নিরুপায় হয়ে তিনি হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের রোগীর পরিজনদের বিশ্রামাগারে আশ্রয় নেন। এরপর গত বুধবার মরিয়া হয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে হাজির হন তিনি।

- Advertisement -

তাঁর অভিযোগ, তাঁকে দেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাঁর স্বামী সহ তাঁর শ্বশুর মহম্মদ মহারুল, স্বামীর ভগ্নীপতি মহসিন মহম্মদ, ননদ শেফি খাতুন তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। অভিযোগ, দ্বিতীয়বার সেখানে গেলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনার বিবরণ জানিয়ে হলদিবাড়ি থানায় স্বামী সহ পরিবারের অন্য সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। এদিকে, বর্তমানে তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই অবস্থায় তিনি কী করবেন বুঝতে পারছেন না। বাড়ির অমতে বিয়ে করায় বাপের বাড়িতেও যেতে পারছেন না। অভিযোগ প্রসঙ্গে হলদিবাড়ি থানার আইসি দেবাশিস বসু বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। এদিকে, অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।