ছট পুজো উপলক্ষ্যে নদীঘাটে প্রস্তুতি

211

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: সামনেই ছট পুজো। শুক্র ও শনিবার ছট পুজো উপলক্ষ্যে এখন চলছে নদী ঘাট পরিচ্ছন্ন করার কাজ। বুধবার দুপুরে বন্দর শ্মশানঘাট, কাঞ্চনপল্লী ঘাটে দেখা গেল পূর্ণ্যার্থীদের চরম ব্যস্ততা।

ঘাটে নিজ নিজ জায়গায় দড়ি দিয়ে চিহ্নিত করেন তাঁরা। অন্যবার কমপক্ষে সাত দিন আগে নদী দখলের কাজ শুরু হলেও এবছর ছট নিয়ে অনিশ্চয়তার জন্য কিছুটা দেরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তবে পুজোর দিন নদীঘাটে পুজো দিতে পূর্ণ্যার্থীদের প্রতিটি পরিবার থেকে কতজন আসতে পারবেন সেইবিষয়ে তাদের কিছুই জানা নেই। পুরসভার তরফে ইতিমধ্যে নদীঘাট লেবেলিং করা হয়েছে। পুজোর দিন মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী ক্যাম্প।

- Advertisement -

এদিন নদীঘাটে দেখা গেল প্রায় ১৫টি পরিবার ঘাট পরিচ্ছন্ন করছেন। মহিলাদেরও এদিন পুজোর জন্য নদীঘাট পরিচ্ছন্ন করতে দেখা যায়। এক পূর্ণ্যার্থী কৈলাস বাসফোর জানান, এদিন আমরা নদীঘাট পরিচ্ছন্ন করলাম। তবে পুজোর দিন ডালা নিয়ে যে আসবেন তাঁর সঙ্গে একজন আসতে পারবেন শুনেছি। কিন্ত এই বিষয়ে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি। ছট পূর্ণ্যার্থী বুবাই বর্মন বলেন, ‘এদিন আমরা ঘাট পরিষ্কার করলাম। পুজোর দিন শুনেছি যে পুজো দিবেন তাঁর সঙ্গে একজন আসতে পারবেন, কিন্ত আমাদের কিছু বলা হয়নি। জানা গিয়েছে, পুরসভার তরফে ইতিমধ্যে জায়গা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। ছট পুজোর দিন বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে শুনেছি, কিন্ত আমার পরিবারের সদস্যরা ওইদিন আসবেন।’

এদিন একদিকে নদীঘাট দখল, অন্যদিকে চলে প্রতিমা নিরঞ্জন। বিভিন্ন ক্লাব, বাড়ির তরফে এদিন নদীতে কালী প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর সময় প্রতিমা নিরঞ্জনের ওপর যে কঠোর বিধিনিষেধ ও নজরদারি দেখা গিয়েছিল কালী প্রতিমা নিরঞ্জনের ক্ষেত্রে তা বিন্দুমাত্র দেখা যায়নি। পুরসভার কোনও কর্মীকে নজরদারির জন্য নদীঘাটে দেখা যায়নি।

রায়গঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস জানান, কিছু অবিবেক মানুষ এমন কাজ করে যাচ্ছেন। কালীপুজো পাড়ায় পাড়ায়, গলিতে গলিতে হয়। সবসময় নদী পাহাড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। কালীপুজো পর প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য কোনও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়না। তবে আগামীকালের মধ্যে সব পরিষ্কার করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ছট পুজো প্রসঙ্গে তিনি জানান, অতিমারির সময় ছট পুজো হওয়ায়, প্রশাসন যৌথভাবে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছে। পাশাপাশি মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশাবলী সম্পর্কেও মানুষকে অবহিত করা হচ্ছে। সন্দীপবাবু জানান, ছট পুজোর দিন প্রতিটি ঘাটে চিকিৎসা কেন্দ্র, লাইটের ব্যবস্থা, পানীয় জল এবং মহিলাদের জন্য পোশাক পরিবর্তন করার ঘর থাকছে। সেইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হবে।